মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন বিধায়কের, আশায় বহরমপুরবাসী

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মুর্শিদাবাদের একমাত্র মেডিক্যাল কলেজ, অথচ সেখানে নেই একজনও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। কলেজের সূচনা লগ্ন থেকে আজও হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের ভরসা মেডিসিনের চিকিৎসক। চক্ষু বিভাগ আছে অথচ পরিষেবা নেই। ডায়ালিসিস হওয়ার কথা প্রতিদিন, শোনা যায় সেই মেশিনের অবস্থাও নাকি যাই যাই। সেই যন্ত্রেরও চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু প্রশাসনিক গাফিলতিতেই রোগী বঞ্চিত হয় সেই পরিষেবা থেকে। এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলে অন্য হাসপাতালে সেই রোগীকে রেফার করা রোগ ইদানিং কিছুটা কমেছে ঠিকই কিন্তু এখানে চিকিৎসা পরিষেবা এখনও প্রশ্নাতীত নয় মানুষের কাছে।

মেডিসিন বিভাগে গেলে দেখা যায় এক শয্যায় একাধিক রোগী, কারও নাকে নল তো কারও শরীরে লাগানো রয়েছে ক্যাথিটার। মরদেহ বের করবার জন্য নেই আলাদা পথ, রোগী ভর্তি হাসপাতালের ভেতর দিয়েই চলে আসে শববাহী ভ্যান রিক্সা। ডিইআইসি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যেখানে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের পরিষেবা দেওয়া হয় নিখরচায়, সেখানে দীর্ঘদিন যাবৎ নেই ফিজিওথেরাপিষ্ট, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। অথচ হাসপাতালের অলিন্দে অলিন্দে ঘোরে দালাল। হাসপাতালে কোনও বিশেষজ্ঞকে দেখানোর জন্য নাম লেখানোই হোক আর রক্তের জোগান সবেতেই রমরমা দালালদের।

বহির্বিভাগ থেকে জরুরী বিভাগ যেদিকে তাকানো যায় শুধু নেই নেই আর নেই। মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথা ২০১১ সালের আগে বামফ্রন্ট ঘোষণা করেছিল। কার্যকর হয়েছিল বাংলায় তৃণমূলের জমানা শুরুর বছর খানেক পর ২০১২ সালে। তারপর চোদ্দ বছর কেটে গিয়েছে। হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বছরে অন্তত পাঁচবার নানাভাবে বৈঠকে বসেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদরা। কিন্তু সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে এই মেডিক্যাল কলেজের পরিষেবা আজও দূর অস্ত মানুষের কাছে। তাঁর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অপর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্সদের কথা। নেই অভিজ্ঞ চিকিৎসক, হাসপাতাল ও কলেজে নেই স্থায়ী অধ্যক্ষ কিংবা হাসপাতাল সুপার। কোনও জনপ্রতিনিধি তহবিল নিয়ে এগিয়ে আসেননি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে। তারমধ্যেও কখনও কখনও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সেই পরিষেবা দিয়ে।

এমন অবস্থায় ফের পালাবদল হল রাজ্যে। রোগীদের ভয় উধাও করে ভরসা দিতে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চন। গত পাঁচ বছরও তিনি ছিলেন বিধায়ক। কিন্তু হাসপাতালের প্রশাসক, চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক এই প্রথম। এখন রাজ্যের ক্ষমতাতেও বিজেপি। সেই বৈঠকের প্রথম আলাপে বিধায়কের গলাতে ছিল চড়া সুর। অভিযোগও করেছেন চিকিৎসকদের কাছে। বলেছেন, “কেমোথেরাপি করতে এলে ফিরে যান রোগী, চোখের অস্ত্রপচারে তারিখের পর তারিখ বদলে যায়, অথচ অস্ত্রপচার হয় না।” মরণোত্তর দেহদানে কিংবা চক্ষুদানে হাসপাতালের অনীহার কথাও বিধায়ক শুনিয়েছেন কলেজের কনফারেন্স রুমে উপস্থিত প্রশাসক, চিকিৎসকদের। তাঁদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন বাম আমলও নয়, তৃণমূল আমলও নয়, রোগীর পরিষেবার অবহেলা কোনরকম প্রমাণ পেলে, কোনও ভিডিও কিংবা কোনরকম খবর তার যদি সত্যতা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না তাঁর সরকার।

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, ” বিধায়কের নির্দেশমতো স্বল্পমেয়াদি বিষয়গুলি দিন পনেরোর মধ্যে সমাধান করার। কিছু পরিষেবা মাসখানেকের মধ্যে চালু হয়ে যাবে।” হাসপাতালের চৌহদ্দিতে একশো শয্যার একটি বিভাগ চালু হওয়ার কথা ঘাসফুল আমল থেকে শোনা যাচ্ছে, যেখানে শিশুবিভাগ উঠে আসার কথা, এদিন তাও পরিদর্শন করেন বিধায়ক। তবে শুধু হাসপাতাল নয় কলেজের পঠন পাঠন নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন, অভিভাবকদের অনুরোধ, ” কলেজটাও ঘুরে দেখুন এমএলএ সাহেব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights