বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভগবানগোলায় এবার মুখ পরিবর্তন করল বিজেপি।অন্যদের তুলনায় বিজেপি উপনির্বাচনে (Byelection) প্রার্থী ঘোষণা করল আগেই। মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় প্রার্থী হলেন ভাস্কর সরকার। ভাস্কর বলেন, ” পরিযায়ী শ্রমিকের কেন্দ্র ভগবানগোলাায় চাইব অবস্থার পরিবর্তন হোক। পানীয় জলের সমস্যা মিটুক। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় ফিরুক। পদ্মার ভাঙন চিরতরে ঘুচে যাক আর পদ্মা কেন্দ্রীক দুর্বৃত্যায়ন বন্ধ করাই হবে মূল লক্ষ্য।”
আরএসএস ঘনিষ্ঠ ভাস্কর বর্তমানে বিজেপি’র আমডহরার মন্ডল সভাপতি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল মেহবুব আলমকে। তার আগের ২০১১ ও ২০১৬ সালেও প্রার্থী ছিলেন তিনি। একুশের ভোটে মেহবুব ১৬ হাজার ৭০৭ ভোট পেলেও ভোট বেড়েছিল প্রায় পাঁচ শতাংশ। মুর্শিদাবাদ বিজেপি জেলা সভাপতি সৌমেন মন্ডল বলেন, ” সংখ্যালঘু এলাকা বলেই যে সংখ্যালঘু কাউকে নির্বাচনে প্রার্থী করতে হবে এই বাধ্যবাধকতা আমাদের নেই। দল যা ভাল বুঝেছে তাকেই প্রার্থী করেছে।”

এদিন মেহবুব বলেন “দল যা ভাল বুঝেছে তাই করেছে। তবে আমাকেই প্রার্থী করা হবে বলে শুনেছিলাম।” এমনিতেই মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি সংগঠন তিন ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ায় মূল সংগঠন শত টুকরোয় বিভক্ত বলে দাবি বিজেপি’র একান্ত আপনদের। মুর্শিদাবাদ আসনের লোকসভার প্রার্থী ঘোষণার পর এদিন বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী নিয়েও দ্বন্দ চরমে উঠল ভগবানগোলায়। দক্ষিণ বিজেপি সংগঠনের সভাপতি বিরোধী শিবিরের পরিচিত মুখ মুর্শিদাবাদ বিজেপি সংগঠনের যুব মোর্চার আইটি সেলের কার্যকর্তা সাহেব ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাখারভ সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁকে প্রার্থী করেনি গৌরীশঙ্কর ঘনিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ সংগঠনের কার্যকর্তারা। লিখিতভাবে সেই অভিযোগ দলের শীর্ষস্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। তাঁর আরও অভিযোগ, ” ভাস্কর তৃণমূল ও সিপিএম ঘনিষ্ঠ। প্রকৃত বিজেপি নয়।এলাকার প্রকৃত বিজেপি-কে প্রার্থী করা হোক।”
তার পাল্টা সভাপতি সৌমেন বলেন, ” শুধু ভাস্কর নয়, ভাস্করের বাবা সংঘের একজন সয়ংসেবক। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবার বিজেপির সঙ্গে রয়েছে। আর যিনি অভিযোগ করছেন তিনি কতদিন বিজেপি করছেন তার ঠিক নেই। আসলে তৃণমূলের সঙ্গে এবার গটআপ খেলতে না পারার জন্য প্রার্থী নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে।”