প্রয়াত বিধায়কের পক্ষ-বিপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে ডোমকল সাজালো তৃণমূল

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের প্রয়াণের পর ডোমকলে তৃণমূলের ভরকেন্দ্র নড়ে গিয়েছিল। ব্লক,শহরের ক্ষমতা পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল প্রয়াত বিধায়কের বিরোধী পক্ষ। পাশের বিধানসভা রানিনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেনের সঙ্গে জাফিকুলের সম্পর্কও ভাল ছিল না। সৌমিকের লোকজনও সেখানে সক্রিয় হয়েছিল জাফিকুলের অবর্তমানে, দাবি তৃণমূলের ডোমকলের একটা অংশের। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল যে সব ব্লকের কমিটি তৈরি হলেও কার হাতে ক্ষমতা দেওয়া হবে সেই চিন্তায় ফাঁকা রাখা হয়েছিল ডোমকল ব্লক ও টাউনের কমিটি।

কিন্তু মাথা না থাকলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হয় দলকে। আর তা হচ্ছিলও। সোমবার এসআইআর নিয়ে দলীয় বিক্ষোভেও তেমন তেজ ছিল না। আর এমন হলে নির্বাচনে ফল ভুগতে হবে দলকে, এই চিন্তাতেই শেষমেশ কমিটি ঘোষণা করল তৃণমূল। এমনিতেই ডোমকল মহকুমার তিনটি বিধানসভায় কংগ্রেস, সিপিএমের মতো দলগুলি ফিরে আসার রাস্তা প্রশস্থ করেছে তৃণমূলের সাম্রাজ্যে। এই অবস্থায় কমিটি ঘোষণা না করে উপায়ও ছিল না তৃণমূলের রাজ্য নেতাদের।

কিন্তু বিধায়কহীন ডোমকলে সিদ্ধান্ত নিয়ে একক ক্ষমতায় কাউকে বসাতেই পারলেন না তাঁরা। এমনকি বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি অপূর্ব সরকারের ক্ষমতাও খাটেনি এক্ষেত্রে দাবি তৃণমূলের একাংশের। ডোমকল ব্লক ও শহরে তৈরি হল তিনজনের কোর কমিটি। জেলা পরিষদের পুরনো মুখ তজিমুদ্দিন খানের সঙ্গে বাসির মোল্লা ও সামসুজ্জোহা ওরফে বাবু বিশ্বাসকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ডোমকল ব্লকে। আর শহরে আবদুস সামাদ বিশ্বাস ও সামিম শেখকে কামরুজ্জামান মন্ডলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এঁদের একজন অপূর্ব গোষ্ঠী, একজন সৌমিক গোষ্ঠী, আর একজন প্রয়াত বিধায়ক ঘনিষ্ঠ। আর এই তিন মত নিয়েই ভোটের লড়াইয়ে নামবে শাসকদল। ফলাফল সেক্ষেত্রে বদলে যাবে না তো ? সৌমিক ঘনিষ্ঠ নেতা বলে পরিচিত জেলা পরিষদের সদস্য তজিমুদ্দিন অবশ্য বলছেন, ” তৃণমূল দল ভোটার নির্ভর দল। সেই সব ভোটার যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দেন প্রতিনিধিকে। আর এখানেও তার ব্যতিক্রম হবে না। নির্বাচনে আমাদের জয়ের ধারা অব্যহত থাকবে।”

তবে ডোমকল ব্লকে যুব, মহিলা ও শ্রমিক সংগঠনের ক্ষেত্রে একক ক্ষমতা পেয়েছেন যথাক্রমে সোহেল রানা বিশ্বাস, নাজেমা খাতুন,রুহুল আমিন মন্ডল। আর ওই তিন সংগঠনের শহরের দায়িত্ব পেয়েছেন মাজেদুল শেখ, সামসেদা বিবি, নুরাবুল হক। তৃণমূলের দাবি, বহরমপুর যুব সংগঠনের জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার তাঁর একদা ঘনিষ্ঠ প্রিয়জন সৌমিক হোসেনের ডেরায় পছন্দের লোককে বসিয়ে চাপ বাড়িয়েছেন রানিনগরের বিধায়ক ঘনিষ্ঠের ওপর। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনেও নিজের লোককে বসিয়ে অপূর্ব ওরফে ডেভিডের হাত শক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন ডোমকলের ভূমিপুত্র আইএনটিটিইউসি-র বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি নিলিমেশ বিশ্বাস। নিলিমেশ অবশ বলেন, ” শ্রমিক সংগঠনের দুই নেতাকেই শুভেচ্ছা। এরা তৃণমূল নিবেদিত প্রাণ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights