
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ভোটের হাওয়ায় এখনও সরগরম বাংলা। তারমধ্যেই সংস্কৃতির শহর বহরমপুরে হিংসার ঘটনা ঘটাল একদল দুষ্কৃতি। কংগ্রেসের অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুর কুঞ্জঘাটা এলাকায় এক নম্বর বুথে। ওই এলাকা বহরমপুর বিধানসভার মধ্যে পরে।
অভিযোগ, কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ এদিন দুষ্কৃতিরা ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালায়। এক কংগ্রেস সমর্থকের বাড়ি গিয়ে পুরুষদের শাসানি দিয়ে আসা থেকে তাঁকে মারধর, মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। আহতদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাঁরা এই দুষ্কর্মের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা সকলেই তৃণমূল আশ্রিত মস্তানবাহিনী বলে দাবি। ওই পরিবারের এক মহিলা সদস্য পিয়া ঘোষ বলেন, ” দুষ্কৃতিদের দলে ছিল মেঘনাদ রায়, যাঁকে আমি চিনি।” মেঘনাদ তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষের “ডান হাত” বলে দাবি এলাকাবাসীরও। পরিবারের পক্ষ থেকে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অধীর চৌধুরী। তাঁকে কাছে পেয়ে এলাকাবাসীর দাবি, ” দাদা ঘরে থাকতে ভয় করছে। জানলা খোলা থাকলে এসে শাসানি দিয়ে যাচ্ছে।” অধীর তাঁদের বরাভয় দিয়ে বলেন, ” ভয়ের সঙ্গে আপনাদের মনে এদের বিরুদ্ধে ঘৃণাও তৈরি হচ্ছে। ভয় পেলে চলবে না। সকলকে একসঙ্গে থাকতে হবে। সংঘবদ্ধভাবেই বাঁচতে হবে।” তবে ওই আহত পরিবার কংগ্রেস কর্মী কি না তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন জানিয়ে অধীরের অভিযোগ ” ধীর গতিতে ভোট হচ্ছিল বলে আমি ভোটের দিন এলাকায় এসে মন্দিরের মধ্যে গিয়ে বসি। সেই হিংসায় এইসব সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা।”
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বহরমপুর থানার পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এবারে মুর্শিদাবাদে ভোটের দিন কোথাও রক্ত ঝরেনি। ঘটেনি হিংসার ঘটনাও। তবে ওৎ পেতে ছিলেন দুষ্কৃতিরা, এমনটাই অভিযোগ। কংগ্রেসের অবশ্য দাবি, ” ওৎ পেতে আছে তৃণমূল ।” পাপাইয়ের ফোন বেজে যাওয়ায় মেলেনি উত্তর।