জেলার দু’জন মন্ত্রী হলেন, তবু বন্ধই থাকল বহরমপুরের বিজেপি কার্যালয়

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রীসভায় জায়গা হয়েছে মুর্শিদাবাদের দুই বিধায়কের। একজন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ অন্যজন কান্দির বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ। গৌরীশঙ্কর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আর গার্গী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আজ রাজ্যের আরও ৩৩ জন বিধায়কের সঙ্গে শপথও নিয়েছেন লোকভবনে। দলের নেতাকর্মীদের তাঁরজন্য উচ্ছ্বাস দূর অস্ত, দিনভর বন্ধই থাকল বিজেপি’ র বহরমপুর সংগঠনের কার্যালয়।

এর আগে সংগঠনে রদবদল হলে বিজেপি’র নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ক্যামেরায় ধরা মুশকিল হতো। থোরাই কেয়ার করে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানো থেকে তাসার বিকট আওয়াজ সঙ্গে রামের নামে ধ্বনি দিতে দিতে নেতা কর্মীদের মিছিল শহর পরিক্রমা করেছে একাধিকবার। তাঁদের ‘পাল্টানো দরকার’ দাবি মানুষ শুনেছেন। তাই পরপর দু’বার বহরমপুর বিধানসভায় পদ্ম ফুটিয়েছেন সুব্রত মৈত্র। এবারতো একেবারে জায়েন্ট কিলার তকমাও পেয়েছেন অধীর চৌধুরীকে পরাস্ত করে। সেই জয়ের কৃতিত্ব দিয়ে শহরে বিরাট মিছিলের আয়োজন করেছিলেন বিজেপি’র কার্যকর্তারা। তাহলে হলোটা কী এবার?

এমনিতেই মুর্শিদাবাদ ও কান্দির বিধায়ক মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পাওয়ায় বিজেপি’র গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। দুই বিধায়কের মন্ত্রীসভায় আসন পাওয়ার কৃতিত্বের কারিগর নাকি দলের বহরমপুর সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি শাখারভ সরকার। আরএসএস ও রাজ্য নেতাদের ‘কাছের লোক’ হওয়ায় তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ায় গার্গী ও গৌরীকে মন্ত্রী সভায় দেখা যাচ্ছে।বিজেপি’র আর একটা অংশ গৌরীর মন্ত্রী হওয়ার পেছনে শাখারভের কৃতিত্ব না থাকলেও গার্গীর নাম মন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাবের জন্য শাখারভকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন অনেকে।

অন্যদিকে সুব্রত মৈত্রের মতো পরপর দু’বারের বিধায়কের নাম গ্রাহ্যের মধ্যে না আসাতেও আঙুল উঠেছে সেই শাখারভের দিকে। বিজেপি’র অনেকেই দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে বিষয়টিকে গোষ্ঠী কোন্দলের তকমা দিচ্ছেন নিজের মতো করে। যদিও বহরমপুরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও সুব্রত’র সম্পর্কের শীতলতা টের পান অনেকে। শোনা যায়, সুব্রতর জেতার পথে কাঁটা বিছিয়েছিলেন বহরমপুরের অনেক বিজেপি কার্যকর্তা। তবে শাখারভ স্বয়ং এই ধরনের “গুজব” এ জল ঢেলে দিয়ে বলেন, ” কে কী ভাবল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ে, পরিচিত মুখ তিনি অপূর্ব সরকারের মতো হেভিওয়েটকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন। আর একজন দীর্ঘদিন ধরে পার্টির কর্মী, বলিষ্ঠ সংগঠক। তাই রাজ্য কেন্দ্রের নেতারা তাঁদের ওপর মন্ত্রীত্বের ভার দিয়েছেন। যাঁরা মন্ত্রী হয়েছেন উভয়েই পার্টির সম্পদ, তার মানে এটা নয় যে বাকিরা পার্টির কেউ নয়। জেলাবাসী হিসেবে এই দুজন মন্ত্রী হওয়ায় আমি খুশি। ” বহরমপুরের বিধায়ক প্রসঙ্গেও কৌশলী শাখারভ বলেন, ” বহরমপুরের বিধায়কও অবশ্যই কৃতিত্বের দাবিদার। উনিও শহরের ভালোর জন্য ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করেছেন, তারজন্যও পার্টি ভাববে।” তবে কার্যালয় বন্ধের প্রসঙ্গটি তিনি এড়িয়ে যান।

বহরমপুরের বিজেপি নেত্রী রুমা চক্রবর্তী বলেন, ” এখানে কোনও গোষ্ঠীকোন্দলের ব্যাপার নেই। নতুন শাটার লাগানো হয়েছে কার্যালয় তাই বন্ধ আছে। পাশের রাস্তা দিয়ে কার্যকর্তারা যাতায়াত করেন।” কিন্তু লোকজনের আসা-যাওয়া তো নজরে পড়বে। যখন মন্ত্রীরা শপথ নিচ্ছেন সেই সময় কার্যত শুনশান দলীয় কার্যালয়। সে কথা জানালে তিনি বলেন, ” সকলেই নানা কাজে ব্যস্ত। টিভিতে তাঁরা দেখেছেন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান। এখনও অনেক সময় আছে দেখবেন সন্ধ্যেতেই আমরা এই আনন্দ উদযাপন করছি।” সংগঠনের সভাপতি মলয় মহাজন কলকাতায় আছেন। তিনিও বলেন, ” শাটার নামানো আছে মানেই কার্যালয় বন্ধ তা নয়। রাতে ফিরে আমরা সবাই এই আনন্দ উদযাপন করব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights