
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ভোটের প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ভাষ্যে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেছিলেন। যেখানে বিজেপি’র ঘাঁটি শক্ত সেখানে উজাড় করে দিয়েছিলেন নিজেকে। পাছে বিরোধীরা গত পাঁচ বছরের হিসেব তুলে ধরে চাপে ফেলেন, তাই আগেভাগে কাজের খতিয়ান কাগজে ছাপিয়ে বিলি করেছিলেন দুয়ারে দুয়ারে। কিন্তু প্রতিপক্ষের যে এক অভিযোগে বারবার প্রচারে মেজাজ হারিয়েছিলেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক, সেই অভিযোগে নিজেই যেন সিলমোহর দিলেন ভোটের দিন। বহরমপুর বিধানসভার একটি পুরসভা ও পাঁচ পঞ্চায়েত এলাকার কোনও বুথে তাঁকে দেখতেই পেল না সংবাদমাধ্যম, বিজেপি সমর্থকরাও। এমনকি বুথের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের টেবিল দেখতে অভ্যস্থ যে শহরবাসী, সেই টেবিলও তাঁরা দেখতে পাননি।
তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় ৫১ নম্বর বুথে গিয়ে তাঁর ভোট দিয়েছেন। তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। রোদের হাত থেকে রেহাই দিতে ত্রিপল টাঙানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীও ধীর গতিতে ভোট পড়ার খবর শুনে ছুটে গিয়েছেন বুথে। পাশে দাঁড়িয়েছেন সমর্থকদের। পরে বিকেলে নিজের ভোট দিয়েছেন। সকাল থেকে না হলেও বিকেলের দিকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটেছেন শহরের এদিক ওদিক। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু কাঞ্চন। এক নম্বর ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বুথে যে তিনি ছিলেন সেই ছবিও ভাগ করে নেওয়া হয়। তবু প্রশ্ন রয়ে গেল তাঁর গতিবিধিতে।
বিধায়েকের আপ্ত সহায়ক নীলেন্দু শেখর সাহা বলেন, ” কাঞ্চন দা, স্বভাব অনুযায়ী নীরবে কাজ করতে পছন্দ করেন। ঢাক ঢোল পিটিয়ে কোনওদিনি কাজ করেন নি। এখানেও নয়। তিনি বুথে গিয়েছেন। কর্মীদের সঙ্গে সমর্থকদের সঙ্গে কথা ও বলেছেন। বিকেলে সাড়ে তিনটে নাগাদ আইসিআই স্কুলে গিয়ে ভোট দিয়ে এসেছেন। সংবাদমাধ্যম অন্য কোথাও ব্যস্ত থাকায় তাঁদের নজর এড়িয়ে গিয়েছে হয়ত।”
ভোট প্রচারের শুরুতেও কাঞ্চনের প্রচারের আলো শুষে নিয়েছিল তৃণমূল আর কংগ্রেস। শেষ পর্যন্তও তা টিকে থাকায় ধন্দ বেড়েছে বহরমপুর বিধানসভার সমর্থকদের মনে। জেলায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার যেমন ভোট দিয়েছেন, তেমনি বহরমপুরেরও ৯০ শতাংশ ভোটার নিজের ভোট নিজেই দিয়েছেন বুথে গিয়ে। তার মধ্যে সবথেকে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনিই হবেন বহরমপুরের জনপ্রতিনিধি। তবে কি জয়ের পথে বাধা আছে ? তাই কি প্রার্থী এড়িয়ে গিয়েছেন জনপদ ? কেউ আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বুথ কর্মীদের ক্ষোভের কথা। সেবার বুথ কর্মীরা রাতভর বুথ আগলে দিন শেষে তাঁদের বরাদ্দ প্রাপ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। এবারও কি তেমন কিছু ঘটেছে?
বিজেপি বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি মলয় মহাজন বিষয়টি উড়িয়েও দেননি, ছেড়েও দেননি। তিনি বলেন, ” কোনওদিনই কোনও মানুষ সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারেন না। আমাদের কর্মীদের চা-জল খাবারের মতো যে টুকু টাকা দেওয়া হয় তা যথেষ্ট তা বলছি না। কিন্তু তা নিয়ে কৈ কোনও অভিযোগ কেউ করেছেন বলে শুনিনি।” তবে বিজেপি বিধায়ককে ভোটের দিন রাস্তাঘাটে বিধায়ককে না দেখা যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার বলেন, ” ওঁরা তো কংগ্রেস হয়ে গিয়েছেন। তাই বিজেপি হিসেবে তাঁকে দেখা যায়নি, যেমন গত পাঁচ বছরে মানুষ দেখতে পাননি। আমাদের লড়াই এই ধরনের ছদ্ম বিজেপি, ছদ্ম কংগ্রেস, ছদ্ম সিপিএমদের বিরুদ্ধে। মানুষ সেটা যা বুঝেছে ৪ তারিখেই তা দেখতে পাবেন।”