ইসি’র নয়া নয়া ফরমান, এসআইআর চাপে নুব্জ এসডিও, বিডিওরা

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বিডিও অফিসের চেয়ার,টেবিল ছুড়ে, নথিপত্র ছিঁড়ে বুধবার কার্যত নজিরবিহিন তাণ্ডব চালিয়েছেন ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের অনুগামীরা। ওই ব্লকের এইআরওকে চেয়ার থেকে ফেলে দেয় দুষ্কৃতিরা। তাঁর বাম হাতে ভেঙে যায় বলে দাবি সূত্রের। আর পুরো ঘটনা ঘটেছে বিধায়কের উপস্থিতিতে। বিডিও বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে ফরাক্কা থানায়। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও এফআইআরে নাম নেই বিধায়কের। বিডিওর অভিযোগেও নাম নেই বিধায়কের। মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেনারেল) দীন নারায়ণ ঘোষ বলেন, ” পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করবে বলে আশা করছি।”

কেন হঠাৎ বিডিওর ওপর হামলা করলেন শাসক দলের বিধায়ক ? শুধু মুর্শিদাবাদ জেলা নয় রাজ্য জুড়ে বিএলও-রা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নাগাড়ে হয়রানির অভিযোগ তুলছেন। এমনিতেই লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে এমনিতেই বহু মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এমন সময় বুধবার নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো হয়েছে নয়া ফরমান। জানানো হয়েছে, খসরা ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম উঠেছে তাঁদের ডেটা নিয়ে ইআরও কিংবা এইআরও যদি নিশ্চিত থাকেন তাহলে সেখানে তাঁকে এই মর্মে একটি নোট দিতে হবে অথবা ওই ব্যক্তিকে শুনানিতে ডাকতে হবে। আর সেই কাজও করতে হবে বিএলও-দের।

কমিশনের এই ‘জুলুম বাজি’র বিরোধীতাই করছেন বিএলও-রা। ফরাক্কার বিডিও-র অফিসেও এদিন বিএলও-রা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দুশোর মতো বিএলও কাজ থেকে অব্যহতি চেয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বিডিও-কে। সেই সময় ঘটনাস্থলে দলবল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বিধায়ক। তারপরেই এই হুজ্জুতি চলে বলে দাবি সূত্রের। আর এই ঘটনার ভূল ব্যাখা করে বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমে দাবি করেন, ” রামের নামে কাগজ দেখানোর বালাই নেই, যত কাগজ আর কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে রহিমকে। এ কেমন বিচার?”

সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিকেরও হাত পা বাঁধা। তাঁর ইচ্ছে অনিচ্ছেতে কিছু হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত সফটওয়্যারের জন্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ছ’জন বা তার বেশি ব্যাক্তি যুক্ত আছেন তাহলেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওই ব্যক্তির নাম শুনানি তালিকায় উঠে আসছে। আর এই ঘটনাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন বিধায়ক। রাজনৈতিকভাবেই জুড়ে দিয়েছেন ধর্মীয় মেরুকরণ। দাবি ভিন জেলার প্রশাসনের এক আধিকারিকের।

ঠিক একইভাবে বাবা-মা ও সন্তানের বয়সের ফারাকও তৈরি হয়েছে সফটওয়ারে প্রদত্ত শর্তের ওপর নির্ভর করে। আর সেই সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের ওপর। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের দাবি, ” লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দৌলতে একজন আধিকারিক টানা তিনশো থেকে চারশো জনের শুনানি করছেন। সেটা কতটা কষ্টকর সেই অনুভূতিটুকুও নেই।” তারপরে নির্বাচন কমিশন সময় বেঁধে দিয়েছে পয়লা ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। বুধবারের পরে শুনানির জন্য আরও মানুষের ডাক আসবে। বোঝা চাপবে এসডিও বিডিওর কাঁধে। তার ওপর এই ধরনের হামলার মতো ঘটনায় মনের ওপর চাপ পড়ছে আধিকারিকদের। যা সামলাতে নাজেহাল একাংশ সিনিয়র আধিকারিক।

মুর্শিদাবাদ জেলার ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সংগঠনের সভাপতি অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেনারেল) দীন নারায়ণ ঘোষ। তিনি বলেন, ” আধিকারিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেওয়াই আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য। এখনও পর্যন্ত কোন ব্যক্তির ওপর আক্রোশ যদিও হয়নি। যা হয়েছে তা সিস্টেমের ওপর। তবে আমরা এই ধরনের ঘটনাকে হাল্কাভাবেও নিচ্ছি না। যেমন যেমন ধাপ অনুসরণ করে চলতে হয় সেই মতোই চলা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights