হুমায়ুনকে বিধানসভায় হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ফের বেলাগাম হুমায়ুন কবীর। রেজিনগরে রাজনৈতিক সভায় ফের আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক। এবার তাঁকে সবক শেখানোর কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নওদা বিধানসভার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক এবং সমাজ এবং রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। আর আজ বিধানসভায় সে কথা তুলেছেন বিধায়ক নাগরাকাটা পুনা ভাংরা, বিধায়ক কালিয়াগঞ্জ উৎপল মহারাজ এবং অন্যান্য একাধিক বিজেপি বিধায়ক।

রেজিনগরের কাশীপুরে শুক্রবার দলীয় সভায় হুমায়ুন বিজেপি নেত্রী অনামিকা ঘোষকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “ এই যে অনামিকা ঘোষ সে ভোটে হেরে মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে। তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে আপনি ভোটে জিতেছেন আপনার দল জিতেছে খুব ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না সেদিন এমন সাটাভাঙ্গা মার শুরু করবে যে আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। কেস এরকম কেস আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০ এর বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব আর সাটাভাঙ্গা মার দেব আর জেলে যাব। কদিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন? কত খাওয়াতে পারবেন দেখব। লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায় না, মাথাটা যেদিন গরম হয়ে যায় সেদিন আমি এসপি বুঝব না, চিফ মিনিস্টারে বুঝব না। আর কে কোথায় থাকল আর কে কোথায় থাকল না ওসব বুঝব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়াব।”

তাছাড়াও চলতি মাসে শক্তিপুরে ওই বিধায়ক বলেছেন, “ ভোটের আগের দিন আমার নিজের ভাইপোকে অ্যারেস্ট করেছে এই ওসি। —এই বাচ্চাকে এমন শিক্ষা দেব এর বাবা ১৪ গোষ্ঠীর নাম ভুলিয়ে দেব। এ লালগোলাতে ৫০০ মুসলমানের লাইফ শেষ করে দিয়ে এসেছে। সত্যভাবে বলব এই ওসিকে এখান থেকে সরানো শুধু না একেবারেই অকেজো পোস্টিং দিতে হবে। যদি না দেয় ১০০০০ লোক নিয়ে থানা ঘিরে একে কলার ধরে থানা থেকে বার করব, পারলে আমাকে রুখে নেবেন।”
আর এই দুটি বক্তব্যই আপত্তিকর বলে দাবি করে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে আমি পরিষ্কার বলছি, মমতা ব্যানার্জী মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। আমি আপনাকে বলে গেলাম আমরা দুটো এফআইআর (FIR) স্টার্ট করেছি।”

তবে এইকথা বললেণও মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাবি করেছেন হুমায়ুন রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে জিততে মরিয়া হয়ে এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, “ আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে, আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন। ৭২% মুসলিম আছে, মুসলিম ভোটকে কনসলিডেট করার জন্য আপনি এই খেলাটা খেলছেন।” এরপরেই হুমকির সুরে বলেন, “আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না, দেব না, দেব না।”

তৃণমূল জমানায় এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করে পার পেয়ে গেলেও এবার তিনি ছাড় পাবেন না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি মুর্শিদাবাদে আসবেন জানিয়ে বলেন, “ আমি এক সপ্তাহ পরে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছি। আমি প্রমাণ করে দেব ভারতবর্ষে সংবিধান ও আইন শেষ কথা বলে; কোনো বাতেলাবাদ শেষ কথা বলে না। আপনাকে সংযত হওয়ার, সতর্ক হওয়ার, এই ধরনের কথা প্রত্যাহার করার এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কথা বলার আগে ২৫ বার ভাবার হুশিয়ারি দিয়ে আমি সভাকে আশ্বস্ত করছি।”

মুখ্যমন্ত্রী সে কথা বললেও অনেকের ধারণা এবার ও হুমায়ুন এবারও ধর্মীয় বিভাজনের তাস খেলে পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু শুভেন্দু বলেন, “ আপনারা ভাবছেন কেস হয়েছে, অ্যাকশন কবে হবে? যারা ওকে ডেকেছিল ওই সভাতে, তাদেরকে আগে তুলব, তারপরে আপনার কাছে যাব। যা করার করব, আমি আশ্বস্ত করছি আপনাদের। আপনি ধরে রাখুন এটা ওর শেষ বক্তব্য, ধরে রাখতে পারেন। এই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, গুন্ডাদের শাসন সমাপ্ত করবে। নিশ্চিন্ত থাকুন।” হুমায়ুন অবশ্য বলেন, ” স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব যাঁরা তাঁকে আক্রমণ করেছেন তাঁদের উদ্দেশে ওইসব কথা বলেছেন। শুভেন্দু বা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি কিছু বলেননি।” তাঁকে জেলে ঢোকালেও সেই এক কথাই তিনি বলবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানাবেন বললেও তাঁর চেনা মেজাজ অবশ্য ছিল না সাংবাদিক সম্মেলনে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন সেই শক্তিপুরে আমরা সত্তর ওরা তিরিশ বলে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেই নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল জনমত। তাঁর ওই বিভেদমূলক মন্তব্যের পরেও সরকার তো দূর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুঁ শব্দ করেননি। সেই জল বেশিদূর গড়ায়ও নি। কিন্তু হুমায়ুনও তৃণমূলে থাকেননি। এবার অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর গলায় হুঁশিয়ারি শোনা যাওয়াকেই পরিবর্তন বলছেন মুর্শিদাবাদবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights