
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের একজন চাকরি হারা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ওই শিক্ষকের নাম প্রবীণ কর্মকার। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জের হালদারপাড়ায়। ভগবানগোলার আমাইপাড়া উদ্বাস্তু বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে তিনি কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে এই স্কুলে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই প্যানেল বাতিল হওয়ায় তিনি চাকরিহারাদের দলে ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর দুটো কিডনিই বিকল হয়ে পড়ছিল। ডায়ালিসিসও চলত। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
ইংরেজি বিষয়ের নবম দশম শ্রেণির এই শিক্ষক প্রথম থেকেই চাকরি হারা শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দিন দশেক আগেও তিনি সক্রিয় ছিলেন সমাজ মাধ্যমে। তাঁর ফেসবুকের ওয়ালে তিনি কটাক্ষ করে লিখেছিলেন ” চাকরি ওনাদের জন্য যায় নি, ঠিকই তো।চাকরি তো আমাদের জন্য গিয়েছে। আমরা কেন চাকরির পরীক্ষা দিলাম? কেন চাকরি পেলাম? পরীক্ষা না দিলে,চাকরি না পেলে তো আমাদের চাকরি টা যেত না।আমাদেরই দোষ।”
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী প্রবীণের মৃত্যুর দায় রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়ে তিনি ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন। তিনি বলেন, “প্রবীণের মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। আমরা মনে করি পরোক্ষভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য আমরা দাবি করছি, দুর্নীতির প্রমাণ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীকে তার নিজ কাজে পুনর্বহালের জন্য যা যা করণীয় তা রাজ্য সরকারকে করতে হবে। নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে প্রবীণ কর্মকারের পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে।”