বহরমপুরে তৃণমূল আর কংগ্রেস যেন টম অ্যান্ড জেরি, ব্যতিক্রমী কাঞ্চন

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ চলতি বছরের নির্বাচনকে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ শক্ত লড়াই আখ্যা দিয়েছেন। কেউ বলেছেন ব্যতিক্রমী। প্রথম দফার নির্বাচন শেষে সর্বোচ্চ ভোটদানে কিছুটা তার আভাসও মিলেছে। কিন্তু বহরমপুরে সেই লড়াইয়ের শুরু কিংবা শেষেও অক্লান্ত শুধু দুই দল তৃণমূল আর কংগ্রেস। ঠিক যেন উইলিয়াম হান্না ও জোসেফ বারবারার জনপ্রিয় ধারাবাহিকের দুই চরিত্র টম আর জেরি। এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়। রিল আর রিয়েল লাইফের ফারাক ছিল, আছে থাকবেও। রিলে ছিল ছোটদের অনাবিল আনন্দ, রিয়েলে হেল জনজীবন। দু-পক্ষই মত্ত ক্ষমতার আস্ফালনে। লাল চক্ষুর নিচে তাঁরা রাখতে চাইছেন মানুষের জীবনকে। যা আদতে পদ্ম পাতায় জল। ওই দুই দলের গোঁসা হলেও ব্যতিক্রম বিজেপি’র প্রার্থী সুব্রত ওরফে কাঞ্চন মৈত্র।

টম জেরিকে বিরক্ত করে মজা পেত। জেরিকে ধরতে টমের মরিয়া চেষ্টা ছিল। কারণও আন্দাজ করা কষ্টের নয়। জেরিও ঈর্ষা পরায়ণ ছিল। টমকে সেও বিরক্ত করত। তবু ইঁদুর জেরিকে জিতিয়ে দিতেন পরিচালক, হেরে যেত টম। কোনও কোনও সময় জেরিকে ধরতে অন্যের সহযোগিতা নিতে হত তাঁকে। এক্ষেত্রেও তাই।

শনিবার রাত থেকে শহরের উত্তর অংশে তুমুল দাপিয়েছে একদল দুষ্কৃতি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধমক দিয়েছে তাঁরা, মারধর করেছে কাউকে কাউকে। আদতে যা ক্ষমতার আস্ফালন। অভিযোগ উঠেছে, গণতান্ত্রীক অধিকার প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করতে না পেরে এইসব করছে তৃণমূল।এমনটাই দাবি করছেন অধীর চৌধুরী। আর পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে বহরমপুর জিম্মায় রয়েছে নাড়ুগোপালের। এই মনোভাবেই নাড়ুগোপাল পাল্টা যা দাবি করছেন তা সাজিয়ে নিলে যা দাঁড়ায়, এ শহরে ব্রাত্য অধীর চৌধুরী ও তার কংগ্রেস। গতকাল রাতের দুষ্কর্মের সঙ্গে তৃণমূল যুক্ত নয়। হেরে যাবেন বলে আগেভাগে দলের গায়ে অধীর চৌধুরী দাগ লাগাচ্ছেন পরিকল্পিতভাবে।

আসলে এক ভোট মিটতে না মিটতেই এ আর এক ভোটের প্রস্তুতি। সামনের পুরসভা নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই ভারি হচ্ছে নাটকের শহর বহরমপুরের বাতাস। গরমের দাপট ছাপিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির কারবারিদের দাপট পাল্টা দাপটে। কুঁকড়ে যাচ্ছে মণিশ ঘটকের শহর।

আর এখানে এসে মানুষকে যেন ছায়া দিলেন বহরমপুরের বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ওরফে কাঞ্চন। ভোট মিটে গিয়েছে। ভোট পর্বে প্রার্থীর প্রচারের জন্য লাগানো হয়েছিল ফ্লেক্স, দলীয় পতাকা। এখনও শহরের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঢাউস হোডিংয়ে মুখে ঢেকেছে আকাশের। যদিও শহর জুড়ে বারোমাস দুলতে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা। দৃশ্য দূষণ হয়। মুখ ঢেকে যায় মনিষীদের। হেলদোল থাকে না সংস্কৃতির শহরের ঠিকা নেওয়া নেতাদের।

রবিবার তাঁদের নীরবে যেন শিক্ষা দিলেন কাঞ্চন। দলের ছেলেদের দিয়ে কোথাও নিজে হাতে সেই সব খুলে নজির রাখলেন তিনি। বিধায়ক বা নেতার আস্ফালনের থেকেও নিজেকে ফের প্রমাণ দিলেন একজন সমাজসেবি হিসেবে। বললেন, ” এখন আর ওগুলোর প্রয়োজন নেই। তাই দলের ছেলেদের নিয়ে চেষ্টা করলাম। সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে নিজের নিজের এলাকার হোর্ডিং, পোস্টার, ফ্লেক্স খুলে শহরকে পরিস্কার রাখতে।”

ভোটের ফল বলে দেবে আগামী পাঁচ বছর কার হাতে থাকবে ক্ষমতা। কিন্তু এদিন শহরবাসী বিদায়ী বিধায়কের উদ্যোগে খুশি। সমাজমাধ্যমে তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু মানুষ। কেউ কেউ বলেছেন, রোদের তীব্রতায় আর ক্ষমতার আস্ফালনে শহরকে যেন বাতাস দিলেন বিধায়ক। রক্তের জোগান দিয়ে বহু মানুষের মুখে হাসি ফোটানো শহিদ ক্ষুদিরাম পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কাঞ্চন রাজনীতিতেও হাঁটলেন ব্যতিক্রমী পথে। আস্থা জোগালেন মানুষকে। বহরমপুর বিধানসভার ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৮২৩জনের মধ্যে ৯১.৭২ শতাংশ মানুষ কী সিদ্ধান্ত নিলেন জানা যাবে ৪ঠা মে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights