সংবাদ প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদঃ ছেলেদের তুলনায় ১৬ হাজারের বেশি মেয়েরা ২০২৪-এর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল। কিন্তু ফলাফল হল তার উল্টো। পাশের হারে মেয়েদের টপকে গেল ছেলেরা।
চলতি বছর মুর্শিদাবাদে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল ৭৯ হাজার ৪৮ জন পড়ুয়া। শেষতক পরীক্ষা দিয়েছিল ৭৭ হাজার ৭০ জন। তারমধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ৩৬৫ জন। আর ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৪৩৫ জন।
আরও পড়ুনঃ জেলায় প্রথম অনীক রাজ্যে সম্ভাব্য একাদশ
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অমর কুমার শীল বলেন, “শতাংশের নিরিখে ৮৬.৮২ শতাংশ ছাত্র ও ৭৪.২৭ শতাংশ ছাত্রী পাশ করেছে এ বছর।” মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২২ শতাংশ অকৃতকার্য হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে চিন্তা। শুধু মুর্শিদাবাদ নয় সারা বাংলাতেই
শিক্ষিকা মুর্শিদা খাতুন বলেন, “লকডাউনের অন্ধকার এখনও কাটেনি।” কোনও একটি বিশেষ কারণে যে মেয়েদের পাশের হার কমছে বলে মনে করেন না এই শিক্ষিকা। তিনি মনে করেন ” সমাজ, পরিবার কেউই এই দায় এড়াতে পারে না। আমি দেখেছি ছেলেবেলায় যাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাদের একটা অংশ সংসার সামলিয়ে পরীক্ষায় বসছে। কিন্তু পড়াটা না বুঝে বা পড়ায় মনোযোগ দিতে না পারায় তারা কৃতকার্য হতে পারছে না।”
আর একটা অংশ ধরেই নিচ্ছে পড়াশোনা করে কী হবে? বাবা-মা তো সেই বিয়েই দিয়ে দেবে। দাবি তাঁর। তিনি বলেন, “এসব কারণেও নবম শ্রেণি থেকে স্কুল ছুট বাড়ে। তারা হয়ত আসে কিন্তু পড়াশোনায় মন দেয় না। এর পাশাপাশি মোবাইলের নেশাও পড়াশোনা থেকে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে মন সরিয়ে নিয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে রেজাল্টে।”
মুর্শিদাবাদ শহরের এক অভিভাবক বসন্ত চক্রবর্তী বলছেন, ” পড়াশোনার মান কমে গিয়েছে। পড়াশোনা করে ভাল ফলাফল করা যে কৃতিত্বের সেই বোধটা হারাতে বসেছে এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। তাদের সবথেকে বড় সুবিধা দেখে লিখে পাশ করা। আর এর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”