
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ অবশেষে খাম মুক্তি হল বহরমপুর তৃণমূলের শ্রমিক, যুব ও মহিলা সংগঠনের জেলা কমিটি। শনিবার তৃণমূলের ওই তিন শাখার বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতিরা সাড়ম্বরে সেই তালিকা প্রকাশ করেন। যদিও সদস্যের ভারে তিনটি শাখা সংগঠনের জেলা কমিটিরই হাঁসফাঁস অবস্থা। সবথেকে বড় হয়েছে আইএনটিটিইউসি-র জেলা কমিটি।
তৃণমূল বা যে কোনও ডানপন্থী রাজনীতিতে শ্রমিক সংগঠন বরাবরই ব্রাত্য। একসময় লরির চালক, খালাসিরা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে শাসক কিংবা বিরোধী নিজেদের সুবিধামতো একটি রাজনৈতিক দল খুঁজে সেখানে নিজেকে ছায়ায় রেখে ‘নির্বিঘ্নে’ গাড়ি চালাতেন হাইওয়েতে। আর বরাবরের মতো বাস, ট্রেনের হকাররা থাকতেন শ্রমিক সংগঠনের সাথী হয়ে। তাঁদের মধ্যে থেকে কালেভদ্রে নেতা হতেন কেউ কেউ। দেখভাল করতেন নিজেদের সুযোগ-সুবিধার। রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে সেই ধরতক্তা মার পেরেক সংগঠনকে ভোটের আগে নজরে আনতে চেয়েছিল তৃণমূল।
আর তা করতে গিয়ে তৈরি হয়েছে বহরমপুরের ৮৩ জনের একটা ঢাউস জেলা কমিটি। যার মধ্যে আছেন শিক্ষকও। পাছে ভোট বাক্সে টান পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে সংগঠনে কাঠবেড়ালিকে জুড়ে নিতেও পিছপা হচ্ছেন না নেতারা। ফলে শ্রমিক সংগঠনে গুরুত্ব বেড়েছে স্বর্ণশিল্পী, টাওয়ার কর্মী থেকে দলিল লেখকদেরও। কেউ কেউ খোঁচা দিয়ে বলেন, ” শুনলাম জেলা কমিটিতে সবাইকে নেতা তৈরি করতে গিয়ে সেখানে সভাপতিরই না কি ঠাঁই হচ্ছিল না।”
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের সংগঠনে জুড়ে নিয়ে তাঁদেরকে ভোটের সেনা হিসেবে কাজে লাগাতে মরিয়া তৃণমূল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডোমকলের মিজানুল ইসলামের ওপর রয়েছে সেই ভার। তিনি দাবি করেন, ” ছেলেদের থেকে মেয়েদের পক্ষে সরকারি প্রকল্পের প্রচার করা সুবিধা। অন্যদের কথা বাদ দিলেও ডোমকল বিধানসভার সংগঠিত ৩৪ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করবে সরকারি প্রকল্প, আর সেই প্রচার তৃণমূলের পক্ষে যাবে।”
জেলা কমিটিতে বহরমপুর শহরে সদ্য জনপ্রিয় হওয়া অ্যাপভিত্তিক বাইক চালককেও নিলিমেশ বিশ্বাসরা সংগঠনের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন নিরাপত্তার বরাভয় দিয়ে। সংখ্যাটা প্রায় ১২৫ জন। বার্তা পৌঁছেছে শহরের প্রায় সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি র্যাপিডো পরিষেবা প্রদানকারীর কাছেও। নেতাদের বিশ্বাস তাঁরাও সংগঠনে নাম লেখাবেন নির্বাচনের আগেই।
দু-হাজার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ বলে এদিন দাবি করেন তৃণমূলের বহরমপুর শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি নিলিমেশ। তার কারণ হিসেবে দলের লাইন মেনে তিনি অবশ্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। কিন্তু আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুলের টিকিটে লড়তে নামার আগে বর্তমান বিধায়করাও টের পাচ্ছেন কোন্দলে দীর্ণ দলীয় পতাকায় লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া। গত প্রায় পনেরো বছর ধরে রাজ্যের শাসনে থাকলেও তাঁরা ভেবে পাচ্ছেন না এবার কোন্ সুরে বাঁধিবে নির্বাচন, কী মন্ত্র হবে সেখানে গাওয়া। এমন সংকটকালে কর্মী থেকে নেতা না হওয়ার মনস্কামনায় অনেকেই যদি বেসুরো হন ভোটের আগে তখন কী হবে? তাই কিছুটা বাধ্য হয়ে জাহাজ ভর্তি যাত্রী নিয়ে সাজাতে হয়েছে শ্রমিক সংগঠনের মতো ছোট্ট এক তরী, দাবি এক জেলা নেতার।