গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে মুর্শিদাবাদে তিনটি আসনে প্রার্থী চুড়ান্ত করল না কংগ্রেস

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে বিশ বছর পরে বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইতে নামতে চেয়েছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।.আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজ্যের নিচু তলার কংগ্রেস কর্মীরা। কিন্তু বহু টালবাহানার পর রবিবার ভর সন্ধ্যায় যে তালিকা প্রকাশিত হল তা অসম্পূর্ণ। জট কাটেনি ১০টি আসনে। তার মধ্যে অধীর চৌধুরীর জেলাতেই তিনটি। অধীর চৌধুরীকে অবশ্য বহরমপুরের প্রার্থী ঘোষণা করে জল্পনায় মান্যতা দিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।

বামেদের সঙ্গে জোট ছিঁড়ে একলা চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর দাবিতে মান্যতা দিয়েছিল এআইসিসিও। শনিবার দিনভর দিল্লির নেতারা ব্যস্ত ছিলেন কাকে জুড়ে কাকে বাদ দেওয়া যায় সেই সিদ্ধান্ত নিতে। পরে ঘোষণা করলেন রবিবার সকালেই প্রকাশিত হবে ২৯৪টি আসনের প্রার্থীদের নাম। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা সকাল দশটা গড়িয়ে রাত দশটা ছোঁয়ার মাত্র আড়াই ঘন্টা আগে যে তালিকা কেসি বেণুগোপাল ধরিয়ে দিলেন কংগ্রেস কর্মীদের হাতে তা নিয়ে খুশির বদলে বিতর্কের ঝড় ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হল বলে মনে করছে দলের নিচুতলা।

মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনেই এবার প্রার্থী বেছে দিয়েছিল জেলা কংগ্রেস অধীরের পরামর্শে। কিন্তু তিনটি আসন বেলডাঙা, ফরাক্কা আর সাগরদিঘিতে দৌড়ে থাকা কংগ্রেস নেতাদের কারও নামেই চুড়ান্ত সিলমোহর দিতে পারলেন না অধীর চৌধুরী সহ দলের শীর্ষ নেতারা। বাধ্য হয়ে পিছু হটলেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতিও। কিন্তু কেন? বিভিন্ন সূত্রের দাবি বাইশটি আসনেই কংগ্রেসের মধ্যে কমপক্ষে দু-জন নেতা প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। অধীর চৌধুরীর হাতে জেলার ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে তাঁর নেতৃত্ব মানতে অপারগ একাংশ কংগ্রেস নেতা কর্মী। সেই মতো তাঁরা প্রদেশ নেতাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই অধীর চৌধুরীর ঠিক করা একাংশ প্রার্থী নির্ঝঞ্ঝাটে টিকিট পাওয়া আটকে যায়।

বেলডাঙায় বহু পরিচিত মুখ কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শেখ সফিউজ্জামানকে বাদ দিয়ে জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল্লাহিল কাফিকে টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছিল জেলা কংগ্রেস। কিন্তু সফিউজ্জামান ঘনিষ্ঠরা গোঁ ধরে থাকায় কাফির টিকিট চুড়ান্ত হয়নি বলেই দাবি সূত্রের। আবার ফরাক্কায় মাহাতাব শেখ ও আসিফ ইকবালের মধ্যে যে কোন একজনকে বাছতে গিয়ে নেতারা হাঁফিয়ে ওঠেন, আর সেক্ষেত্রেও ওই আসনে কংগ্রেসের হয়ে প্রকৃত লড়াই করবে কে তা ফয়সালা হয়নি আজও? একইভাবে জেলা কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীকে বহরমপুর থেকে সরিয়ে সাগরদিঘিতে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধীর। কিন্তু সেক্ষেত্রেও কংগ্রেস কর্মীরা স্থানীয় নেতা শিক্ষক হাসানুজ্জামান ওরফে বাপ্পাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন বলে দাবি সূত্রের। আর তাই নিয়ে বিবাদ এতদূর গড়িয়েছে যে ওই আসনেও প্রার্থীর নাম চুড়ান্ত করতে পারেনি এআইসিসির নেতারা। সূত্রের দাবি, বিতর্ক এড়িয়ে বিক্ষুব্ধদের মন রেখে কীভাবে অধীর মনোনীতদের প্রার্থী করা যায় ওই তিনটি আসনে সেই নিয়েই টানাপোড়েন অব্যহত দিল্লিতে। বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে বাপ্পা বলেন, ” অধীরদাকে দেখেই রাজনীতিতে আসা, তাঁকে অনুকরণ, অনুসরণ করেই আমার কংগ্রেস করা। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমি তাই মাথা পেতে নেব।” জেলা কংগ্রেসের অন্যতম সম্পাদক অসীম রায় অবশ্য বলেন, ” ওই তিনটি আসনে টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় আজ নাম ঘোষণা হয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights