
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ উত্তরবঙ্গ সফরে এসে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জন্য কেন্দ্রের অনেক প্রকল্প আটকে আছে। তারমধ্যে রেলের প্রকল্পও আছে। অথচ মোদিরই রেলমন্ত্রকের তুঘলকি সিদ্ধান্তে নাজেহাল নদিয়া মুর্শিদাবাদের বাসিন্দারা। আগামী সপ্তাহের বুধবার থেকে পূর্ব রেলের নয়া সিদ্ধান্তে বদলে যাচ্ছে রেলের সময় সূচি।
আর সেদিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে লালগোলা থেকে শিয়ালদহ যাতায়াত আরও ভোগান্তির হচ্ছে এমনটাই দাবি বহরমপুরের বাসিন্দা রাজেশ মন্ডলের। তিনি বলেন, ” রেলের নতুন সময় সূচিতে দেখা যাচ্ছে দুটি ভাগে ভাগ করে ট্রেন চালাবে পূর্ব রেল। কিন্তু ৩২ মিনিট দাঁড়াবে কৃষ্ণনগরে। তাহলে গতির যুগে দুশো কিলোমিটার রাস্তা যেতে আমাদের বেশি সময় লাগবে। এটা লজ্জার।”
শুধু কি তাই? এতটা পথ যাতায়াতে নতুন ট্রেনগুলিতে মিলবে না কোনও শৌচাগারের সুবিধা। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বহরমপুরের একজন যাত্রীকে দু’ঘন্টার কাছাকাছি অপেক্ষা করতে হবে।বহরমপুরের কথা বাদ দিলেও, বেথুয়াডহরি থেকে শিয়ালদহ পৌঁছতে হলে একজন যাত্রীকে ট্রেনে ওঠার আধঘন্টার মধ্যে আরও আধঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কৃষ্ণনগরে। বেথুয়াডহরির বাসিন্দা অসীম দাসের দাবি, ” আমার যদি নৈহাটি বা ব্যারাকপুরে গিয়ে প্রকৃতির ডাক পায় তাহলে তারজন্য কী ব্যবস্থা রেখেছে রেল?”
আর এইসব প্রশ্নে নিজেও বিদ্ধ হয়ে বহরমপুর স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ওরফে কাঞ্চন মৈত্র। শিয়ালদহ ডিভিসনের ডিআরএমকে লেখা লিখিত প্রতিবাদ পত্র তাঁকে জমা দিয়ে বেরিয়ে কাঞ্চন বলেন, ” কীভাবে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিলেন আমি জানিনা। কৃষ্ণনগরে যখন ট্রেন এসে থামবে তখন কি ট্রেনের সমস্ত যাত্রীরা নিজেদের জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে শৌচাগারে যাবেন? তা না হলে সেই সময় মালের দেখভাল কে করবে? কৃষ্ণনগর স্টেশনে কি একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে শৌচাগারের সুবিধা দেওয়ার মত পরিকাঠামো বর্তমানে রয়েছে?”

গত মার্চ মাসেই এই ব্যাপারে শিয়ালদহ ডিভিসনের ডিআরএমের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কাঞ্চন। তিনি বলেন, ” কয়েকদিন আগে সেই ব্যাপারে একটি উত্তর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান না করেই গত একদিন আগে আরো একটি নির্দেশিকা জারি করে লালগোলা শিয়ালদার প্যাসেঞ্জার ট্রেন গুলিকে দূরত্ব অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি আমাদের আগেও ছিল এখনো থাকবে, আবারো ডি আর এম সাহেবের কাছে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার জন্য জানালাম, প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরো বৃহত্তর ভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর ব্যবস্থা করব।”
এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অবশ্য রেলমন্ত্রক নয়, রেল আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ” আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ,রেলমন্ত্রী অশ্বীনী বৈষ্ণব রেল পরিষেবাকে উন্নততর করার জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছেন, সেখানে কীভাবে রেল বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমার জানা নেই।” রেল সূত্রে জানা যায়, শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় শৌচাগারের সুবিধা যুক্ত কোচগুলো আপাতত কাটোয়া -আজিমগঞ্জ শাখায় ব্যবহার করা হবে। তার বদলে শিয়ালদহ -লালগোলা শাখায় ইএমইউ ট্রেন চলবে।
পূর্ব রেলের শিয়ালদহ শাখার জন সংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র অবশ্য বলেন ” মানুষের দাবি মেনেই রেল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন দাবি উঠছিল অন্তত কৃষ্ণনগরে থামলে শৌচাগারের সুবিধা পাওয়া যাবে। এখন বলছেন সেটা হবে না।” কিন্তু একসঙ্গে এত যাত্রী কৃষ্ণনগর স্টেশনে সামলানো সম্ভব? একইসঙ্গে রেলের সূচি অনুযায়ী যদি কৃষ্ণনগরে ৩২ মিনিট ট্রেন দাঁড়ায় তাহলে শিয়ালদহ বা লালগোলা পৌঁছতে সময় আগের থেকে বেশি লাগবে? কৌশিক অবশ্য বলেন ” দ্রুতগতির ট্রেন চলায় সময় বেশি লাগবে না।”
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি দিয়ে রেলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীও। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ” প্রায় ২৫০ কিমি দীর্ঘ এই রুটে ট্রেনে টয়লেট না থাকা সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম অস্বস্তিকর ও অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করবে। এই সিদ্ধান্ত যাত্রী স্বার্থের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।”