উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের দায়িত্বে শিথিলতা বরদাস্ত নয় জানালেন ডিআই

Social Share
প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ দেশের মধ্যে প্রথম বাংলায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে সিমেস্টার পদ্ধতিতে। একইভাবে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও চলতি বছর থেকে সিমেস্টার পদ্ধতিতে হচ্ছে। কিন্তু সেই পরীক্ষায় অভ্যস্থ হতে গিয়ে গোল বাঁধছে পড়ুয়াদেরই শুধু নয়, শিক্ষকদেরও। নতুন বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে হবে দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার জন্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। তারই এক প্রস্তুতি বৈঠক হয়ে গেল সোমবার বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে। সেখানে উঠে এল তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষায় একাংশ শিক্ষকদের গয়ংগচ্ছ মানসিকতার কথা।

মেন ভেন্যূ থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে তা পরীক্ষা কেন্দ্রে সময়ে পৌঁছনো নিয়ম। আগের সিমেস্টারের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের একাংশের ত্রুটি ছিল। যার জন্য সময়ে প্রশ্নপত্র হাতে পাননি পরীক্ষার্থীরা। এমন অভিযোগ সামনে এসেছিলে তখনই। সেই জন্য জেলার তিনটি বিদ্যালয়কে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে শো-কজ করাও হয়েছিল বলে জানা যায়। জঙ্গিপুর মহকুমার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ভেন্যু সুপারভাইজারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) জয়ন্ত হালদার জেলার উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের প্রতিনিধিদের সামনে এদিন বলেন, ” কয়েকজন ব্যক্তির জন্য আমাদের প্রশাসনের খুব অসুবিধা হয়েছে আগের পরীক্ষায়। সেই অসুবিধা আগামী পরীক্ষায় হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” যুগ্ম আহ্বায়ক সুদীপ কুমার সিনহাও সেই সুরে বলেন, ” কাউকে বরদাস্ত করা হবে না। নির্বিঘ্নে ও নির্ঝঞ্ঝাটে পরীক্ষা শেষ করার সুনাম নষ্ট করা চলবে না।” জেলা শিক্ষা আধিকারিক বলেন, ” এবার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পিঠোপিঠি। সেই পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আরও দায়িত্ববান হতে হবে।”

জেলার ৩৪৬টি পরীক্ষা কেন্দ্রে উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষা হবে বলে জানান পরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত বিদ্যালয় পরিদর্শক কাজল ভৌমিক। সেই পরীক্ষা দেবে জেলার ৫১ হাজার ৩৮ জন পরীক্ষার্থী। এদের পরীক্ষা হবে সকাল দশটা থেকে। গত বছর মুর্শিদাবাদে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারে ৯০.৮২ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছিল। অকৃতকার্যরাও ফের পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে। তাও একই দিনে বেলা একটা থেকে। তারসঙ্গে পরীক্ষা দেবে পুরনো উচ্চমাধ্যমিকের অকৃতকার্য্য পরীক্ষার্থীরাও। স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু সময়ে নিঁখুঁতভাবে সেই পরীক্ষা উতরোনো শিক্ষকদের কাছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ বলে দাবি করেন বৈঠক উপস্থিত শিক্ষকরা।

এদিনের বৈঠকে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাছাড়াও জেলা শিক্ষা আধিকারিক এষা ঘোষ, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শফিউজাম্মান শেখ জেলার শিক্ষা আধিকারিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights