
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ কাঁটাতার ঘেরা মুর্শিদাবাদের একাংশ মানুষের মাদক পাচার বহু পুরনো পেশা। সেই কারবার করতে গিয়ে বহুজন পুলিশের হাতে ধরাও পরে। আর যাঁরা পুলিশের চোখের আড়ালে থেকে যায়, তাদের সম্পত্তির চুড়ো পাহাড়কেও লজ্জা দেয়। তেমনই একজন আসরফ আলী। লালগোলার বাসিন্দা আসরফ, পুলিশের নজর এড়িয়ে দিব্যি চালাত মাদক পাচারের কারবার। বাড়িতে তৈরি করেছিল কারখানাও। তাকে যোগ্য সহযোগিতা করতো স্ত্রী মার্জিনা বিবি। আর সেই কারবারে হাত পাকিয়ে বছর চল্লিশের আসরফ হয়েছিলেন কয়েক কোটি টাকার মালিক।
লালগোলার যে বাড়িতে বসে সে এই কারখানা চালাত তা নিরাপদ না হওয়ায় সেখান থেকে সংসার গুটিয়ে আসরফ চলে আসে নবগ্রামে। ২০১৯ সালে নবগ্রাম থানার মথুরাপুরে ফাঁকা মাঠের মধ্যে বাড়ি তৈরি করে সেখানেই শুরু করে পুরনো কারবার। উঁচু পাচিল ঘেরা সেই বাড়িতে আফিম ফুলের রস থেকে পাওয়া মরফিন থেকে তৈরি হতো হেরোইন। আর সেই বিপজ্জনক হেরোইন মোটা টাকায় পাচার হয়ে যেত আসিফের বাড়ি থেকে লালগোলা শুধু নয়, এমনকি ভিন রাজ্যেও। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২০২২ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারী আসরফের বাড়িতে হানা দেয়। তাঁদের হাতে সস্ত্রীক ধরা পড়ে আসরফ। উদ্ধার হয় নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা সহ হেরোইন তৈরির কাঁচামাল। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার বলেন, ” গ্রেফতার হওয়ার সময় আসরফের আর্থিক সম্পত্তি ছিল ৪০ কোটি টাকা।”
আসরফদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের একজন লালগোলার বাসিন্দা। ৫৬ বছর বয়সী ধৃত আতাবুর রহমানের বাড়ি লালগোলার মকিমনগরে। আর ৩৭ বছর বয়সী রিজায়ুল আলীর বাড়ি বলরামপুর পাঠানপাড়ায়। তারাও আসরাফের মাদক কারবারের অন্যতম সঙ্গী। চার বছর টানা মামলা চলার পর বুধবার মুর্শিদাবাদের এনডিপিএস আদালত তাঁদের দোষী সব্যস্ত করে। আজ বৃহস্পতিবার তার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক। আইনজীবীদের দাবি, এনডিপিএস কেসে ধরা পড়লে আর তা প্রমাণিত হলে দশ বছরের কারাদন্ড সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও হতে পারে।