
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বাংলা ভাষা আর বাঙালিকে হাতিয়ার করে ছাব্বিশের নির্বাচনে নামতে চাইছে তৃণমূল। সেই অস্ত্র ভোঁতা করতে মাঠে নেমেছে বিরোধী বিজেপিও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে কে কতো বড় বাঙালি তা প্রমাণ দিতে মাঠে নেমেছে দু-পক্ষই। একপক্ষ সংগঠনে দোষিদের দূর্বল করে বৃহত্তর বাঙালি সমাজকে বার্তা দিয়েছে। আর একদল রাজ্য জুড়ে রবীন্দ্রনাথের মুর্তির পাদদেশে তাঁরই লেখা গান গেয়ে, কবিতার লাইন তুলে বক্তব্য রেখে রবীন্দ্রনাথের কত কাছের তা প্রমাণ করতে পিছপা হয়নি।
কিন্তু এই দুটি দল ছাড়া সিপিএম, কংগ্রেসের মতো দল রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের নজর ঘোরাতে মরিয়া। আর ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে তৃণমূল আর বিজেপি’র বাইনারি ভেঙ্গে তারা হাতিয়ার করতে চাইছে কাজ হারানো শিক্ষকদের। কর্মহীন বেকারদের কথা সভা সমিতিতে তুলে ধরে কৌশলে মানুষের মন ছুঁতে চাইছে রাজ্যে ব্রাত্য দুটি রাজনৈতিক দল। সম্প্রতি বহরমপুর কালেক্টটরেট ক্লাব হলে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদর দক্ষিণ চক্রের ৪৭তম সম্মেলনের বার্ষিক চক্রে উঠে এল রাজ্যের সেই ভগ্ন শিক্ষারই কথা। নির্বাচনের আগে জনমত গঠনের লক্ষ্যে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করেন রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।
সেদিন শিক্ষক নেতারা দাবি করলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪-২০২৫ বর্ষে প্রথাগত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় সারা দেশে প্রায় এক কোটি দশ লক্ষ পড়ুয়া কমে গিয়েছে এবং প্রায় ৮৫ হাজার বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রকারান্তরে বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক কোটি এবং বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ হাজার। কেন্দ্রের বিজেপি আর রাজ্যের তৃণমূল সরকার সচেতন ভাবে পুঁজির চাপে দীর্ঘদিনের এই প্রথাগত সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে বেসরকারিকরণের দিকে হাঁটছে। শিক্ষকদের আগামীর রুটি রুজিতে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হতে চলেছে। তারই প্রতিবাদ করেছি বলে জানান সংগঠনের জেলা সহ সম্পাদক সুশোভন খান।
গত রবিবার যখন আদালতের রায়ে মুহূর্তে বাতিল হয়ে যাওয়া শিক্ষকরা ফের যোগ্যতা প্রমাণের দরুণ পরীক্ষা দিচ্ছেন মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তখন এবিপিটিএ-র শিক্ষক প্রতিনিধিরা আওয়াজ তুলে তাঁদের কাছে পাশে থাকবার বার্তা পাঠালেন অভয়া তামান্না মঞ্চ থেকে। শিক্ষকদের ডিএ বাড়ানো সহ একাধিক ‘ন্যয্য’ দাবিতে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহমুদাল হাসানকে সাক্ষী রেখে জেলা নেতারা সেদিন মুখরিত হন কালেক্টরেট হলে।
সু-সসজ্জিত ওই হলে সেদিন মোট ১৮৫ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ৩৩ জনের চক্র পরিষদ কমিটি গঠিত হয়। চক্রের সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তৌসিফুল ইসলাম তুহিন এবং সভাপতি অসীম মণ্ডল। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য নিখিলবঙ্গ মেধা অন্বেষণ অভীক্ষার আয়োজণ করে এবিপিটিএ। ২০২৪ সালে সদর দক্ষিণ চক্রের ৩৯টি বিদ্যালয়ের ৪৬৩ জন পরীক্ষার্থী এই অভীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। সম্মেলন মঞ্চেই ২০২৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫ জন প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া মোট ১৪ জন কে স্বান্ত্বনা পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। ওইদিন সংগঠনের আয়োজনে রক্তদান শিবিরে স্বেচ্ছায় যাঁরা রক্ত দিয়েছিলেন সংবর্ধিত করা হয়েছে তাঁদেরকেও