মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের চারদিনের মাথায় মুর্শিদাবাদে রদবদল পুলিশে

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ নতুন বছরের শুরুতেই নবান্নে রাজ্য প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে পুলিশ সহ রাজ্যের একাধিক দফতরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, মন্ত্রীদের ঝাঁকুনি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন তিনি পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের সামনেই বলেছিলেন, ‘‘এক এক জনের এক এক রকম পুলিশপ্রীতি। অনেক সৎ পুলিশ অফিসার আছে, যারা খেটে খায়। তাদের দিকে তোমরা নজর দাও না। লবি চলে! লবি! এই লোকটা আমার বন্ধু, একে প্রোমোশন দিতে হবে। ওই লোকটা আমার পরিচিত, ওকে আগে নিয়ে আসতে হবে। কেন? কিসের জন্য? যে কাজের লোক হবে, তাকে দিতে হবে। কোনও লবি চলবে না। লবি একটাই— মানুষের।’’ সেই বৈঠকের পর সাতদিনও গেল না। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার একাধিক থানায় ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে রদবদল করা হল সোমবার।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় সে কথা জানানো হয়েছে। বারোজন সাব-ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে বদল আনা হয়েছে। একটি মহিলা থানা সহ মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় মোট ২৪টি থানা আছে। তারমধ্যে ছ’টি থানার ওসি বদল হয়েছে। রানিতলার থানার ওসি মহঃ খুরসেদ আলমকে সাগরপাড়ায় আর সাগরপাড়ার ওসি অরিজিৎ ঘোষকে রানিতলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, মাস ছ’য়েক আগে রানিতলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন খুরসেদ। সম্প্রতি সাগরপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে তিনজনের নিহত হওয়ার খবরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। সেই কারণেই এই রদবদল কি না তা অবশ্য জানা যায়নি।

ওসি ভরতপুর সুরজ সরকারকে ডোমকলে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় কান্দি থানার সাব-ইন্সপেক্টর শিবনাথ মন্ডলকে ওই পদে আনা হয়েছে। তবে দৌলতাবাদের দায়িত্বে থাকা সাব ইন্সপেক্টর দীপক হালদারকে জলঙ্গীর দায়িত্বে পাঠানো হলেও ওই থানার দায়িত্বে থাকা কৌশিক পালকে কান্দি থানায় পাঠানো হয়েছে। দৌলতাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উদয় ঘোষকে। যিনি মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়া ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। আবার ডোমকল থানায় কর্তব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ হালদারকে ভগবানগোলার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হলেও ওই থানার ওসি দেবাশিস ঘোষকে ডোমকল থানায় পাঠানো হয়েছে। বহরমপুর শহরের দায়িত্বে ফেরানো হয়েছে ওই থানারই মেজবাবু বিশ্বজিৎ ঘোষালকে। এরআগেও বহরমপুর শহরের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিৎ। বর্তমানে বহরমপুর শহরের দায়িত্বে থাকা সাব ইন্সপেক্টর ইন্দ্রনীল পালকে ওই পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সুরজ, কৌশিক, দীপক, দেবাশিসরা নিজের এক বছর দু-মাসের কাছাকাছি সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণত, বছর তিনেক এক থানার দায়িত্বে থাকাই দস্তুর। বদলি নিয়ে কোনও আধিকারিক কিছু অবশ্য বলেননি। লবির অভিযোগও মেলেনি। যদিও জেলা পুলিশের শীর্ষ মহল একে রুটিন বদলি বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights