
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ খেলার আগেই ফাউল করল তৃণমূল। ভোটারকে হুমকি দেওয়ায় তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতির নয়া ঠিকানা বহরমপুর থানা। ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুর পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডে তৃণমূলের সভাপতি রাজু মন্ডল, বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচার করতে গিয়ে ভোটারকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই কথোপকথনের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন কেউ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। সূত্রের দাবি, ওই ভিডিও নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করে বহরমপুর থানাকে নির্দেশ দিলে পুলিশ রাজুকে গ্রেফতার করে।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায় তিনি দলের হয়ে ভোট চাইতে গিয়ে ভোটারকে বলেন, ” … হাতেও না পদ্মফুলেও ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট নিয়ে কোনও গোলমাল হয়, ভোট দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি বাড়িতে ছানাবড়া-রসগোল্লা পাঠিয়ে দেব। আর যদি ভোট দিতেই হয়, দিতে হবে তৃণমূলকে। প্রতিটি বাড়ির ভোট কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হবে এবং খাতায় কলমে তা নথিভুক্ত করে রাখা হবে।’
তবে নিজের ওয়ার্ডের সভাপতির এমন কু-কর্মের কথা জানতেন না বলেই দাবি করেন কাউন্সিলর ববিতা হালদার। তিনি বলেন, ” আমি ঘুম থেকে উঠে আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনছি। বিষয়টি না জেনে বলতে পারবো না।” কাউন্সিলর এমন কথা বললেও তৃণমূল কর্মীদের একাংশের দাবি, দলের নির্দেশে ভোটারদের বাড়ি গিয়ে দলের হয়ে প্রচার সত্যিই করা হচ্ছে কি না তার জন্য ভিডিও রেকর্ড করা হয়। দিন কয়েক আগের এই প্রচারের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন তৃণমূল কর্মীরাই। কোনওভাবে হয়ত বেহাত হয়ে যায় সেই ভিডিও। কংগ্রেসের শহর সভাপতি অরিন্দম দাস ওই ভিডিও বক্তব্যের বিরোধীতা করে অভিযোগ করেন কমিশনে। এদিন তিনি বলেন, ” কংগ্রেস গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে চাইলে কংগ্রেস সব সময় রুখে দাঁড়াবে।” তৃণমূলের ধৃত এই নেতা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরও দালাল, এমন অভিযোগও উঠছে।
বহরমপুর বিধানসভা আসনে এবার তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, বিজেপি’র হয়ে ফের লড়াইয়ের মাঠে সুব্রত ওরফে কাঞ্চন মৈত্র। ২৩ এপ্রিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বহরমপুর। সেই সময় রেফারির লাল কার্ডে মাঠের বাইরে গেলেন তৃণমূলের প্রচারক। এমন খোঁচা দিয়ে অরিন্দমের দাবি, “সেমসাইড গোলেই নেতা এখন কয়েদখানায়, লক্ষণ ভালো ঠেকছে না।”