ভোটের আগে বালি চাপা দিয়ে ফাটল আটকানোর চেষ্টা ববির

Social Share
বৈঠকে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত সভাধিপতি ও সদস্যরা

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ কনকনে ঠান্ডায় দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ পালন করতে বহরমপুরে এসেছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেনাপতির কাছে খবর ছিল চিড় চওড়া হচ্ছে। ভাঙন ঠেকানোর জন্য কী তার করণীয় বৈঠকে ঢোকার আগে বেশ কয়েকবার নিজস্ব সোর্সকে কাজে লাগিয়েও ফিরহাদ ঠিক করতে পারেননি। ধরে নিয়েছিলেন হয়তো নির্বাচনের আগে দলের মুখে চুনকালী ফেলে ভেঙে দিতেই হবে জেলা পরিষদ। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি সদস্যদের নিয়ে হওয়া পৌনে একঘন্টার বৈঠকে কার্যত মুখে কুলুপ আটকেই থাকলেন বিক্ষুব্ধরা। তাঁদেরই কেউ কেউ মন্ত্রীর গা-ঘেঁষেও থাকলেন। দু-চারটে কথা বলে যাঁরা সভাকে গুরুত্ব দিলেন তাঁদের অবশ্য আশ্বাস ছাড়া মেলেনি কিছুই।

বর্ষীয়ান সদস্য শাহানাজ বেগম কংগ্রেসে ফেরা ইস্তক জেলা পরিষদের দেওয়ালে গুঞ্জন ক্ষুব্ধরা অন্য নৌকায় ভিড়ে মধুর বদলা নেবে ২০২৬ এ। তাই ফিরহাদ বার কয়েক সতর্ক করে বলেও ফেলেন, ” মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের আসন কমলেও রাজ্যের ক্ষমতায় থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। বিজেপি বা কংগ্রেস কিছুই করতে পারবে না।” কিন্তু সদস্যরা মন্ত্রীর সামনে মুখ না খোলায় ফিরহাদ হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বলেই দাবি বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের কারও কারও। অথচ শাহানাজের তোলা প্রশ্নেই আবর্তিত হয়েছে এদিনের বৈঠক।

মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের শাসকদলের সদস্যদের একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা আর শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সফিউজ্জামান শেখ ওরফে হাবিবের ওপর। ক্ষোভ রয়েছে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ওপরেও। ফিরহাদ সভাধিপতিকে বুঝিয়ে বলেন, ” সকলের সম্মান দিয়ে জেলা পরিষদ চালাতে হবে। জেলা পরিষদ কখনও একজনের নয়, চেয়ারও স্থায়ী নয়। সবাইকে নিয়ে জেলার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।” তাঁর সঙ্গে ববি আলাদা করে কথাও বলেন বলে দাবি সূত্রের।

বৈঠকে কৃষি কর্মাধ্যক্ষ অবশ্য মন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন সভাধিপতির কাছের লোকজনের পরামর্শ ছাড়া তাঁর প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয় না। পূর্ত কমাধ্যক্ষ সে কথা ফিরহাদের সামনেই নাকচ করে দিয়ে বলেন, ” ও বড়ো বড়ো প্রকল্প নিয়ে আসে। একটা খাতেই সব টাকা চলে গেলে বাকি কাজ কী দিয়ে হবে ?” সেক্ষেত্রেও ফিরহাদের ভূমিকা ছিল একজন শিক্ষকের মতো। “বুঝে ও বুঝিয়ে চলতে হবে।” বলে তিনি তাঁদের মধ্যে হওয়া শীতল সম্পর্কে উষ্ণতা আনার চেষ্টা করেন।

তেমনি মুখ্যমন্ত্রীর সভায় জঙ্গীপুরের কর্মাধ্যক্ষদের একপ্রকার ঠেলে দিয়ে মঞ্চে সাধারণ শ্রোতা দর্শকের সামনে ভিড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ক্ষোভ জমে ছিল প্রাক শীতেই। এদিন সেই প্রশ্ন ওঠে ফিরহাদের বৈঠকে। অভিযোগকারীদের দাবি, “বড় জেলার দোহাই দিয়ে দোষ ঢাকার চেষ্টা করেছেন আয়োজক ডেভিড ওরফে অপূর্ব সরকার।”

আর এসব হচ্ছে শুনে ও বুঝে সদস্যদের একাংশ নির্বাচনে অংশ না নিতেও পারে বলে ধরে নেন ফিরহাদ। তিনি দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার ও খলিলুর রহমানকে পনেরো দিন অন্তর পরিষদে বৈঠক ডাকার কথা বলেছেন। সেখানে সভাধিপতিও উপস্থিত থাকবেন, থাকবেন মেন্টর, কো-মেন্টররাও। বৈঠক সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ দাবি করেন, ” জেলা পরিষদে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।” সে কথা শুনে এক সদস্য বলেন, ” শুনেন দাদা। আমরা ভাঙন আটকাতে বালির বস্তা ফেলি। এও তাই।” আর এক সদস্যকে সরাসরি ভাঙনের প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, ” ভেঙে যাবে কোথায়? এক টিমের বদলে তৃণমূলেরই আর এক টিম ক্ষমতায় বসতে চায় বলে এই দ্বন্দ।” আর এইসব শুনে শাহনাজ বেগম যিনি এখন সমাজমাধ্যমে নিয়মিত জেলা পরিষদের দুর্নীতি ফেসবুকে তুলে ধরছেন, তিনি বাঁকা হাসি হেসে বলেন, ” জেলা পরিষদের সদস্যদের সম্মান বেড়েছে শুনে খুশি হলাম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights