‘দুষ্কৃতি’ পাপাইয়ের গ্রেফতারির অপেক্ষায় এলাকাবাসী

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বহরমপুরের তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষ পুলিশের চোখে ফেরার। শনিবার তার ‘বাগান বাড়ি’ তে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিল বহরমপুর পুরসভা। দাবি, ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই জায়গায় একসময় শিশুদের খেলার মাঠ ছিল। সেই মাঠ স্রেফ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জবর দখল করে নেয় তৃণমূলের যুব সংগঠনের শহর সভাপতি ‘মস্তান’ পাপাই। তারপর সেখানে তৈরি হয়েছিল তার এই প্রমোদ ভিলা। রাতভোর নাকি চলতো পার্টি, হুল্লোড়। কিন্তু মুখে রা কাড়বার জো ছিল না পাড়া প্রতিবেশীর।

ওইদিনেই মণীন্দ্রনগর পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুষমা ঘোষ। সুষমা, পাপাইয়ের স্ত্রী। তিনি বহরমপুর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয়ে গিয়ে ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তাঁর জন্মদিনও জবর দখল করে গড়ে ওঠা এই বাগান বাড়িতেই পালিত হয়েছিল বিপুল আয়োজনে।

তবে এই দম্পত্তির ত্রাসে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সৈদাবাদ, কুঞ্জঘাটা, মণীন্দ্রনগর এলাকার মানুষজন। বাংলায় সরকারের পরিবর্তন হওয়ায় ভয় ভেঙে মুখ খোলার ভরসা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। তাঁরাই ফিরে প্রশ্ন করছেন ” কে এই পাপাই ঘোষ ?” জানা গেল তৃণমূলের শাসনকালের আগে তিনি খাগড়া সোনাপট্টী এলাকার একটি দোকানে সোনার কাজ করতেন। ২০১৬ সাল থেকে তাঁর উত্থান। পরে ২০২২ সালে তৃণমূল বহরমপুর পুরসভার অলিন্দে প্রবেশ করলে বহরমপুরের উত্তরে শুরু হয় পাপাইয়ের ত্রাসের রাজত্ব।

বহরমপুর পুরসভায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শহরের এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত তার ‘দাদাগিরি’ চলত। মাথায় হাত ছিল বহরমপুর পুরসভার সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের, দাবি পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিরু হালদারের। তিনি বলেন, ” বহরমপুর শহর অধীর চৌধুরীর স্বপ্নের শহর। পরিকল্পনা করে সেই শহর তৈরি হয়েছিল। তাকে তছনছ করেছে তৃণমূল পাপাইদের মতো দুষ্কৃতিদের কাজে লাগিয়ে। তার নাটের গুরু ওই নাড়ু।”

কীভাবে পাপাই এই কাজ চালাত ? আর পুরপ্রধানই বা কীভাবে জড়িত? তিনি দাবি করছেন, ” কী বলবো বলুন তো? কোন দিক থেকে শুরু করবো। এই জায়গাটাই ধরুন না। যে জায়গাটা পৌরসভা গুঁড়িয়ে দিল সেই জায়গার তো একটা মালিক আছে? তাহলে তা পাপাই ঘোষের নামে হল কি করে?” ওই জমির একটি নকল দলিল তৈরি করে পাপাই জমি জবর দখল করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, ” ওই তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামীও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। আর ওই বেআইনি কাজের অন্যতম শাগরেদ চেয়ারম্যান নাড়ুগোপালের কাছ থেকে মিলেও গিয়েছিল জবর দখলের অনুমতি। এইভাবে পাপের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তৃণমূলের এই নেতারা। যাদের এখন ওয়াশিং মেশিনে ঢোকাচ্ছে বিজেপি।” জেলা প্রশাসনের তৎকালীন একাংশ আধিকারিক ও পুলিশের একাংশকেও এরজন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন হিরু।

শুধু পুরসভা এলাকাতেই নয় পাপাইয়ের ‘মস্তানি’ ছড়িয়ে গিয়েছিল বহরমপুর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাতেও। সেই পঞ্চায়েতের বাসিন্দা না হয়েও প্রধান পদ এতদিন আঁকড়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। তৃণমূলের ভাঙা ঘরে কান পাতলে এখনও অতৃপ্ত এক কর্মীর কন্ঠ শোনা যায়। যিনি চেয়েছিলেন মণীন্দ্রনগর পঞ্চায়েতে প্রধান পদে নির্বাচনে জিততে। কিন্তু তাঁকে সরিয়ে তৎকালীন তৃণমূলের নেতা নাড়ুগোপালের ইচ্ছেতেই এই অসাংবিধানিক কাজ করতে বাধ্য হয় তৃণমূল। ভোটে দাঁড়ায় সুষমা। পরে জিতে এলাকা দখল করে পাপাই। দাবি ওই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীর।

ওই পঞ্চায়েত এলাকাতেও পাপাইয়ের বিরুদ্ধে উন্নয়নের নামে টাকা তোলার অভিযোগ করছেন তাঁরই প্রাক্তন সহকর্মীরা। সরকারের কাজের ঠিকাদারি সে ও তার কয়েকজন বন্ধুই বরাত পাবে অলৌকিক হাতের ইশারায়। এক বাসিন্দার দাবি, ” আমার এই বসত বাড়িটিও দখল করে নেওয়ার ভয়ে রাস্তা দিয়ে গেলে জানলা দরজা বন্ধ করে রাখতাম। এলাকার মানুষকে মানুষ বলে মনে করতো না। জমির মিউটেশন করাতে গেলে প্রতি স্কোয়ার ফিটে দাম ধরতো। কোথাও কারও জরিমানা হলে আসল আর নকলের রেট ছিল আলাদা। পুলিশও তা জানতো। ” বেআইনি অস্ত্র রাখার অপরাধে সেই বহরমপুর থানার পুলিশই ওৎ পেতে বসে আছে তাকে ধরবে বলে। এলাকাবাসী বলছেন, ” অন্যায়ের বিচার পেলে আমরা মরেও শান্তি পাবো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights