অধীর-রাহুল সাক্ষাৎ, কথা হল বাংলা নিয়ে

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ অবশেষে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা হল অধীর চৌধুরীর। বৃহস্পতিবার রাহুলের বাসভবনেই দুই নেতার কথা হয়। সেই বৈঠকে বাংলা নিয়ে ফের অধীরকেই মাথা ঘামানোর জন্য রাহুল বলেছেন বলে সূত্রের দাবি। যদিও লোকসভায় অধীর না থাকায় তৃণমূল, কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়ায় “ফিল গুড” মনোভাব দেখিয়েছে। সেক্ষেত্রে ফের অধীর সামনে থেকে রাজ্য নেতৃত্ব দিলে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকে তৃণমূলের ভূমিকা বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মত রাজনীতির কারবারিদের।

দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে দিল্লির বৈঠকে তাঁকে ‘প্রাক্তন’ সভাপতি বলায় তীব্র অভিমান হয়েছিল বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদের। শুধু তাই নয়। ওই বৈঠকে বাংলার ‘লড়াকু’ কংগ্রেস নেতাদের ডাকা হয়নি বলেও দাবি করেছিলেন অধীর। সে কথা চেপে না রেখে একাংশ কংগ্রেস নেতাকে লক্ষ্য করে সংবাদমাধ্যমের সামনেই সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি । এমনকি তা নিয়ে রাহুল গান্ধী বা সোনিয়া গান্ধীকে নালিশ করবেন না বলেও দাবি করেছিলেন। এদিন রাহুলের সঙ্গে বৈঠকে সেই অভিমানও অধীরের কেটেছে বলে দাবি।

অধীর বরাবর তৃণমূলের কট্টর বিরোধী। বাংলায় কংগ্রেসকে শূন্যে নামিয়ে আনার পেছনে দায়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেই দাবিতে আজও অনড় অধীর। সে কথা দিল্লিরও অজানা নয়। ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকে তৃণমূল থাকায় বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে লোকসভা নির্বাচনে নামায় একমাত্র বাধা ছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ। সে কথা নিজের মুখে দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে অন্য কারও কাঁধে প্রদেশের ভার দিতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গেরা তাঁর কথায় কান না দিয়ে তাঁকে প্রদেশের ভার দিয়ে নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গিয়ে সব হিসেব বদলে যায়। দলের ভিতরে ও বাইরে একাংশের সমালোচনাও তাঁকে হজম করতে হয়। যদিও বাংলায় শাসক দল বিরোধী একমাত্র মুখ অধীর হওয়ায় দলের সংখাগরিষ্ঠ সদস্য অধীরের পক্ষে। অধীরকে দিল্লির নেতার ‘প্রাক্তন’ তকমায় ক্ষুব্ধ হন তাঁরাও।

তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে সেদিনই অধীর লেখেন ” আমাদের লোকদের মারছে, যে কর্মীরা রাতদিন তৃণমূলের হাতে মার খেলো, খাচ্ছে, তাদের জন্য আমরা বলবো না তো কে বলবে ?” সেখানেই তিনি লেখেন, ” শাসক তৃণমূল আমাদের দল ভাঙছে প্রতিদিন! ওরা তো ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সামিল হয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করেনি ! তৃণমূল তো এ রাজ্যের শাসক দল, তারা কি আমাদের কংগ্রেস কর্মীদের কোনোরকম রেহাই দিয়েছে? আজও জেলে বন্দি আমাদের কর্মী, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত,আমাদের পার্টি অফিস দখল করেছে, করছে, বিরাম নেই তো ! তাহলে সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কীকরে চুপ করব, করলে আমার সেই সহকর্মীদের প্রতি অবিচার অন্যায় করা হবে! আমি পারব না।” এমনকি ফেসবুকের ওই পোস্টেই তিনি বার্তা দিয়েছিলেন তাঁর শীর্ষ নেতৃত্বকে। তিনি লিখেছিলেন, “যে কর্মীরা রাতদিন লড়াই করছে, দলের পতাকা নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করছে তাদের সাথেও দিল্লি কথা বলুক, তাদের মতামতও জানা দরকার। তাদেরকেও দিল্লিতে ডাকা দরকার। আমি আমার সেই সকল সহকর্মীদের সাথে রাস্তায় থাকব, আন্দোলনের পথে, অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে শিখিনি, করবোও না।”

আর সেই ঘটনার পর তার বিজেপি যোগ নিয়ে জল্পনা ছড়ায় দেশজুড়ে। অধীর অবশ্য তা নিয়ে রা কাড়েননি। ওই ‘রটনায়’ মদত ছিল একাংশ কংগ্রেস নেতৃত্বেরও দাবি সূত্রের। তবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর একান্ত সাক্ষাত হওয়ায় সেই জল্পনায় আপাতত ইতি পড়ল। এদিন এক ভিডিও বার্তায় অধীরও বলেন, “আমার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর কথা হয়েছে। তিনি বাংলায় কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বাড়ানোর কথা বলেছেন।” এদিন সেই ভিডিও বার্তায় বাংলার এই প্রবীণ নেতার গলাতে আবেগ ধরা পড়ছিল।

অধীর, বহু লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুর্শিদাবাদের এক কিশোর রাজনীতিক থেকে প্রবীণ ও দুঁদে কংগ্রেস নেতা এমনকি রেলের মতো বড় দফতরও সামলেছেন মন্ত্রী হয়ে। সেই তথ্য সামনে রেখে, রাহুল সাক্ষাৎ ঘিরে তেলঙ্গনা থেকে অধীরকে রাজ্য সভায় পাঠানোর জল্পনা বেড়েছে। নাম না লেখার শর্তে এক কংগ্রেস নেতা বলেন, “বন্যেরা বনে সুন্দর, অধীর দা সুন্দর রাজ্য অথবা লোকসভায়। এটা দলের স্বার্থেই ভাবা প্রয়োজন। কারণ বাংলার পাশাপাশি বিপন্ন দেশও। কংগ্রেসকে আগামী দিনে মজবুত লড়াই করতে অধীরের মতো সেনাপতিরও প্রয়োজন।”

আরও পড়ুনঃ আলিমুদ্দিনে এলেন নিথর বুদ্ধদেব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights