চাকরিহারা শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ মুর্শিদাবাদে

Social Share

সংবাদ প্রতিনিধি, বহরমপুরঃ একেই বলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নামা। শিক্ষকদের দুরবস্তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ফের রাস্তায় নেমেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। যা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেট দুনিয়ায়।

কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিসন বেঞ্চের রায়ে মূহুর্তে ‘অযোগ্য’ হয়ে পড়েছেন এ রাজ্যের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী। কিন্তু অভিযোগ মুর্শিদাবাদে চাকরিহারাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার নামে চাঁদা তুলছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। এই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি দিলীপ সিংহরায় বলেন, ” সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, এবিটিএ, বিজেপি আইনি সহায়তার নামে চাকরিহারাদের কাছ থেকে দু-হাজার টাকা করে তোলা তুলছে। আমরা বলছি কোথাও কোনও টাকা দেবেন না। আমাদের ওপর ভরসা রাখুন।”

যদিও এবিটিএর জেলা সম্পাদক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা বলেছি চাকরিহারাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করবে আমাদের সংগঠন। এক নয়াও নেওয়া হবে না ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের কাছ থেকে।”

আরও পড়ুনঃ অধীরকে ভরসা দিলেন ক্যাপ্টেন মীনাক্ষী

বাতিল হওয়া সব শিক্ষকই যে অযোগ্য তা মানতে নারাজ নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির নেতারা। তাই ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের চাকরি ফেরানো শুধু নয়, তাঁদের সম্মানের সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিও তুলেছেন তাঁরা। তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বুধবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার জানিয়েছেন সংগঠনের মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সম্পাদক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্মেলনে গৌতম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দুই রাজ্য সহ-সভাপতি সুজিত দাস ও সবুর আলি। জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য গন চন্দ্রচূড় অধিকারী, মুর্শিদা খাতুন,প্রতাপ চন্দ্র দে, শুভাশীষ ঘোষ, জয়দেব হালদাররা। এদিন গৌতম বলেন, ” যোগ্য শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরাও বাতিলের তালিকায় পড়েছেন। এই রায় মানছি না।” আর তাই যাতে যোগ্য শিক্ষকরা সম্মানের সঙ্গে পুনর্বহাল হতে পারে সেই কারণে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান এই শিক্ষক নেতা। একই সঙ্গে বাম শিক্ষক নেতারা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বিজেপি শিক্ষা সেলের জেলা আহবায়ক সুব্রত দাস বলেন, ” দু-কান কাটা বলে তৃণমূল এই ধরনের দাবি করছে। আমরা ‘যোগ্য’ শিক্ষক যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন হাইকোর্টের রায়ে তাঁদের প্রতি সহানুভুতিশীল। আমাদের দল থেকে আইনি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরাও তাঁদের পাশে দাঁড়াব দলীয় নির্দেশ মতো।” বিজেপি’র বহরমপুর লোকসভা আসনের প্রার্থী নির্মল কুমার সাহা বলেন, “আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত যোগ্যদের পাশে থাকব। তাঁদের কীভাবে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া যায় তার জন্য আইনি ব্যবস্থা করব। তবে আসল ওএমআর সিট পেতে হবে।”

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ও জেলার যুগ্ম কনভেনর মাহফুজুল আলম রাজ্য এসটিএ-র ও সহ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ” চাকরিহারা শিক্ষকদের এই দুরবস্তায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নামে যদি টাকা তোলা হয় তা কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থে তুলছেন তার দায় সংগঠনের নয়।” মাহফুজুল এসইউসিআইএর মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনের প্রার্থীও।

এদিকে অধীর চৌধুরীর মনোনয়ন জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীনাক্ষী বলেন, “অযোগ্যদের শাস্তি দিতে হবে।” ভোট মরশুমে আদালতের রায়কে উস্কে দিয়ে সিপিএমের যুব নেত্রী সাধারণ মানুষকে যোগ্যদের পাশাপাশি তাঁদের পাশে থাকারও ডাক দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights