জেলা পরিষদের গ্রুপ থেকে রিমুভড শাহনাজ বেগম

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সভা শেষের পরে ফাটল চওড়া হল মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের। জেলা পরিষদের সদস্য শাহনাজ বেগমকে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দেওয়া হল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। শাহনাজ জেলা পরিষদের সদস্য। যে রেজিনগরের বাসিন্দা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে সরগরম রাজ্য, সেই রেজিনগর থেকেই জিতেছেন তিনি। জানা গেল তাঁকে অফিসিয়াল ওই গ্রুপ থেকে রিমুভ করেছেন সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা স্বয়ং। কেন তাঁকে রিমুভ করা হল তাই নিয়ে ওই গ্রুপেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অন্য মহিলা সদস্যরা।

শাহনাজ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারি সভাধিপতি। প্রাক্তন কৃষি-সেচ-সমবায় কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানেত্রীও তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জেলায় আসছেন শুনে তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ‘খোলা চিঠি’ লিখেছিলেন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চে জায়গা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে জেলা পরিষদের ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাই কি তাঁকে গ্রুপ থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হল? কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা তাঁকে জানানো হয়নি দাবি করে শাহনাজ বলেন, “এটা সভাধিপতির ব্যক্তিগত গ্রুপ নয়। জনপ্রতিনিধিদের গ্রুপ। আমাকে গ্রুপ থেকে সরানোর আগে শো-কজ করতে হবে। সাধারণ সভায় তা পাস করাতে হবে। চাইলাম আর হয়ে গেলো তা হয় না। সেটা সভাধিপতি জানেন না?”

তিনি ওই ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছিলেন, ” আজকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় কিছু কর্মাধ্যক্ষ মঞ্চে, কিছু কর্মাধ্যক্ষ মঞ্চের নিচে বিশেষ করে মহিলা কর্মাধ্যক্ষগন। জেলা মহিলা সভানেত্রীও নিচে। ৫০ শতাংশ মহিলা ভোট। এই সরকারের মহিলা ভোট সব থেকে বড় শক্তি। যে কর্মাধ্যক্ষরা উপরে ছিলেন তাদের প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। তাদেরই সহকর্মী একদল নিচে। সভাধিপতির উচিত ছিল সমস্ত কর্মাধ্যক্ষকে উপরে বসতে না দিলে তারও নিচে নেমে এসে সহকর্মীর পাশে বসা। এই ধরনের দ্বি-চারিতা অনভিপ্রেত। এটাতো দলীয় সভা। সরকারি সভা হলে আধিকারিকদের বলা যেত।” গ্রুপে এটা লেখার পরেই তাঁকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করা হয় বলে জানান শাহনাজ। এ বিষয়ে জানতে সভাধিপতিকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। উত্তর দেননি ওয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও। জেলা পরিষদের কো-মেন্টর শাওনি সিংহ রায় বলেন, ” বিষয়টি আমি জানি না।”

মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখে ফেসবুকে তৃণমূল নেত্রী শাহনাজ জেলা পরিষদের কাজ কর্ম নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। যে জেলা পরিষদে তৃণমূলেরই সংখ্যাধিক্য। লিখেছিলেন, ” জেলা পরিষদের অনিয়ম- বেনিয়ম, কাজে অনগ্রসরতা, মিটিং না ডাকা এসব নিয়ে দল এবং প্রশাসনকে বহুবার বলেছি। আপনাকেও লিখিতভাবে বহুবার জানিয়েছি। হয়তো আপনার হাতে সেগুলো পৌঁছাইনি। আপনি জেলায় আসছেন। শুনলাম কয়েকদিন থাকবেন। তাই আপনাকে জানাতে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা ছাড়া আমার কাছে অন্য কোন উপায় ছিল না।” বিরোধীরা যে বিষয়ে সরব সেই এমসিইটি কলেজের অচলাবস্থা, বন্ধ আরএনটেগোর হাসপাতাল সহ একাধিক বিষয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলেরই এই জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি এটাও লিখেছিলেন, ” দলের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রত্যেক পদাধিকারী তার পদ বাঁচাতে মরিয়া। জেলার কথা ভাবার বা জেলার মানুষের কথা শোনার কেউ নেই।”

জেলা পরিষদের সিপিএম সদস্য ইমরান হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, ” এর আগেও জেলা পরিষদের বৈঠকে এগুলি নিয়ে সরব হয়েছিলেন শাহনাজ। তাঁকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে বলে জানালেও তিনি এখনও কোনও সদুত্তরও পান নি বলে জানি। তাই ফেসবুকে লিখে হয়ত মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।” ইমরান দাবি করেন, ” তিনি জেলা পরিষদে আমাদের মতো সরব ছিলেন শাসক দলের সদস্য হয়েও। তাই হয়তো কথাগুলো গায়ে লেগেছে বলে সভাধিপতি ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, ” জেলাশাসক বলার পরেও আমাদের ওই গ্রুপে যোগ করা হয়নি। জেলা পরিষদে চলছে একনায়কতন্ত্র। সরকারি দলেরই একাধিক সদস্য এই অনিয়মে বিরুদ্ধে সরব, কেউ প্রকাশ্যে কেউ আড়ালে।” সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই গ্রুপের সেটিংস চেঞ্জ করে অনলি অ্যাডমিন করে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights