
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ নাজেহাল গরম উপেক্ষা করে মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন ভোটের লাইনে। সেই গরমে বহরমপুর বিধানসভার অন্তর্গত অযোধ্যানগরের একটি বুথে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা। তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক পুরুষ জওয়ান। যা আরও বিব্রত করে তোলে ওই মহিলাকে। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে ধরে ছায়ায় নিয়ে যান। সেখানেই তাঁরা মহিলা পুলিশ কর্মীর খোঁজ করেন। কিন্তু বুথে না কেন্দ্রীয় বাহিনীর, না রাজ্যের কোনও মহিলা পুলিশ কর্মী ছিলেন সেখানে।
বহরমপুরের লিপিকা মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের বুথেও ছিল না কোনও মহিলা পুলিশ কর্মী। অথচ ওই বুথে মহিলাদের ভোট দেওয়ার জন্য আলাদা লাইনে দাঁড় করানো হয়েছিল। সেখানেও বেশ কয়েকজন অসুস্থ, বয়স্ক মহিলা ভোট দিতে এসেছিলেন। তাঁদের কারও সঙ্গে বাড়ির লোকজন থাকায় অসুবিধা হয়নি। কিন্তু পৃথক লাইনে দাঁড়াতে তাঁদের অনেকেকেই পুরুষ পুলিশের সাহায্য নিতে হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বুথ মুড়ে ফেলা হয়েছিল। কোথাও কোনও অশান্তির ঘটনা যাতে না ঘটে তারজন্য কড়া নজরদারি ছিল। তবু অশান্তি এড়ানো যায়নি। তেমনি বুথে মহিলা পুলিশ কর্মী না থাকা নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক মহিলাই অভিযোগ করেছেন। সাবিত্রী মন্ডল নামে এক মাঝবয়সী মহিলা বলেন, ” সব জায়গায় পুরুষ মহিলা ভাগ করেই যে কোনও কাজ করা হয়। বুথেও দেখলাম লম্বা লাইনের একটি ছেলেদের, অন্যটি মেয়েদের। কিন্তু সামনে বন্দুক নিয়ে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি পুরুষ। যা মেয়েদের ক্ষেত্রে অস্বস্তির।
বিষয়টি যে তাঁদেরও ক্ষেত্রেও সমান অস্বস্তির তা স্বীকার করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সিনিয়র আধিকারিকও। লিপিকা মেমোরিয়াল স্কুলে একজন বয়স্ক মহিলাকে বুথে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন তাঁরই এক সহকর্মী। সেই দৃশ্য দেখিয়ে ওই আধিকারিক বলেন, ” এই সব কাজের জন্য মহিলাদের প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ নেই।” মুর্শিদাবাদে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২৫ লক্ষের কিছু কম। তবু মহিলা পুলিশ নিয়োগে এত গাফিলতি কেন? বুথে বুথে কেন নেই মহিলা পুলিশ?সওই প্রশ্নে আঙুল ঘুরল সেই নির্বাচন কমিশনের দিকেই।