উন্নয়নের সংলাপে বহরমপুরের স্পন্দন মাপল তৃণমূল

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ হাজরা মোড়ের সভা থেকে এসআইআর ইস্যুতে বিজেপিকে যখন ব্যাঙ্গ বিদ্রুপে বিঁধছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে মুর্শিদাবাদ জুড়ে তাঁর দলের নেতা কর্মীরা পৌঁছে গিয়েছেন মানুষের দুয়োরে। মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে গত নির্বাচনেই দুটি হাতছাড়া হয়েছে ঘাসফুলের। রাজনৈতিক মহলের ধারণা এবার লড়াই কঠিন। পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা মুর্শিদাবাদের মানুষের মন টানতে তাই মরিয়া জোড়াফুল শিবির।

গত পাঁচ বছরে একাধিকবার প্রতিষ্ঠান বিরোধীতায় সরব হয়েছেন রাজ্যবাসী। পুরসভা, পঞ্চায়েত পেরিয়ে লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে হ্যাটট্রিক করেছে তৃণমূল। তবু সেই জয়ে কাঁটা হয়ে বিঁধেছে শহরাঞ্চল। মানুষ মুখ ঘুরিয়েছে। বহরমপুর তার মধ্যে অন্যতম। নির্বাচনের আগে গ্রাম শহরে ভিতের ওজন বুঝে স্তরে স্তরে জেলার বিধানসভা সাজিয়েছে তৃণমূল, আইপ্যাকের বুদ্ধিতে। বহরমপুরের ক্ষেত্রেও তিনটি টিম তৈরি করে দেওয়া হয়েছে মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নের কাহন তুলে ধরতে। মানুষের সমস্যা জেনে আসতে। সামনেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “রণ সংকল্প সভা”। তার আগে শুক্রবার তৃণমূলের তিনটি টিম মানুষের স্পন্দন মাপতে হাঁটলো বহরমপুরের মাটিতে।

সেই দলের একটিতে ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। একুশের নির্বাচনে তিনিই ছিলেন এই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী। এদিন বহরমপুর শহরের তিনটি ওয়ার্ড ৭,৮,১১ ঘুরেছেন তাঁর দলের আর এক অন্যতম সদস্য অরিত মজুমদার সহ আরও তিনজন পাপাই ঘোষ, আশা খাতুন ও বাবন রায়কে সঙ্গে নিয়ে। অরিত বলেন, ” প্রথম দিনের কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাঁদের আস্থার প্রকাশ বলেই মনে হয়েছে।” বহরমপুর শহরেই ১০,১৪,১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুথে বুথে ঘুরেছেন সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, ভীষ্মদেব কর্মকারদের একটি টিম। ভীষ্মদেব বলেন, ” কিঞ্চিত ড্রেনের সমস্যা, আলোর সমস্যার কথা বাদ দিলে মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা আমাদের পরিষেবায় সন্তুষ্ট।”

আর একটি টিম বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মন্ডলকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা এদিন দৌলতাবাদের পাঁচটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে জানতে চেয়েছেন সরকারি সুবিধা তাঁরা সবাই পেয়েছেন কি না? আইজুদ্দিন বলেন, ” আবাস যোজনায় ঘর পাওয়া নিয়ে কোথাও কোথাও মানুষের মনে খেদ আছে। কেউ ঘর পাওয়ায় উপযুক্ত কিন্তু তিনি ঘর পাননি সমীক্ষায় তাঁর নাম না থাকায়। আমরা সেই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি।”

কার্যত বিরোধীদের পথ আটকে নির্বাচনী ময়দান রাজধানী থেকে সুদূর মফঃস্বল দলের নেতা কর্মীদের দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত পনেরো বছর রাজ্য শাসন করার পরেও পরীক্ষা প্রস্তুতিতে ফাঁকি দিতে নারাজ তিনি। মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। তবু বহরমপুরের ক্ষেত্রে “না আঁচালে বিশ্বাস নেই” নেতাদের। নাড়ুগোপাল বলেন, ” আমরা সবসময় মানুষের পক্ষে থাকি। কিন্তু এই বিধানসভার মানুষ শাসকের সুবিধা নিয়ে বরাবর ভোট দিয়েছেন বিরোধীদের। যতবার মানুষের কাছে দাঁড়াই মানুষ সম্মতি দেন, কিন্তু এখনও ভরসা পাইনি। তাই ভোট বাক্সে তাঁদের মত না টানা পর্যন্ত বিশ্বাসী নই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights