দইয়ের জন্য ভাগীরথীতে বিশেষ প্ল্যান্টের উদ্যোগ নিচ্ছেন জেলাশাসক

Social Share
সমিতির উৎপাদিত পণ্য হাতে নিয়ে দেখছেন জেলাশাসক

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায় সমিতির দুধের পাশাপাশি দইয়ের চাহিদাও বেশি। কিন্তু সেই দই চাহিদা মতো জোগান দিতে পারে না এই দুধ উৎপাদনকারী সংস্থা। সেই চাহিদা মেটাতে সমিতির কর্মকর্তারা উদ্যোগী হয়েছেন নতুন একতি কারখানা তৈরির। বুধবার মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া ওই সমিতির দুধ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিরক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার)। সেখানেই তাঁদের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সমিতির বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিজয় অধিকারী। তিনি জানান, ” এখন ভাগীরথীতে ৫ থেকে ৭ হাজার দই তৈরি হয়। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি। তাই আমরা একটি ২০ হাজার কেজি দই উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্ল্যান্টের অনুমোদন চেয়েছি।” জেলাশাসকও বলেন, ” বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায় সমিতির উৎপাদিত ‘দুধ’এর সুনাম একসময় জেলা থেকে রাজ্যে ছড়িয়েছিল। শুধু দুধ নয় এই সংস্থার উৎপাদিত ঘি, পনির, দই, লস্যির চাহিদাও ছিল বেশি। বাম আমলে এই সমবায় সমিতির ভার ছিল কংগ্রেসের হাতে। একে ঘিরে তৈরি হয়েছিল কত নতুন নতুন সমবায়। সেই সময় দৈনিক প্রায় দু লক্ষ দুধ উৎপাদন হতো এখানে। চাষিরা পুজোয় বোনাস পেতো। সেই সব সোনার দিন গিয়েছে বলে ক্ষোভ একাংশ দুধ চাষীর।

বাজারে ভাগীরথীর পণ্য চাইলে ধরিয়ে দেওয়া হয় অন্য কোম্পানির দুধ। ক্রেতা ভাগীরথীর উৎপাদিত পণ্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে সেই সব কিনে আনেন। ফলে দিনের দিন ক্রেতার চাহিদা মেটাতে না পেরে শুকিয়ে যাচ্ছে ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায়। সংস্থার বর্তমান কার্যকর্তাদের বিরুদ্ধে ছদ্ম চাহিদা তৈরি করার অভিযোগ বহুদিনের। যদিও ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, ” চলতি বছর এই সমবায় ৮.৯৭ কোটি টাকা লাভ করেছে। চাষীদের বোনাসও দেওয়া হয়েছে।”

সম্প্রতি এই সংস্থা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। বাজারে টিকে থাকতে আগামীদিনে ফের বাড়তে পারে দাম। এই দুধ বর্তমানে ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ছাউনিতে যায়, উত্তরবঙ্গেও এই দুধের চাহিদা আছে। তবে কলকাতায় চাহিদা থাকলেও বেশ কয়েকবছর ধরে সেখানে দুধ পাঠানো বন্ধ ছিল। ফের সেখানে দুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ভাগীরথীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী জেলাশাসক বলেন, ” আমরা সব দিকটাই ক্ষতিয়ে দেখছি। কীভাবে এই সংস্থার উন্নতি করা যায় সেই সব নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে।” এই সমবায়ের নির্বাচন হয়নি বহুদিন। বর্তমানে জেলাশাসক এই সমিতির চেয়ারম্যান। শাসকদল তৃণমূলও চাইছে নির্বাচন।

অল ইন্ডিয়া এগ্রিকালচার কমিটির সদস্য সাংসদ আবু তাহের খানও স্বীকার করেন মুর্শিদাবাদের গর্ব এই সমবায় বহু আন্দোলনের সাক্ষী। সেই সমিতির হাল ফেরাতে তিনি নিজেও উদ্যোগী হবেন। তিনি বলেন, ” ভারত সরকারের কোনও অনুদান প্রয়োজন হয় এবং কীভাবে সেটা করা যায় তা নিয়ে জেলাশাসক ও অন্য কার্যকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। কীভাবে এটাকে উন্নত করা যায়। যারা দুগ্ধ চাষী তাদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা যায় কি না তা নিয়েও আলোচনায় বসবো। এই সংস্থাকে আমরা ব্র্যাণ্ড তৈরির স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন সফল করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights