
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ঘাসফুলের ভাঙা সংসারের ফাঁক গলে ঘরে ফিরে জঙ্গীপুরের হাসানুজ্জামান বাপ্পা দাবি করলেন, ” উফ! স্বস্তি পেলাম। ” অথচ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর হাত ছেড়ে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন কংগ্রেসে অস্বস্তিতে ছিলেন বলেই। তিনমাসও গেল না। ফিরলেন সেই কংগ্রেসেই। শনিবার বিধানভবনে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। এদিন তাঁর ঘরে ফেরাকে কটাক্ষ করে জেলা কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ” মধুচন্দ্রিমা শেষ। রাজ্যে তৃণমূলের পালাও শেষ। শতরঞ্চি গোটানোর কেউ থাকবে না জেনেই উনি কংগ্রেসে ফিরলেন।”
তিনি আশা করলেও চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করেনি। তাঁর প্রত্যাশিত সাগরদিঘি আসনে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেই ক্ষোভেই বাপ্পা দল ছেড়ে ঘাসফুলে নাম লিখিয়েছিলেন। যদিও বাপ্পার সঙ্গে জেলা কংগ্রেসের দূরত্ব নতুন নয়। শেষ লোকসভা নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন জঙ্গিপুর থেকে। কিন্তু সেবারও সুতো ছেঁড়েনি। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা আব্দুস সাত্তারের উত্তরসূরি বকুলকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিলেন অধীর চৌধুরী। তারপর থেকেই অধীরের সঙ্গে বাপ্পার সম্পর্কে ফাটল ধরে। দল ছাড়ার আগে জেলায় বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস শিবিরের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, শুধু বাপ্পাই নয়, জেলা কংগ্রেসে অধীরের বিরোধীতা করে দূরত্ব তৈরি হয় বেশ কিছু কংগ্রেস নেতার। সেই বিরোধীতা চরমে পৌঁছায় চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের সময়। তারপরেই তাঁর দলবদলের সিদ্ধান্ত বলে জানা যায়।
এদিন কংগ্রেসে ফিরে বাপ্পা সমাজমাধ্যমে লেখেন, ” হাতে পতাকা ধরে কংগ্রেস প্রমাণ করা যে বিবেকযন্ত্রণা সেটা অবর্ণনীয়।” ১৮ এপ্রিল যেদিন তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন সেই দিনটিকে তাঁর তিরিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কালো দিন বলেও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে স্বস্তি মিলছিল না তাঁর। ঘরে ফেরার গান ধরেছিলেন আগেই, এদিন সরকারিভাবে তাঁর ঘর ওয়াপসি হল বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও ফিরব বললেই ফেরা যায় না কি! ধন্দে ছিলেন তিনিও। নাবিক হারা ঘাসফুলের নেতাদের দিকে শূন্য ভেলা ভাসিয়ে দিয়েছিল কংগ্রেস। তাকেই ঘরে ফেরার ডাক ধরে বাপ্পা ফিরলেন বলে দাবি রাজনীতির কারবারিদের। তবে কেন তিনি কংগ্রেস ছেড়েছিলেন সে কথাও তিনি একদিন জানাবেন বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন এই তৃণমূলী।