জঙ্গিপুর পুরসভা প্রশাসকের, বোর্ড পাল্টাতে পারে জেলা পরিষদেরও

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিধায়ক জাকির হোসেন। এবার তাঁর সেই দাবিতেই সিলমোহর দিল সরকার। সরিয়ে দেওয়া হল পুরসভার পৌরপিতা মফিজুল ইসলাম ও উপ পৌর পিতা সন্তোষ চৌধুরীকে। এখন থেকে পুরসভা সামলাবেন মহকুমা শাসক।

রাস্তা থেকে পথবাতি, জল থেকে নির্মাণ সবেতেই দুর্নীতি। আর সেই দুর্নীতিতে যোগ রয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যানের। তা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার। বিধায়কের দাবিকে উড়িয়ে নিজের মতেই স্থির ছিলেন চেয়ারম্যান। এমনকি বিধায়ক-চেয়ারম্যানের বিবাদ এতদূর গড়িয়েছিল যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ডেকে তা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিধায়কের পক্ষে রায় দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরসভার দায়িত্বে প্রশাসক বসিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাকির বলেন, ” এই জয় আমার নয়। এটা ৮০ হাজার মানুষের জয়। সোমবার থেকে নতুন পুরসভা দেখতে পাবেন তাঁরা।”

জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার উপ পৌরপিতা পদে রদবদলের পর মুর্শিদাবাদের একমাত্র জঙ্গিপুর পুরসভায় এতোবড় বদল হল। সূত্রের দাবি, অপেক্ষায় আরও দু-টি পুরসভা। তাছাড়াও কোথাও কোথাও নির্বাচনের আগে পুরসভার উপ পৌরপিতা পদেও পরিবর্তন আনতে পারে তৃণমূল সরকার, দাবি সূত্রের।

তবে পুরসভা নয়, জঙ্গিপুর সংগঠনে জেলা পরিষদের সদস্যরাও ক্ষুব্ধ। আর তা চললে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের বোর্ডও নির্বাচনের আগে বদলে ফেলতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদের বর্ষীয়ান সদস্য তৃণমূলের শাহনাজ বেগম ‘চোর’ তকমা দিয়ে জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

এবার তৃণমূলের জঙ্গিপুর সংগঠনের জেলা সভাপতি খলিলুর রহমানকে পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছেন তাঁরই এলাকার ২৯ জনের মধ্যে ২৩ জন জেলা পরিষদ সদস্য। যার মধ্যে চার জন কর্মাধ্যক্ষও আছেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদের সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন।

সূত্রের দাবি, তাঁদের অভিযোগ সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানার অনুমতিতে জেলা পরিষদে তাঁর অনুগত দু-একজন কর্মাধ্যক্ষ সেখানে নিয়মিত ছবি পোস্ট করেন। যা মেনে নিতে পারেন না বাকিরা। তাঁদের দাবি “জেলা পরিষদ চলে ১ঃ২ঃ৩ অনুপাতে। জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বাকিদেরও যে গুরুত্ব আছে তা মানতে চান না সভাধিপতি ও তাঁর অনুগতরা।” হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ও অভিযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধরা। শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পেয়েই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি।

স্বাভাবিকভাবে পরিস্থিতি তৃণমূলের জেলা নেতাদের হাতের বাইরে চলে গেলে নির্বাচনের আগে জেলা পরিষদের বোর্ড ভেঙে যেতে পারে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। দাবি, সেক্ষেত্রে জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে ভোটে নামতে পারে তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights