
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে টিকিট দিল না তৃণমূল। তাঁর জেতা ওই আসনে এবার প্রার্থী হয়েছেন সমসেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। আমিরুলের জেতা আসনে দল আর এক ব্যবসায়ী নুর আলমকে প্রার্থী করেছে। উত্তর মুর্শিদাবাদের জয়ী সাত জন বিধায়কের মধ্যে পাঁচজনই টিকিট পেয়েছেন। মনিরুল সহ টিকিট পাননি একুশের দুই জয়ী বিধায়ক। মহম্মদ আলীকে টিকিট দেওয়া হয়নি।
আজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তাঁর বাসভবন থেকে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। মুর্শিদাবাদের বাইশটি বিধানসভা আসনেই কাদের প্রার্থী করা হচ্ছে তা নিয়ে নানান জল্পনা ছড়িয়েছিল জেলায়। তৃণমূল নেতাদের অনেকেই লালগোলা আসনের প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা কথা বললেও ফরাক্কার প্রার্থী বদলের কথা তেমন শোনা যায়নি নেতাদের মুখে। তবে মনিরুল বলছেন, ” বিডিও অফিসের ঝামেলাই কাল হল।”
নথি চেয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে বলে প্রতিবাদ করেন বিধায়ক। চলতি বছর জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ এসআইআরের শুনানি চলাকালীন বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। বিধায়ক বলেন, “রামকে ছেড়ে রহিমকে বেছে বেছে ডাকা হচ্ছে।” সেদিনই উত্তেজিত তৃণমূল ভাঙচুর চালায় বিডিও অফিসে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়। অভিযোগ ওঠে মারধর করা হয় সরকারি আধিকারিকদের। সেই ঘটনায় পুলিশ বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। আর সেই ঘটনা ভালভাবে নেয়নি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। তার জেরেই ফরাক্কায় এবার ভোটে লড়াই করবার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে করেন মনিরুল। যদিও তৃণমূল সূত্রের দাবি একাধিকবার দলের জন প্রতিনিধি থেকে নেতাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে উঠেছে। তার জন্যই দলের সঙ্গে দূরত্বও তৈরি হয়েছে বলে দাবি।
মঙ্গলবার বিকেলে ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়ে মনিরুল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ” আমি মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। তাই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আপনারা চাইলে আমি নির্দল হিসেবেই এই কেন্দ্র থেকে লড়াই করবো। ” তবে সূত্রের দাবি কংগ্রেস থেকে প্রার্থী হতে পারেন মনিরুল। এ ব্যাপারে মনিরুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ” অনেকেই ফোন করেছেন। সকলের ফোন ধরতেও পারিনি। আমার সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যোগাযোগও করা হয়নি। যোগাযোগ করা হলে ভেবে দেখবো।”