ধুলো ময়লা ধুয়ে যেতে পারে জলে, ভিত ভাঙতে বুল ডোজার লাগে

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ ডাক দিয়েছেন অধীর চৌধুরী, আর সেই ডাকে মুর্শিদাবাদ সাড়া দেবে না এমন ঘটনা বাংলার পরিবর্তনের সরকারের আমলে খুব একটা নজরে পড়েনি। অথচ নেতারা হাত ছেড়ে ঘাসফুলে ভিড়েছেন যে যার মতো। দাবি করেছেন কংগ্রেস মুছে গিয়েছে, ধুয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে সাধারণ মানুষ কিন্তু এসে বুঝিয়ে দিলেন ধুলো ময়লা ধুয়ে যেতে পারে জলে, ভিত ভাঙতে বুল ডোজার লাগে। সেই যন্ত্র এখনও রাজ্যের শাসকদলে আমদানি হয়নি, তাই জেলার প্রতি অঞ্চলে লেখা কংগ্রেস কথা। নেতা জানে না কো, কিন্তু ‘পথের প্রতি ধুলি কণা জানে।’
সম্প্রীতির জেলা মুর্শিদাবাদের গায়ে লেগেছে বিভেদের দাগ। এ বলে মসজিদ হবে, ও বলে মন্দির । কেউ বলে না শিল্প হবে, হাসপাতাল হবে, স্কুল কলেজ হবে। ভিন রাজ্যের কাজের জোগানদার হয়েই থেকে যেতে হবে পরিযায়ীর জেলা নামে ইদানিং পরিচিত মুর্শিদাবাদকে? এই প্রশ্ন তোলে না কেউ। অধীর মানুষকে সেই দিকে তাকাতে বলেছেন। অধীর নাগাড়ে বলে চলেছেন, এসআইআরের নামে কারচুপি চালাচ্ছে বিজেপি নিয়ন্ত্রানাধীন নির্বাচন কমিশন। তাকে আবাডালে সাহায্য করছে তৃণমূল। “মানুষ তুমি সতর্ক থাকো, তুমি ন্যায্য ভোটার, তোমার নাম বাদ দেওয়ার সাহস দেখাবে না কেউ।” বিপদ এলে বিশ্বাসের হাত দরকার, অধীর সেই হাত বাড়িয়ে বলেছেন, ” আমি ভোটে জিতি আর না জিতি, আমি তোমাদেরই লোক।”

বিহারের ভোটের আগে তথ্য তুলে ধরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন ২৫ লক্ষ ভোট চুরি হয়েছে হরিয়ানায়। ব্রাজিলের একজন মডেল ২২ বার ভোট দিয়েছেন ১০টি বুথে। ভোটার তালিকায় কারচুপির সেই কথা রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে আনার পরে হুলুস্থুল পরে গিয়েছিল দেশজুড়ে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়ে সেই দাবি ভুয়ো বলে দাবি করেছিলেন বাধ্য হয়ে। বিহার ভোট জিতে বিজেপি দাবি তুলছে কংগ্রেস ব্রাত্য এই দেশে। রাহুল গান্ধীর দাবিকে মানুষ গ্রাহ্যের মধ্যেই আনেনি। একইসুরে এ রাজ্যে কংগ্রেস শুধুমাত্র ব্যানারে টিকে আছে বলে প্রতি পলে দাবি করেন তৃণমূল ও বিজেপি নেতারা।
রাজ্যে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ চলার ফাঁকেই ফিরেছে সেই প্রসঙ্গও। ছাব্বিশের নির্বাচনের মুখে বাংলায় অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে এসআইআর। সঙ্গে রাজ্য জুড়ে চলছে দুর্নীতি। অধীর চৌধুরী তারই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এক সভার ডাক দিয়েছিলেন। বিহার ভোট জিতে বহরমপুর সংগঠনের বিজেপি নেতা মলয় মহাজন অধীর চৌধুরীর নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও সেই দাবির পাল্টা দাবি করে গা ঘামাননি মুর্শিদাবাদের কোনও কংগ্রেস নেতা।
বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ের সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে অধীর যখন বক্তব্য রাখছেন তখন তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের নয়া প্রজন্ম। শিলাদিত্য হালদারও ছিলেন সেই সারিতে। সামনে থেকে যতদূর চোখ যায় মানুষের মাথা ছাড়া কিছু ছিল না। মঞ্চের ডান দিকে বাম দিকেও মানুষ ঠাঁই দাঁড়িয়ে থেকে শুনতে এসেছিলেন ” অধীর এসআইআর নিয়ে কী বলেন?” অধীর চৌধুরী। বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর ডাকে এদিন আক্ষরিক অর্থেই জন জোয়ারে ভাসল শহর বহরমপুর।
রাজ্যে কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারদের সঙ্গে অধীরের দূরত্ব টের পায় শামুকেও। এদিনও মঞ্চ জুড়ে ছিলেন অধীর বাহিনী। কিন্তু সাংবিধানিক ও দলীয় পদ ছাড়াও অধীর চৌধুরীর গর্জন এখনও মুর্শিদাবাদে যে প্রাসঙ্গিক তার সাক্ষী থাকল এদিন বহরমপুর। হাতে আর চার থেকে পাঁচ মাস। তারপরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বড় ভূমিকা নেবে এসআইআর। যা নিয়ে ভীত মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী বহু গ্রামের মানুষ। অজানা আতঙ্কে দিনরাত এক হয়েছে বহু মানুষের। সর্বত্র তার প্রচার চলছে। ডিজিটাল মিডিয়ার হাত ধরে এদিনের সভা থেকে অধীর চৌধুরী মানুষকে দেওয়া বরাভয় পৌঁছে গিয়েছে জেলার প্রতি ঘরে ঘরে। তিনি এটাও বলেছেন, ” আপনারা ঘাবড়াবেন না। মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের দোয়া আশীর্বাদ নিয়ে কংগ্রেস যেমন ছিল তেমন আছে, আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।” সভা ফিরতি মানুষ বাড়ির পথে যেতে যেতে সেই কথা প্রশ্ন চিহ্নে রেখে অবশ্য বললেন, ” ভোটের বাক্স পর্যন্ত পৌঁছতে পারলে না হয় হিলিয়ে দেওয়া যাবে, কিন্তু…