বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মনোনয়ন জমা দেওয়ার র্যাট রেসে তৃণমূল বহরমপুরে পেছনে ফেলল বিজেপিকে। যদিও শুরুটা ভালই হয়েছিল বিজেপি’র। বেশ জাঁকজমক করে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলেন বহরমপুরে বিজেপি’র চিকিৎসক প্রার্থী নির্মল কুমার সাহা। পড়েছিলেন নতুন পাঞ্জাবী। তাতে লেখা ছিল “হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় বিবেকানন্দ আর মস্তিষ্কে নর্মান বেথুন। তিনিই চিকিৎসক।”
ঢাকের বাদ্যি, সাঁওতালি নাচ মুহুর্মুহু ফোন ক্যামেরার ঝলকানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের নজর ছিল বিজেপির চিকিৎসক প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথে। কিন্তু টেক্সটাইল মোড়ের কাছে যেখানে ফিরতি পথে পথসভা করবার কথা ছিল সেই মোড়েই পথ কাটল তৃণমূল। বিজেপি’র পথ আটকাল পুলিশ। যুযুধান দুই শিবিরের একমুখি মনোনয়ন জমা দেওয়ার রাস্তায় বহরমপুর থানার টাউন ওসি সুদীপ চক্রবর্তী পরিস্কার জানিয়ে দিলেন, “১৫মিনিট ডিটেইন করুন। ওরা মনোনয়ন জমা দিয়ে আসুক তারপর আপনারা যাবেন।”
উত্তেজিত বিজেপি বহরমপুর জেলা সভাপতি শাখারভ সরকার, সম্পাদক মলয় মহাজন কিছুটা আওয়াজ তুললেও পুলিশের সম্মতিতেই শেষ পর্যন্ত ঘাড় নাড়লেন।
আরও পড়ুনঃ অধীরকে থানায় তলব, সময়ে হাজিরা দিলেন সাংসদও
ওদিকে তৃণমূল শিবিরও নজর রাখছিল পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়। শেষমেস দুই ডিএসপি ও বহরমপুর থানার আইসির তৎপরতায় তারকা প্রার্থী ইউসুফ পাঠানকে একপ্রকার ধাক্কা মারতে মারতে দলের নেতা-কর্মীরা নিয়ে গেলেন প্রশাসনিক ভবনে। ভিড়ে দিশেহারা ইউসুফ কোনপথে এলেন আর কোন পথে গেলেন রিভাইস না দিয়ে বলতে পারবেন কী? প্রশ্ন তুললেন ভিড়ে মেশা তৃণমূলের এক মহিলা কর্মী।

বিজেপিকে র্যাট রেসে হারিয়ে তৃণমূল কর্মীরা উৎসাহিত হলেন। প্রাথমিক পরাজয় মেনে নিয়ে বিজেপি’র শাখারভ বললেন, ” বিজেপি এখন বন্যার জল। যেদিকে দেখবেন সেদিকে শুধুই বিজেপি। তাই তৃণমূল যাই করুক না কেন বিজেপিকে আটকাতে পারবে না। এসব তো তুচ্ছ।” প্রার্থী নির্মল সাহা বললেন, ” কখনও কখনও দশ পা এগোতে এক পা পিছিয়ে আসতে হয়। তারমানে পরাজয় নয়। আর এসব করে মানুষের মন ছোঁয়া যায় না। ক্ষমতায় থাকলেই এইরকম হয়। এখন ওরা করছে আগামী দিন আমরা আগে মনোনয়ন জমা দেব।”

তবে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিজেপি ও তৃণমূলের পতাকায় একাকার হয়েছিল টেক্সটাইল কলেজের সামনে রাস্তা। যা দেখে বাম-কংগ্রেস শিবির বলে উঠল ” ওপরে কুস্তি ভেতরে দোস্তি”