
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বহরমপুর। বহরমপুর ব্লকের ঘূর্ণির মোড় জান মহম্মদপুরে সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল, কংগ্রেসে ও সিপিএমের মধ্যে ঝামেলা বাঁধে। পরে তা হাতাহাতিতে পৌঁছায়। কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন তৃণমূল বুথ দখলের চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই কাজে বাধা দিতে গেলে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা চালায় শাসকদল। আহত হন ব্লকের দুই কংগ্রেস নেতা। তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের সামনেই তাঁকে তৃণমূলের গুন্ডারা বেধড়ক মারে বলে অভিযোগ করেন আহত কংগ্রেস নেতা সাবির শেখ।
রাজ্যে পালাবদলের পর গত ১৩ বছরে অধিকাংশ সমবায় সমিতিতে নির্বাচন হয়নি। প্রশাসক দিয়ে সমবায় চালানো হচ্ছিল। এদিকে নির্বাচন না হওয়ায় বহু সমবায় মুখ থুবড়ে পড়েছে জেলায়। পরে অবশ্য বিরোধীদের ধারাবাহিক চাপে, কখনও আদালতের নির্দেশে রাজ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সমবায় পরিচালনা করতে উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, বুথ লুট করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ধাঁচেই ভোট করতে চাইছে শাসক দল। আর তা বাধা দিতে গেলে বিরোধীদের কপালে জুটছে প্রহার। বহরমপুর তারই একটি নমুনা।
জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি কংগ্রেসের শিলাদিত্য হালদার বলেন, ” আমাদের দলের নেতা সাবির শেখকে তৃণমূলের দুষ্কৃতী সবুর মোল্লা, বাবু মোল্লারা কীভাবে মারধর করেছে পুলিশ নির্বাক দর্শক হয়ে তা দেখেছে। মানুষের স্বতস্ফূর্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়াও তৃণমূলের কাছে আজ গাত্র দাহ। “
এই বোর্ড আগে সিপিএমের দখলে ছিল। সিপিএমের অভিযোগ, এদিন ভোট লুট না হলে এই নির্বাচনে তারাই জিততো। ইতিমধ্যে একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতে আছে সিপিএম দাবি সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য সন্দীপন দাসের। তিনি বলেন, “সকালে নির্বাচন শুরু হওয়ার আধঘন্টা পর থেকেই ওরা বুথ দখলের চেষ্টা করে। আমাদের পাঁচজন কর্মী আহত হয়। এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে নির্বাচনকে প্রহসনের পরিণত হল।” ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন হল। তাও এখানে লুট করতে ছাড়ল না তৃণমূল। নির্বাচনে নামে যে প্রহসন সারা বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী করছেন তার প্রতিফলন এখানেও হল।”
হাতিনগর তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সুজ্জামেল শেখের অবশ্য বক্তব্য, ” মানুষ ওদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আস্তাকুঁড়ে। তাই ঝামেলার অভিযোগ তুলে প্রাসঙ্গিক থাকতে চাইছে। পুলিশ প্রশাসন কড়া হাতে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। মানুষ সুস্থভাবে ভোট দিয়েছে।”
অভিযোগ, নির্বাচন না হওয়ায় এই সমবায় ব্যাঙ্কেও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। ব্যাঙ্কের কোনও কাজকর্ম হয় না। কোটি কোটি টাকা তছরূপ হয়েছে ব্যাঙ্ক থেকে। একশো দিনের টাকা মানুষ ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রেখেও পায়নি। সিপিএম-কংগ্রেস নির্বাচন না করে ব্যাঙ্ককে অচল করে রেখেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তবে এদিন নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানুষজন তাদের পাশেই থাকবে বলে আশাবাদী তৃণমূল।