দুর্ঘটনাগ্রস্থ গোবিন্দপুর রেলগেটে হবে আন্ডারপাস, রাজ্যকে প্রস্তাব রেলের, সায় গ্রামবাসিদেরও

Social Share
তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ গত শুক্রবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ খাগড়াঘাট ও কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুর রেলগেটে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধাক্কা মারে পড়ুয়া ভর্তি একটি পুলকারকে। ভয়াবহ সেই রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে চারজনই শিশু। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মুর্শিদাবাদে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনার দিন রেলের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের আড়াই লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সেই ক্ষতিপূরণের চেক পরিবারের হাতে তুলে দিতে আসছেন তিনি, দাবি সূত্রের।

তবে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল, আহত, নিহত প্রত্যেকের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই পরিকল্পনা বদলে গোবিন্দপুর নিম্নবুনিয়াদি স্কুলের মাঠে প্যান্ডেল তৈরি করে সভা করার প্রস্তাবও নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো এলাকা পরিদর্শন করেন জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। কিন্তু তাও বদলে যায়। ঠিক হয় গোবিন্দুপুরেই নিহতদের বাড়ির কাছে এক রেশন দোকানের সামনের ছোট্ট একফালি মাঠেই শোকগ্রস্থ পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃষ্টিতে ওই মাঠ কাদায় ভরে থাকায়, সেখানে মাটি, ইঁটকুচি ফেলে সভাস্থল তৈরি করা হয়েছে রাত জেগে। অস্থায়ী মঞ্চও তৈরি হবে। রয়েছেন পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের লোকজনও। আবহাওয়া ঠিক থাকলে সকাল এগারোটায় বহরমপুরে হেলিকপ্টারে নেমে মুখ্যমন্ত্রী গোবিন্দপুরে যাবেন। মৃত ও আহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। প্রত্যেক পরিবারের তিনজনকে সদস্যকে সেখানে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়ে এসেছেন প্রশাসনের লোকজন।

সভাশেষে দুর্ঘটনাস্থলেও যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। রেল আধিকারিকরাও সেখানে হাজির থাকবেন বলে দাবি সূত্রের। তদন্তের গতিপ্রকৃতির খোঁজ খবরও নেবেন। রেল দুর্ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সাসপেন্ড করা হয় সুপারভাইজার কৌশিক মালকে। আদালতের নির্দেশে অনুপ এখন পুলিশ হেফাজতে। উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল। অনুপের গাফিলতিতেই এতগুলি প্রাণ অকালে ঝরে গেল, না কি আর অন্যকারও অবহেলা ছিল তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি। তিনি বলেন, ” একটা ঘটনার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে থাকে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তবে ভবিষ্যতে এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তারজন্য দুর্ঘটনাগ্রস্থ ২৪এ/২ নম্বর রেলগেট তুলে দিয়ে ওখানে সাবওয়ে তৈরির প্রস্তাব রাজ্যকে পাঠনো হচ্ছে বলে জানান ওই আধিকারিক। তিনি বলেন, ” কর্ণসুবর্ণ সেকশনে তিনটি রেলগেট তুলে দিয়ে সাবওয়ে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। বছর দুয়েক আগেই প্রস্তাবিত দুটি সাবওয়ের কাজ হয়ে যেত। সেই কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয় রেলের ঠিকাদারদের। এবার গোবিন্দপুরের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এন ওসি পেয়ে গেলে আশাকরি তিনটি সাবওয়েই তৈরি হয়ে যাবে।” সুযোগ পেলে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে কাল মুখ্যমন্ত্রীকে গোবিন্দপুর লেভেলক্রশিং তুলে দিয়ে সাবওয়ে তৈরির প্রস্তাব দেবেন বলে জানান রাঙামাটি চাঁদপাড়া গ্রামপঞ্চায়েতের বিজেপি নেতা প্রভাত ঘোষ।

মুখ্যমন্ত্রীর আজকের মুর্শিদাবাদ সফর ঘিরে নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে বহরমপুর থেকে গোবিন্দপুর এলাকা। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে থাকছেন এসপি পদমর্যাদার আরও এক পুলিশ আধিকারিক। চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। পনের জন ইন্সপেক্টর। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে থাকছেন আধা সামরিকবাহিনীর জওয়ানরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights