স্বর্ণময়ীতে পার্কিংয়ের সমস্যা, নাকাল মানুষজন

Social Share
স্বর্ণময়ী বাজার

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পাশেই স্বর্ণময়ীর আনাজ বাজার। সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত এখানে বেচাকেনা চলে। উপচে পড়ে ভিড়। আর সেই বাজারের একপাশে রেলিংয়ের ধারে দু-চাকা রেখে বাজার করেন মানুষজন। সেখানেই কেউ টাঙিয়ে দিয়েছে “নো পার্কিং বোর্ড।” আনাজের দামের থেকেও বহরমপুরবাসীর কপালে যা এখন চওড়া চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দিন কয়েক ধরে।

বহরমপুর শহরে পার্কিংয়ের সমস্যা নতুন নয়। বিশেষ করে স্বর্ণময়ী বাজারের একদিকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল অন্যদিকে বহরমপুর কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন। স্বাভাবিকভাবেই এই রাস্তা শহরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আর হাসপাতালের উল্টো দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে ঘন জনবসতি। টোটো, অটো থেকে দু-চাকা, চার চাকার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে এই রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে পুলিশের। বাজার করতে আসা মানুষজন বাজারে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা দখল করে বাইক রাখেন বাধ্য হয়ে।

শুধু বাজারের রেলিংয়ের পাশেই নয়, উল্টোদিকের দোকানের সামনেও দোকানির নিষেধ সত্বেও বাইক রেখে নিশ্চিন্তে বাইক রেখে বাজার করতে যান মানুষজন। ফলে চওড়া রাস্তা ছোট হয়ে আসে। ব্যস্ত সময়ে ভিড়ে আটকে পড়েন অফিস যাত্রী থেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা। এমনকি আটকে যায় মুমুর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সও। আর সেই সময় হাসপাতাল ও স্বর্ণময়ী বাজারের রাস্তার কোণে থাকা ডাস্টবিন থেকে নোংরা আবর্জনা নিতে আসা পুরসভার গাড়ি দাঁড়িয়ে গেলে তা হয়ে ওঠে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার শামিল।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় কম ছিল বাজারে। ওইদিন বাজার করতে এসে নিজের বাইক রাখতে গিয়ে নাকাল হলেন বহরমপুরের তমাল ঘোষাল, সুজয় মন্ডল, সঞ্জয় বিশ্বাসরা। পুলিশের নির্দেশে যে রেলিংয়ের ধারে বাইক রেখে অভ্যস্ত তাঁরা সেখানে বাইক রাখতে পারেননি এদিন। কর্তব্যরত পুলিশকে বাইক কোথায় রাখব জানতে চাইলে তাঁরা জানিয়ে দেন বাজারের পেছনে জায়গা আছে। সেই পার্কিং খুঁজে না পেয়ে একটু দূরে রাস্তার এক পাশে সার দিয়ে তিনজনেই বাইক রেখে বাজারে যান “ভগবান ভরসায়।” সুজয় বলেন, ” পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করে করে নোটিশ টাঙিয়ে পুলিশ কাজ সেরেছে। সাধারণ মানুষের কথা ভাবেনি।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) অনিমেষ রায় বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

এই বাজার ভাকুড়ি.১ নম্বর পঞ্চায়েতের মধ্যে পরে। মুর্শিদাবাদ জেলায় পরিষেবার নিরিখে এই পঞ্চায়েত এখন প্রথম স্থানে রয়েছে। আর সেই পঞ্চায়েতের অধীন জেলা পরিষদের সরকারি জমিতে বসা এই বাজার পরিচালনা করে অভ্যূদ্যয় সংঘ। এই জমিতেই প্রতি বছর ঘটা করে দুর্গা পুজো করে ওই ক্লাব। আর ওই বাজারেই তৈরি হয়েছে স্থায়ী মন্দির। সেই মন্দিরের একপাশে মাছ-মাংসের বাজার অন্যপাশে আনাজ বাজার। আর সেই বাজারের গা ঘেঁষে তৈরি হচ্ছে বহুতল। তার বালি পাথর পরে থাকে বাজারের মাটিতেই। স্বাভাবিকভাবে বাজারে এসে এমনিতেই সুস্থভাবে কেনাকাটি করতে পারেন না মানুষজন। বাজারের মধ্যে নেই কোনও শৌচাগার। বাজার নিয়মিত পরিস্কার করা হয় না বলেও অভিযোগ। তার ওপরে পার্কিংয়ের নয়া সমস্যায় একেবারে জেরবার ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই। আর এ ব্যাপারে “কাউকে কিছু বলারও নেই, কওয়ারও নেই” বলছেন তমাল।

অভ্যূদয় সংঘের পক্ষে কানাই মিশ্র বলেন, ” আপাতত অস্থায়ী একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে স্থায়ী কী ব্যবস্থা করা যায় তা নিয়ে আমরা আলোচনাও করছি।” বাজারে বসা প্রতি বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাজার উন্নয়নের জন্য ও দুর্গা মন্দির তৈরির জন্য দশ টাকা চাঁদা তোলা হয় নিত্যদিন। সেই টাকা দিয়ে বাজারের কী উন্নয়ন হয়? তার কোনও সদুত্তর মেলেনি ওই ক্লাব কর্তার কাছ থেকে।

ভাকুড়ি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডু বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ” এই বাজার কংগ্রেস পরিচালিত ক্লাব পরিচালনা করে। বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা তোলে ওরা। অথচ মানুষকে পরিষেবা দিতে পারছে না। ওই এলাকা পঞ্চায়েতের অধীন হলেও আমাদের পুরসভা থেকে মানুষের স্বার্থে ডাস্টবিন পরিস্কার করে দেওয়া হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করেছি। তিন মাসের মধ্যে কীভাবে এই অবস্থা থেকে মানুষজনকে সুরাহা দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করছি।” কংগ্রেস নেতা শিলাদিত্য হালদার বলেন, ” ক্লাব কর্তৃপক্ষ সবসময় পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি। কিন্তু তৃণমূলের গাত্রদাহ হচ্ছে কেন? তারমানে ওখান থেকেও তোলা তুলতে চাইছে তৃণমূল। সাধারণ মানুষ বাধা দিচ্ছে সেই জ্বলুনি থেকে কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights