বিজিপি নেতার জেলা পরিষদ পরিদর্শন অবৈধ, উঠছে প্রশ্ন

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ আজ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে জেলা পরিষদের বৈঠক সংক্রান্ত প্রশ্ন যেমন করেছেন তেমনি গত বছরের অডিট রিপোর্টে উঠে আসা গুরুতর দুর্নীতি বিষয়ে ওই আধিকারিককে ধমকও দিয়ে এসেছেন বিজেপি’র বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি মলয় মহাজন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ” কথা প্রসঙ্গে গতবারের অডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তার আগের রিপোর্ট আছে কি না তাও জানতে চেয়েছি। ২০২৪-২৫ এর রিপোর্ট নেই। ২০২৩-২৪ এর রিপোর্টে অডিটরের সিল নেই। কোনও সাক্ষর নেই। কতটা সত্যতা আছে তা জানি না। ধরে নিলেও এই রিপোর্ট নিয়ে ভাগীরথী সমবায়ের মতো দুর্নীতির গন্ধ আছে। পরিস্কার দুর্নীতি হয়েছে, জালিয়াতি হয়েছে।”

তিনি পদে না বিধায়ক, না সাংসদ। এমনকি জেলা পরিষদের সদস্যও নন। সেই মলয় মহাজন দলবল নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন কখনও জেলাপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের অফিসে। কখনও ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের ঘরে। ধমকাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন আধিকারিকদের। আর তা সরাসরি সম্প্রচারও হচ্ছে ফেসবুকের পাতায় পাতায়। দলের একজন সভাপতির এহেন আচরণ নিয়ে দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর এই বিচরণকে ‘অবৈধ ও অনৈতিক’ বলছেন অভিজ্ঞরাও।

জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার সরকারি দফতরে দলের পদাধিকারীর পরিদর্শনকে অবৈধ ও অনৈতিক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ” দলের কোনও পদাধিকারী কি করে ধমকাতে চমকাতে পারেন সরকারি আধিকারিককে? এটা গা জোয়ারি ছাড়া কিছু নয়।” তিনি আরও বলেন, ” নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের দিয়ে দূর্নীতির খোঁজ নিতে পারে। এমনকি বিধায়কও ক্ষমতাবলে এই প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু পঞ্চায়েত আইনে বলা নেই কোনও দলের নেতা, আধিকারিককে ধমকিয়ে চমকিয়ে কোনও তথ্য চাইতে পারেন। এটা অবৈধ ও অনৈতিক।”

রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ” সরকারিভাবে এইরকম কোনও দূর্নীতির নির্দেশ এখনও হয়েছে কি না জানি না। তবে সরকারিভাবেই জেলা পরিষদ থেকে ভাগীরথী সমবায় যেখানে যেখানে তৃণমূলের আমলে দুর্নীতি হয়েছে সে সবের তদন্ত হবে।”

শাখারভ সরকারকে সরিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পেশায় শিক্ষক মলয়ের হাতে সংগঠনের ভার ন্যস্ত করেছিলেন অমিত চক্রবর্তীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর জমানাতেই রাজ্যে উঠেছে গেরুয়া ঝড়। তার প্রভাব পড়েছে সংখ্যালঘু অধ্যূষিত জেলা মুর্শিদাবাদেও। দল আটটি আসনে জয় পেয়েছে। তারমধ্যে বহরমপুর, কান্দি, খড়গ্রাম, বড়ঞা ছিল তাঁরই নেতৃত্বে। কিন্তু জয়ের আনন্দ ভোগ করার থেকেও বিজেপি’র অন্দরে তাঁর এই কার্যকলাপ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। এর দায় ব্যক্তি মলয়ের ঘাড়েই চাপাচ্ছেন তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরাই বলছেন ” অপ্রত্যাশিত জয়ই কি তবে কাল হল মলয়ের?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights