অধীরের সামনে ‘মস্তানি’র পরীক্ষায় ফেল করে গ্রেফতার ভীষ্মদেব

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বাংলার মসনদে জোড়াফুলের জায়গা নিয়েছে পদ্ম। বিজেপি নেতাদের কথামতো গুন্ডা দমনে সক্রিয় হয়েছে প্রতিটি থানার পুলিশ। বহরমপুরও তার ব্যতিক্রম নয়। বহরমপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পাপাই ঘোষের গাড়ির চালকের বাড়ি থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের পর শনিবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করল তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারকে। সেই গ্রেফতারিতে সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বহরমপুরের মিডিয়াতেও।

ভোটের প্রচার চলাকালীন দলবল নিয়ে অধীর চৌধুরীর পথ আটকে ছিলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই তরুণ। বহরমপুরের রাজনীতি চিরকাল ‘মস্তান’, ‘গুন্ডা’দের দ্বারা পরিচালিত হয় বলে দাবি করেছেন শহরের প্রবীণরা। তবে সেই রাস্তায় হাঁটতে গেলে টপকাতে হবে অধীরকে, এমনটাই মত তাঁদের। নচেৎ মস্তানিতে অকৃতকার্য অবধারিত। সিলেবাসের এই অধ্যায়ে এসে শহরের একাধিক তৃণমূল নেতা তাঁদের দোর্দন্ডপ্রতাপ জমানাতেও ফেল করেছেন। ভীষ্মদেব সেই ফলাফলকেও চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

কিন্তু রেজাল্ট বেরলে দেখা গেল তাঁর নাম রয়েছে অকৃতকার্যের তালিকায়। কারণ হিসেবে অভিজ্ঞরা দাবি করছেন, খাতা দেখার মাস্টারমশাই তো বদলে গিয়েছে। তাই আটকে গিয়েছেন ভীষ্ম। তবে পুলিশ সূত্রে এটাও জানা যায়, এবারের মতো আদালত থেকে তাঁকে আচরণ বদলানোর কড়া নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। অন্যথায় অপেক্ষায় অবধারিত সাজা। ভীষ্ম দাবি করেন, ” তৃণমূল করেছি, ছাত্র সংগঠন করেছি, তাই যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা হেনস্থা করছে।” এর আগে ভোটের দিন নওদায় হুমায়ুনকে চ্যালেঞ্জ নেওয়ায় পুলিশের হেফাজতে আছেন মুর্শিদাবাদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শফিউজ্জামান ওরফে হাবিব।

বহরমপুরের মানুষ তৃণমূলের একাধিক নেতার ‘অত্যাচার’ এ অতিষ্ঠ ছিলেন। গদি বদলে যাওয়ায় হালকা লাগছে বলে দাবি করেন এক পুরকর্মীও। অভিষেকের হাত মাথায় থাকায় দলেও ভীষ্মদেবের ক্ষমতা নিয়ে হিংসা ছিল শহরের অনেক সিনিয়র নেতাদের। তৃণমূলের শহর নেতা পাপাই ঘোষের গাড়ির চালক অসীম সরকারের বাড়ি থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার পর পাপাইকে খুঁজছে পুলিশ। বিজেপি’র দাবি সৈদাবাদ থেকে মনীন্দ্র নগর এলাকা পাপাই ঘোষের দৌরাত্মে ঘরে থাকতে ভয় পেতেন মানুষজন। বেআইনিভাবে কোথাও জলা বোজানো, কোথাও জমি দখলের রাজনীতি বহরমপুরে শুরু কংগ্রেস জমানাতেই। সেই পথে হেঁটে বহরমপুর শহরে তৃণমূলের নেতারা এলাকায় এলাকায় ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন বলেও দাবি তাঁদের। সেই ভয় এখন গিয়েছে। মানুষ ভরসা পাচ্ছেন নেতাদের গ্রেফতারিতে। এমনটাই দাবি করেন বিজেপি নেতা লাল্টু দাস।

ভীষ্মদেব ঘনিষ্ঠদের দাবি, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসায় অনেক তৃণমূল নেতাই পা বাড়িয়েছেন গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে। তাঁদের কেউ কেউ হয়ত পুলিশকে সাহায্য করতে দলের লোকেদের নাম দিয়ে, তাঁদের মানে আঘাত দিয়ে বিজেপি’র কাছে নাম্বার তুলতে এইসব কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights