
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ প্রয়াত হলেন শুভাশিস ওরফে শুভ রায়। সূত্রের দাবি, অসুস্থ অবস্থায় শনিবার বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তৃণমূলের জঙ্গিপুর সংগঠনের এই সহ সভাপতি। সেখানেই রাত ন’টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের অন্যতম এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
যে তিন চারজনের হাত ধরে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল মুর্শিদাবাদে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল তাঁদের একজন সাগির হোসেন। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের দিন ভগবানগোলায় নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। পাঁচ বছর পরে সেই ভোট আবহেই মৃত্যু হল শুভ রায়ের। এদিন তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন আর এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ মহম্মদ ফুরকান। তিনি বলেন, ” আমি, সাগির দা, শুভ আর অশোক দাস জেলায় তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে এসেছিলাম। সাগির দা আগেই চলে গিয়েছেন, এদিন শুভও চলে গেল। তাঁর মৃত্যুতে আমি আমার এক বন্ধুকে হারালাম। এই শোক জানানোর ভাষা নেই।”
সাগির, ফুরকানের মতো শুভাশিসও একসময় দাপটের সঙ্গে তৃণমূল দল করেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় যুব সংগঠনের জেলা সভাপতির পদ সামলেছেন। ছিলেন রাজ্য সম্পাদকও। সুবক্তা শুভ রায়ের লালগোলায় জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্শণীয়। সেকথা জানিয়ে লালগোলার বিদায়ী বিধায়ক মহম্মদ আলী বলেন, ” দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছি। নিঃস্বার্থভাবে তিনি দলের হয়ে কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যু রাজনৈতিক পরিসরে অপূরণীয় ক্ষতি।”
তৃণমূলের অন্দরে প্রবীণ আর নবীনের লড়াই নতুন নয়। দলের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে নাগাড়ে ঠেলাঠেলি চলে বছরভর। নির্বাচন এলে কখনও তা প্রকট হয়, কখনও ক্ষোভ চাপা থাকে অন্তরে। নবীনদের চাপে প্রবীণদের পিছু হটতে হয়েছে একাধিকবার। ২০২১ সালে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলেন সাগির হোসেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট না দিয়ে অন্য জেলা থেকে আইনজীবি প্রয়াত ইদ্রিশ আলীকে প্রার্থী হিসেবে টিকিট দেয় ভগবানগোলায়। সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সাগিরের পাশে দাঁড়ান শুভও। নিজেদের ঘরবন্দি করে ফেলেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তা জানতেন।
একুশের নির্বাচনে জিতে তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে মমতা মুর্শিদাবাদে সফরে আসেন ডিসেম্বরে। তাঁর প্রশাসনিক সভায় লিখিতভাবে ডাক পাননি শেখ মহম্মদ ফুরকান, শুভ রায়রা। কিন্তু সার্কিট হাউসের সন্নিকটে তাঁদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেই সভায় ডেকে পাঠান স্বয়ং মমতা। অভিমানের মেঘ সরে সেদিন হাসি ফোটে দুই প্রবীণের ঠোঁটে। যদিও তারপরেও সামনের সারিতে তাঁদের দেখা যায়নি সেভাবে।
শিক্ষক সংগঠনের নেতা হিসেবে ফুরকান প্রথম থেকেই জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু সংগঠন ভাগের পর তাঁকে আর শিক্ষক সংগঠনে রাখা হয়নি। দুই প্রবীণ নেতার অনুগামীদের ক্ষোভে প্রলেপ দিতে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের সময় ফুরকান ও শুভ রায়কে মূল সংগঠনের সহ-সভাপতির পদ দিতে বাধ্য হন সভাপতি খলিলুর রহমান। সেই সহ-সভাপতি পদেই এদিন জীবনাবসান হল শুভ রায়ের। দলের বর্তমান একাধিক সিদ্ধান্তে অমত থাকলেও মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে শিখেছিলেন তিনি, দাবি তাঁর অনুগামীদের। সোমবার জিয়াগঞ্জ শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।