বিদ্যুৎ মৈত্র, মুর্শিদাবাদঃ হাতে মাস ছয়েকও ছিল না। গত বছর মাঝ নভেম্বরে তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাওনি সিংহরায়কে সরিয়ে তাঁর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিড। তার আগে অবশ্য কিছুদিন দলের চেয়ারম্যানের পদ সামলেছিলেন তিনি। সভাপতির পদে বসে বলেছিলেন, “আমি টিম গেমে বিশ্বাসী। কালেকটিভ লিডার হওয়াই আমার লক্ষ্য।” একলপ্তে জেলার দুই হেভিওয়েট লোকসভা ও এক বিধানসভা আসন জিতে তা প্রমাণও করলেন।
দলের দায়িত্ব যখন নেন তখন লোকসভা নির্বাচনের মুখে গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার তৃণমূল। শেষ ছ’মাসে সবাইকে এক জায়গায় এনেছেন। কোথাও কোথাও আনবার চেষ্টা করেছেন। তার ফল পেয়েছেন হাতেনাতে। একাধিক ফর্মূলায় বিগত নির্বাচনে বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর মত একটা অশ্বত্থ গাছকে উপড়ে ঘাসফুল ফোটানোর বহু চেষ্টা করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। সেই জগদ্দল পাথরকে ২০২৪-এ সরিয়ে তিনি দলনেত্রীর খাতায় নম্বর বাড়িয়ে নিলেন ৪ জুন।
অপূর্ব সরকার কোনও ভুঁইফোড় নেতা নন। অধীর ঘারানায় কাউন্সিলর থেকে পুরপ্রধান হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য ২০০৬ সাল থেকে। ২০১৬ সালের পর ঘাসফুলের দাপটে যখন রাজ্যে একটু একটু করে ফিকে হচ্ছে লাল নিশান, ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে হাত- সেই সময় কান্দির বিধায়কও বদলে নিলেন পথ। তৎকালীন জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে ঘাসফুলে নাম লেখালেন অপূর্বও। যিনি একসময় দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পুরসভাও চালিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বহরমপুরের ‘Cancel Cheque’ অধীর, সাংসদ ইউসুফ
২০১৯ এ লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরীর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে জেতেননি ঠিকই। কিন্তু ভোট বাড়িয়েছিলেন অনেকটাই। তারই ফল মিলল ২০২৪এ। প্রার্থী না হলেও নেতা হিসেবে দলকে দুই সাংসদ ও এক বিধায়ক উপহার দিলেন যা এযাবৎ জেলা তৃণমূলের নেতাদের সেই কৃতিত্ব নেই বলেই দাবি দলের অন্দরে। শুধু কী তাই? অভিমান ভেঙে ভরতপুরের বিধায়ক যখন ইউসুফ পাঠানের প্রচারের স্রোতে ভিড়লেন স্বচ্ছন্দে তাঁকে নিজের আসনটি ছেড়ে দিলেন ডেভিড। বহরমপুরের চেয়ারম্যান নাড়ুগোপালকে দিলেন জয় ছিনিয়ে আনতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। পিছনে দাঁড়িয়ে থেকে ফিল্ডিং সাজালেন। জিতে উঠে বললেন, “আমি কিছু করিনি। জয়ের নেপথ্যে অন্যতম কারিগর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আমাদের বুথ স্তর থেকে কর্মীরা সবাই এককাট্টা হয়ে লড়াই করেছেন তিনটি আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালবেসে। তাই জয় সহজ হয়েছে।”
যদিও নির্বাচন মিটে যাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তাঁকে আক্রমণ করে বলেছিলেন ” কান্দির বিধায়ক সেখানে হিন্দু ভোট ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।” কৌশলে বিতর্কে জল ঢেলে অপূর্ব বলেন, “এমন কথা আমি শুনিনি।”