
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সাতদিন আগে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃতদেহকে ঘিরে উত্তাল হয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। বিক্ষুব্ধদের দাবি ছিল, বাঙালি ও মুসলমান বলে ঝাড়খণ্ডে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সরকারের কাছে ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ীদের সুরক্ষার দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি সেদিন তাঁরা মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশের কাছে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের দাবি করেন। জনসভা করতে এসে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছিলেন “বন্ধু সরকার” এর কাছে ঘটনার পুর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ পরিবারের দাবি মেনে একটি তদন্তকারী দল পাঠায় ঝাড়খন্ডে। তারাই গতকাল জানিয়ে দিয়েছে আলাউদ্দিন আত্মহত্যা করেছে। তাঁকে কেউ মারে নি। তার শরীরের কোথাও মারের কোনও দাগ নেই। ময়না তদন্তের রিপোর্টেও আত্মহত্যারই ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনার পরেপরেই আলাউদ্দিনের বাড়ি গিয়েছিলেন বামফ্রন্ট সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। মারমুখী জনতার মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরি করে আলাউদ্দিনের বাড়ি গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। সেদিন তিনিও মৃত্যুর ময়না তদন্তের দাবি তুলেছিলেন।
এদিন বামফ্রন্টের মুর্শিদাবাদ জেলা আহ্বায়ক জামির মোল্লা বলেন, ” পুলিশের রিপোর্টে এটা এখন রহস্যজনক হয়ে গেল। ঝাড়খন্ডে ক্ষেত্রে যে রিপোর্ট এতো তাড়াতাড়ি চলে এলো, অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে এটা হচ্ছে না কেন? আসলে সেখানে বিজেপি সরকার চালাচ্ছে। তৃণমূল যে দলটার সঙ্গে ওপরে ওপরে কুস্তি দেখায় আর ভেতরে ভেতরে রয়েছে অটুট বন্ধুত্ব। তাই সেক্ষেত্রে চিঠিচাপাটিও হচ্ছে না, সরকার চাপও দিচ্ছে না। ফলে যা ঘটবার ঘটছে। মার খাচ্ছে পরিযায়ীরা। ”
আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হয়ে কারা উসকে দিল আলাউদ্দিনকে মেরে ফেলা হয়েছে? সেই উস্কানিতেই গত সপ্তাহে পরপর দু-দিন বেলডাঙা জুড়ে অশান্তি চলে।সেই অশান্তির ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের একাংশকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি-র নজরে রয়েছে বেলডাঙার ঘটনা। ইতিমধ্যে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়েছে। পুলিশের নজর রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। বেলডাঙার ঘটনা পরিকল্পনামাফিক বলেও দাবি ওঠে। সমাজমাধ্যমে চলে উস্কানিও। সেই কারণে সওকত আলি নামের এক যুবককেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রয়োজনমতো কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে পুলিশ সক্রিয় হয়েছে।