
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহ. সেলিম। নির্বাচনী যুদ্ধে মহ.সেলিমের জোট সঙ্গী হতে চলেছেন ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ? সেই খবর সম্প্রচারিত হতেই সমালোচনার ঝড় উঠল সমাজমাধ্যমে।
রাজ্যের একাধিক জেলায় সিপিএমের নিচুস্তরের কর্মীদের মধ্যেও উঠছে হাজার একটা শ্লেষ, প্রশ্নও। হুমায়ুনকে এগিয়ে রেখে কেউ বললেন, ” সিপিএমের দীননাথ”। সিপিএমের একাধিক কর্মী বলছেন, “এতদিনে বামপন্থা এই শেখালো?” বিরোধী দলের কেউ কেউ বলছেন ” সেলিমের ঝুলি থেকে বেড়াল বেড়িয়ে পড়েছে।”
কেউ বলছেন, “উচ্চাকাঙ্খী সেলিম সাহেব নীল আলোর নিচে নরম গদিওয়ালা গাড়িতে বসেননি এক যুগেরও বেশি সময়। সেই দিন ফিরিয়ে আনতে যার তার (হুমায়ুন?) হাত ধরছেন তিনি।” আরএসপি-র মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক ফেসবুকে লিখছেন ” ছাগলের সাথে ছাগলের সভা! ইন্টারেস্টিং।” মুচকি হাসছে কংগ্রেস। খোঁচা মারছে তৃণমূল।
২০২৫ এর ডিসেম্বরে রাজ্যের সীমা ছাড়িয়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচনার মুখ হয়ে উঠেছিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙার মাটিতে বাবরি মসজিদের ভিত পোঁতার ডাক দিয়ে সেদিন তিনি হয়ে উঠেছিল মুসলমান মসিহা। এই হুমায়ুন কবীর ২০২৪ এর নির্বাচনে “ওরা তিরিশ আমরা সত্তর”-এর মতো বিভেদমূলক বক্তব্য রেখে নির্বাচনী রণক্ষেত্রে ছত্রখান করে দিয়েছিলেন সিপিএমের মতো ধর্ম নিরপেক্ষ বলে দাবি করা রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের। সে দলে সেলিমও ছিলেন। তৃণমূলকে সরাতে সেই হুমায়ুনেরই হাত ধরতে ছুটে গেলেন সেলিম?
এই প্রশ্ন তুলে সিপিএমেরই কেউ কেউ বলছেন ‘মুসলমান’ জুজু দেখিয়ে অনিল বিশ্বাসের উত্তরসূরি সেলিম দলের মধ্যেই বিভেদের ট্যারা রেখা টেনেছেন। সেখানেও প্রমাদ গুণছেন যোগ্যরা। এমন কি সেলিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বামফ্রন্টেও। নিউটাউনের হোটেলে যাওয়ার আগে তিনি কি বামফ্রন্টে আলোচনা করেছেন? না কি বামফ্রন্টকেই ভ্যানিশ করে দিয়ে সিপিএমকে আগামী দিনে বুর্জোয়া দল হিসেবে সামনে আনতে চলেছেন সেলিম? এই প্রশ্নও উঠছে।
এদিন সেলিম-হুমায়ুন বৈঠককে ফেসবুকে ‘ছাগলে ছাগলে সভা’ বলে কটাক্ষ করেছেন আরএসপির জেলা সম্পাদক নওফেল মহাম্মদ সফিউল্লা ওরফে আলবার্ট। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদের বাস্তবতা আর বামপন্থার পাঠশালা এই দুটোর সঙ্গে যাদের দূরদূরান্তের সম্পর্ক নেই তারা যদি মুর্শিদাবাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে তাহলে সেটা হাস্যস্পদ হয়। এটাই মূল কথা। বামপন্থা আমাদের শিখিয়েছে সকল ধরনের মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবার শিক্ষা। তারজন্য যদি সংসদীয় রাজনীতিতে ফিরতে হাজার বছর অপেক্ষা করতে হয় তাও ভাল কিন্তু মৌলবাদের সঙ্গে আপস নয়।”
তৃণমূলের বহরমপুর সংগঠনের যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার বলেন, ” মানুষ কে হুমায়ুন, কে সেলিম বোঝে না। তাঁরা উন্নয়ন বোঝে। এবারের ভোট সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশুভ জোটের লড়াই। সেই জোটে অপদার্থ সিপিএম আছে, কংগ্রেস আছে আর দাঁড় কাকের মতো বিজেপি আছে। যারা শান্ত বাংলায় ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে অশান্তি পাকাতে চায়। তারা যতই মিটিং করুক, সিটিং করুক মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের ক্ষমতায় আনবে ছাব্বিশে।”
সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলার যুব নেতা সন্দীপন দাস অবশ্য বলছেন, ” হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট হওয়ার কথা বলেন নি সেলিম দা। আমরা শুধু জানি তৃণমূল বিজেপিকে হারাতে যারা বদ্ধপরিকর সে কোনও দল হতে পারে, ব্যক্তি হতে পারে, গোষ্ঠী হতে পারে। আর আমরা এটাও বলছি হুমায়ুন কবীর যদি তাঁর সাম্প্রদায়িক মানসিকতা না ছাড়তে পারেন তাহলে সেলিম দা-ই প্রস্তাব নাকচ করে দেবেন।”