
সংবাদহাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্ক, বহরমপুরঃ তৃণমূলের বহরমপুর সংগঠনের ছাত্র ও যুব কার্যালয় মঙ্গলবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল বিধায়কের বুলডোজার। ওই কার্যালয়ই নির্বাচনের আগে হয়ে উঠেছিল তৃণমূল যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারের ওয়ার রুম। এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করেই গত পনেরটা বছর আবর্তিত হয়েছে মুর্শিদাবাদের ছাত্র রাজনীতি। সময়ের খেলায় সেই কার্যলয়ই আজ গুঁড়িয়ে দিল পুরসভার বুলডোজার। চোখের নিমেষে ছড়িয়ে গেল ইঁট, বালি, সুড়কি। ঘটনাচক্র ওই পুরসভারই কাউন্সিলর ভীষ্মদেব।
বহরমপুর, কাশিমবাজার স্টেশনে রেলের জমি জবর দখল করে গজিয়ে উঠেছিল অবৈধ দোকান। সেই দোকান চালাতেন খেটে খাওয়া মানুষজন। সরকারি জমি কাড়তে গিয়ে ওই মানুষগুলোর রুজিতেই টান মেরেছেন ‘সমাজকর্মী’ বিধায়ক। পরে তাঁদেরকেই মানবিকতার খাতিরে পুর্নবাসন দিয়েছেন তিনিই। কিন্তু সেই যে বুলডোজার চালিয়ে শহরের আনাচে কানাচে সরকারি জমি উদ্ধারে নেমেছেন, প্রতিদিন সকালে ফেসবুক খুললেই তা নজরে পড়ছে প্রবাসীদেরও।
সেই তালিকায় তৃণমূল নেতা বিপ্লবের জবর দখল করা জমি উদ্ধারের নিচেই থাকল আর এক তৃণমূল নেতা ভীষ্মদেবের নাম। তবে ভীষ্মদেব খাস জমিতে চালাতেন পার্টি অফিস, তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্য খাস জমি বেচে রোজগারের অভিযোগ এখনও ওঠেনি। খোঁজ চলছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা যায়। ভীষ্মদেব যেখানে দলীয় কার্যালয় তৈরি করেছিলেন সেখানে তার পূর্বসূরী রানিনগরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনও একসময় পা রেখেছিলেন দলের কাজকর্ম চালাতে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয়ের কাছে খলপার বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছিল সরকারি খাস জমি। ছেলেছোকড়াদের ঠেক হিসেবেই পরিচিত ছিল। পরিবর্তনের বাংলায় সেই খলপার দেওয়াল সরে গিয়ে কংক্রীটের দেওয়াল তৈরি হয়। আস্তে আস্তে সেখানে তৈরি হয় দু-কামরার ঘর। এক ছাত্র রাজনীতি থেকে যুব রাজনীতির কূটনীতি চালিয়ে এলাকার বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠেন ভীষ্মদেব। ওই এসি ঘর ছিল সিসি ক্যামেরায় নজরবন্দী। ওপর দলের শেষবেলায় মূল দলের জেলা কমিটিতেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন অপরিহার্য্য মুখ। ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ, যিনি আজ তৃণমূলেই ব্রাত্য।
এদিন ভীষ্মদেব তাঁর সেই সাধের ঘর ভাঙা প্রসঙ্গে বলেন, ” ওটা কোনও অবৈধ ইনকামের জায়গা ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে পরিষেবা দেওয়ার জায়গা ছিল। পথের কুকুরদের খাওয়ানো যেমন হতো, তেমনি কম্বল বিলি করতাম ওই কার্যালয় থেকেই। আবার দলের মিটিং মিছিলেও যেতাম ওখান থেকে। সবটাই হোত দলীয়ভাবে।” তিনি আরও বলেন, ” আমার একটাই অনুরোধ প্রশাসনের কাছে পার্টি অফিস ভেঙেছেন ঠিক আছে কিন্তু আশেপাশের দোকানগুলো ভাঙবেন না। যদি ভাঙতেই হয় তাহলে পুনর্বাসন দিয়ে ভাঙবেন।”
সোমবার সপ্তাহের প্রথমদিন বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকের কাছে গিয়ে অবৈধভাবে দখল করা জমির লম্বা তালিকা দিয়েছেন। বহরমপুর শহর জুড়ে যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠেছে দোকানঘর। চরিত্র বদলে বুজে গিয়েছে জলা। কংগ্রেস আমলে শুরু হওয়া সেই কাজকে শিল্পের মর্যাদায় নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। আর সবটাই হয়েছে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, দাবি এমনটাই। তবে বিধায়কের দেওয়া তালিকা অসম্পূর্ণ বলে দাবি করছেন নেটাগরিকরা। আরও কিছু তথ্য সেখানে জুড়ে দিয়েছেন তাঁরা।