বিপ্লব মুখার্জী, কলকাতাঃ ৩৪ বছরের খরা কবে বাংলায় বামেরা কাটিয়ে উঠতে পারবে তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় নিজেদেরকে কতটা এগিয়ে নিয়ে গেলে সব দলকে এক ধাক্কায় পিছিয়ে দেওয়া যায় কয়েকশো মিটার তা প্রমাণ করল সিপিএম।
সিপিএম নেতা মানব মুখার্জীকে মনে আছে? এখনও বছর দুয়েক হয়নি তিনি প্রয়াত হয়েছেন। ২৯ নভেম্বর ২০২২-এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। বাংলায় তথ্য প্রযুক্তি সফর শুরু হয়েছিল তাঁরই হাত ধরে। একসময় বিরোধীরা অভিযোগ করত রাজ্যে কম্পিউটার আনার বিরোধিতা করেছিল বামেরা। সেই বাম শাসনকালেই তৈরি হয়েছিল সল্টলেক সেক্টর ফাইভ। আজ সেই সেক্টর ফাইভের অবস্থার খবর সম্ভবত রাজ্যবাসীর জানা কথা। অথচ একসময় রাজ্যে উইপ্রো, টিসিএস, কগনিজ্যান্ট,আইবিএম এসেছিল কর্মসংস্থানের সুরাহা করতে।
সেই বামেরা ক্ষমতায় নেই ১৩ বছর। বিধানসভাতেও শূন্য। কিন্তু বাম মেধার উর্বরতা এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। নয়া জমানায় বিজেপি’র আইটি সেল যথেষ্ট শক্তিশালী। বিজেপি’র ছোট বড় নেতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৃণমূলের নেতাদের প্রায় সকলেরই আছে সমাজমাধ্যমের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট। বামেদের মধ্যে সিপিএম এগিয়ে। এক্ষেত্রেও তাঁদের কাজের ধরণ ব্যক্তি নয় সমষ্টিতে। নাগারে বিভিন্ন ধরনের ওয়েব পেজ তৈরি করে সমাজের সবস্তরের মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বজায় রেখে চলেছে তারা। আছে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেল। এখন আর শুধু দলের মুখপাত্র গণশক্তির উপর নির্ভরশীল নয় তারা।
সেই সিপিএম বঙ্গে আমদানি করল AI anchor. যা ভাবতেই পারেনি অন্য কোনও দল। ইতিমধ্যে সেই anchor সমতা দোলের শুভেচ্ছা জানিয়েছে সমাজমাধ্যমে। বুধবার রাত ন’টায় তার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে চলেছে বলে সিপিএম সূত্রেই খবর। এই anchor যে আগামী দিনে সিপিএমের হয়ে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করবে তা বলাই বাহুল্য। আর তা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে বঙ্গ সমাজ।
ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ ২০২৩ এর মার্চ মাসে ভারতের প্রথম এআই অ্যাঙ্কর সানার আমদানি ঘটিয়েছিল।যা সাংবাদিকতার রাজ্যে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। তারপর থেকে, সানা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ইন্টারভিউ করেছে, প্রাইম-টাইমে একটি সেগমেন্ট অ্যাঙ্করিং করেছে। এরপর এসেছে লিজা। তবে রাজনীতির অলিন্দে বাংলায় সর্বপ্রথম AI anchorএর চালু করল সিপিএমই। এমনিতেই সংবাদ মাধ্যমে AI anchor এসে যাওয়ায় অনেকেই আশঙ্কিত কাজ হারানোর ভয়ে। একসময় কম্পিউটার চালু হলে কাজ হারানোর ভয় পেয়েছিলেন বাম শ্রমিকরা। এবার সেই দিকে নিজেরাই কী এগিয়ে দিল না প্রযুক্তিকে প্রশ্নটা ঝুলছেই।
(মতামত ব্যক্তিগত)
