
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সেগো কাই কারাতে দো অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া-র উদ্যোগে কারাতে-র পরীক্ষা হয়ে গেল শনিবার। বহরমপুরে বিবেকানন্দ ব্যায়াম সমিতি আর বহরমপুর এ্যাকাডেমি অফ মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়াও কান্দি ফাইভ স্টার কারাতে ক্লাবের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ভারতের অন্যতম এই মার্শাল আর্ট সংস্থা জাপান সেগো-কাই কারাতে দো এবং কারাতে অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া দ্বারা অনুমোদিত। বহরমপুরে বিবেকানন্দ ব্যায়াম সমিতি এই ছাতার তলায় আছে। এখানে নানা বয়সীদের কারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেনসেই সাধুদাস চক্রবর্তী সেই প্রশিক্ষণ দেন মুর্শিদাবাদে। শনিবার সকালে বহরমপুরের ৪৩ জন শিক্ষার্থী এদিন কারাতের ব্ল্যাক বেল্ট তকমা পেতে লিখিত ও প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার পর কারাতে শেখার আসল অধ্যায় শুরু হয় বলে দাবি করেন প্রশিক্ষকরা। একে জাপানি পরিভাষায় ‘Dan’ বা স্তর বলা হয়।
এদিন পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখা যায়, আট বছর বয়সী সারা খানম, দশ বছর বয়সী অরিঞ্জয় ঘোষের পাশাপাশি বছর ৪৫এর শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসও এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। সারা তৃতীয় শ্রেণির, আর অরিঞ্জয় চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া। এরা সকলেই এক বাক্যে আত্মরক্ষার জন্যই যে কারাতে শিখতে এসেছেন তা স্বীকার করেন। দিল্লি থেকে তাঁদের পরীক্ষা নিতে এসেছিলেন সেনসেই বাচ্চু সাউ। সাধুদাস বলেন, ” বছরে দুটি করে এই পরীক্ষা হয়। কারাতের এটি একটি মাস্টার ডিগ্রি-র প্রথম ধাপের পরীক্ষা বলতে পারেন।”
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন শহরতলিতেও কারাতে শেখার আগ্রহ বেড়েছে আট থেকে আশি সকলের। কিন্তু সকলেই যে সঠিক জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নেন না বলে ঠকতে হয় বলে এদিন দাবি করেন ওই প্রশিক্ষক। শর্মিষ্ঠা বলেন, ” সকলেরই এই মার্শাল আর্ট শেখা উচিত।” তবে কারাতে শুধু আত্মরক্ষার কৌশল শেখায় না; এটি একজন মানুষের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারাতের মূল ভিত্তি তিনটি ‘ডি’— ডিসিপ্লিন (শৃঙ্খলা), ডিভোশন (নিষ্ঠা) এবং ডিটারমিনেশন (দৃঢ় সংকল্প)। যখন একজন মানুষের মধ্যে এই তিনটি গুণ বিকশিত হয়, তখন সে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং হতাশা বা নেতিবাচক চিন্তা তাকে সহজে গ্রাস করতে পারে না। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যপূরণে অটল সংকল্প মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
চাকরির ক্ষেত্রেও ক্যারাটে শিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সবচেয়ে বড় কথা, ক্যারাটে শেখার কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই; ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু করা যায় এবং যে কোনও বয়সেই এর চর্চা করে শারীরিক ও মানসিক উন্নতি সম্ভব।