ধুলো ঝেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়োরে উড়ল সিপি’র ফ্ল্যাগ

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মাস খানেক আগেও কার্যালয় জুড়ে বিছিয়ে ছিল মাকড়সার জাল। সেই ঘরে যাঁদের বসবার কথা ছিল তাঁরা নিজের অক্ষ থেকে চলে গিয়েছিলেন দূরে। সেই সময় শহরের আর পাঁচটা ঐতিহ্যের মতো জন সমক্ষে তুলে ধরা হতো ছাত্র পরিষদের কার্যালয়কে। অথচ আজ মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সাত দফা দাবি উপাচার্যকে জমা দিতে গিয়ে জনা কয়েক তরুণ যখন হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিল, জানা গেল তাঁরাই না কি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মনোজ চক্রবর্তীদের উত্তরসূরি। ধুলো ঝেড়ে সাবেক কৃষ্ণনাথ কলেজ অধুনা মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়োরে নয়া নেতৃত্বে উড়ল ছাত্র পরিষদের পতাকা।

একসময় এই ছাত্র পরিষদের ঘর থেকেই উঠে আসা তরুণ পরবর্তীতে জন নেতার তকমা পেয়েছে। সংসদ নির্বাচন নিয়ে কলেজে কলেজে ছাত্র সংঘর্ষের কথাও উঠে আসতো সেই সময় সংবাদ শিরোনামে। বাংলায় পরিবর্তনের জমানায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনই বন্ধ। সদস্য সংগ্রহে টান পড়েছে বিরোধী শিবিরের ছাত্র সংগঠনে। সংকটে নেতৃত্বও।

অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কলেজে কলেজে শাসক দলের ছায়ায় থাকা একদল বহিরাগত রাজ করে কলেজ চত্বরে। তাদের অবাধ যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ নেই কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। নির্বাচিত সংসদ না থাকলেও কলেজে কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের হোর্ডিং ঝোলে ? জেলার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় অথচ তা এখনও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মান্যতাই পায়নি। কেন? কেন সেখানে নেই স্থায়ী অধ্যাপক? এইরকম সাত দফা দাবি নিয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল ছাত্রপরিষদের।

কলেজ চত্বরে গিয়ে তাঁরা আরও একটি অভিযোগ জুড়ে নেন সেই তালিকায়। তাঁদের অভিযোগ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্বেও তৃণমূল ইউনিয়ন রুম খুলে রাখা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। দাবি, এক কথা দু-কথা হতে হতেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের নেতাদের মধ্যে বাগ বিতন্ডা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামলে দু-পক্ষকে সরিয়ে দিলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

রাজ্য জুড়ে ভাটার টানে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষা থেকে মুখ ফেরাচ্ছে নয়া প্রজন্ম। এমন পরিস্থিতিতে হপ্তাখানেক আগে নেতা বদলে সৌফিক আলম ওরফে বিট্টুকে মুর্শিদাবাদ জেলা ছাত্র পরিষদের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে প্রদেশের পক্ষ থেকে। দায়িত্ব নিয়ে সৌফিক প্রথমেই মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্দোলনের ভূমি ধরে পড়ুয়া মন থেকে মুছে যেতে বসা দলের পতাকাকে দুলিয়ে দিতে চাইলেন। যা আগামীদিনে ছাত্রপরিষদকে লড়াইতে ফেরাবে বলেই বিশ্বাস অভিজ্ঞদের। নির্বাচনের আগে আস্থা জোগাবে কংগ্রেসেকে মত রাজনৈতিক শিবিরের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights