হুমায়ুন গর্জনে মুখ্যমন্ত্রীর ডাক শুনতে পাননি মুর্শিদাবাদের বিএলএ-রা

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ধানি জমিতে জনসভা ! কেউ কখনও দেখেছে? ডিসেম্বরের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়ায় ফাঁকা মাঠে জনসভা করা সম্ভব, দেখালো মুর্শিদাবাদ। সৌজন্যে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যাঁর আজকের সভাকে প্রায় তাচ্ছিলের স্বরে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ ব্রিগেডে করবার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল টেক্সটাইল মোড়ে সভা করতে চেয়ে প্রশাসনের কাছে আগেভাগে জায়গা দখল করে রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন হুমায়ুনই। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সোমবারে মেঠো পথ হিঁচড়েও মানুষ গেলেন হুমায়ুনের ডাকা সভায় যোগ দিতে। সেখানে কান পেতে থাকায় মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের বিএলএ-রা মুখ্যমন্ত্রীর ডাক শুনতেই পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে দলে।

বহরমপুরে পথসভা তৃণমূলের

তেমনি বহরমপুর টেক্সটাইলে জনসভা তো দূর শহরবাসী দেখলেন সংখ্যালঘু সংগঠনের ব্যানারে মুখ রাখতে পথসভায় এলেন গুটিকয়েক পুরকর্মী। এসআইআর-এর প্রতিবাদ জানাতে সেখানে তৃণমূলের ভারি মুখের কেউ ছিলেন না। সংখ্যালঘু সংগঠনের বহরমপুর জেলা সম্পাদক আবুল কাউসার বলেন, ” আমি নদিয়ায় আছি।” সন্ধ্যায় দৌলতাবাদে “উন্নয়নের পাঁচালি” শোনাতে অবশ্য হাজির ছিলেন নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। যাঁকে এদিন কাঠগড়ায় তুলেছেন হুমায়ুন। দাবি করেছেন তাঁকে সাসপেন্ড করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুদ্ধিদাতাদের মধ্যে তিনিও একজন।


আরও পড়ুনঃ হুমায়ুন পুত্রের অবস্থান জানতে শীতের মুর্শিদাবাদ তাকিয়ে বসন্তের দিকে : সংবাদ হাজারদুয়ারি


হুমায়ুনের সুরেই সভায় আসা মানুষজন এদিন বলেছেন মুসলমানদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কিছুই করে নি। মুসলমানদের ব্যবহার করেছে সব শাসকদল। হুমায়ুন নিজে বলেছেন, ” মুসলমানের ভোটে জিতে মুসলমানকেই অবহেলা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।” এটাও বলেছেন, ” আমি কি এমন চেয়েছিলাম যা দেওয়া যেতো না।” তাঁর বিধানসভার দুই ব্লকের দুই সভাপতি যাঁরা তাঁকে ভরতপুরের রাস্তায় হাঁটতে দেন নি। তৃণমূলেরই উন্নয়নের প্রচার করতে দেন নি। তাঁদেরকে সরিয়ে হুমায়ুন কাছের লোকেদের বসাতে চেয়েছিলেন। “দিদি অনুমতি দেন নি।”

তৃণমূলের একটা অংশ বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই যাঁরা কথা বলেন সভা সমিতিতে, তাঁদের দাবি, ” এই JUP না আবার পারদ নামলে উল্টানো পার্টিতে পরিণত হয়, সে খেয়ালটাও রাখা উচিত।” তাঁরাই ধরিয়ে দিচ্ছেন প্রার্থী তালিকা দেখলেই বুঝবেন, ” জালি তৃণমূলীদের অধরা স্বপ্ন সফলের পথে নামিয়েছেন নয়া মুসলমান মসিহা ব্যক্তি স্বার্থে। তাঁদের কেউ পকসো কেসের আসামীর ঘরনী কেউ আবার তিন দিনের রাজনীতিক।”

তাঁরা দাবি করছেন, ” হুমায়ুন যে আসনে মুর্শিদাবাদের প্রার্থী দিয়েছেন তাঁরা একক ক্ষমতায় জনমত টানতে পারবেন না। সে মুর্শিদাবাদই হোক আর রানিনগর, একদিকে ভোট কেটে বিজেপি’র সুবিধা করবেন অন্যদিকে কংগ্রেসের সুবিধা করে দিয়ে নিজে রেজিনগর থেকে জিতে বিধানসভায় যাবেন। এই কৌশল মানুষ বুঝেছেন, তাঁরা উন্নয়নেরই সঙ্গী হবেন।” চড়া সুরে এটাও বলছেন, ” ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে চাষের জমিতে রেজিনগর, বেলডাঙা, নওদা, ভগবানগোলা, লালগোলা, কান্দি থেকে যাঁরা ভিড় করে এলেন হুমায়ুন কবীরের সভায় তাঁদের সঙ্গে রাজনীতির সুদূরের সম্পর্ক বলেই মনে হয়েছে।” অবশ্য স্বীকার করেছেন “কিন্তু আবেগ হুমায়ুনের মতোই।” বিএলএ বিভ্রাট নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেন নি তাঁরা।

দলীয় বাধ্যবাধকতায় সামনে মুখে কুলুপ আঁটলেও অন্দরে তৃণমূলের বহরমপুর সংগঠনের নেতৃত্বের উপর বেজায় চটে তৃণমূলের আর একটা অংশ। যাঁরা হুমায়ুনের ডাকে বাঁধ ভাঙা মানুষের ভিড় দেখে আত্মজিজ্ঞাসায় সন্ধ্যা কাটালেন। কেউ কেউ লিখে দিন নাম, বলেও পরে আবার পিছু হটে বললেন, ” আসলে আমাদের ওই ক্ষমতাটাই নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্তে ঘুরপাক খাই। দু-পয়সার সুবিধা নিতে গিয়ে দশ পয়সা খুইয়ে ফেলি। হুমায়ুন সে দলে পরে না।”

দীর্ঘ প্রায় দশ বছর তৃণমূলের সঙ্গে ঘর করে ফের পুরনো ঘরে ফিরেছেন শাহনাজ বেগম। প্রবীণ এই রাজনীতিক বলছেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষ কী এমন পাগল যে ধর্মীয় আবেগ আর রাজনীতি গুলিয়ে ফেলবেন? মানুষকে সময় দিন সময় এলে সবাই বুঝতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights