
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ অবশেষে জলঙ্গী নদী থেকে উদ্ধার হল নিঁখোজ পরিযায়ী শ্রমিক কামাল হোসেনের দেহ । রবিবার সকালে ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত জলঙ্গী নদীতে একটি মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। ধুবুলিয়া থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। নিঁখোজ কামালের পরিবার দেহটি শনাক্ত করলে পুলিশ দেহ ময়না তদন্তের জন্য শক্তিনগর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে দেহ ফিরবে নওদার গঙ্গাধারী, কামালের জন্মভিটেতে।
তবে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েই যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে কৃষ্ণনগর জিআরপি স্থানীয় ও জিআরপি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার শিয়ালদহ-লালগোলাগামী ফাস্ট প্যাসেন্জার ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন কামাল। কৃষ্ণনগর ও বাহাদুরপুর স্টেশনের মাঝখানে জলঙ্গী সেতুতে আচমকা পড়ে যান ওই পরিযায়ী। খবর পেয়ে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। জলঙ্গী নদীতে ডুবুরি নামিয়েও তল্লাশী চালানো হয়। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত দেহ উদ্ধার হয়নি। আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনশো মিটার দূরে কামালের মৃত দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানান কৃষ্ণনগর থানার ওসি প্রবীর দে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, হায়দ্রাবাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন কামাল। মাস খানেক আগে বাড়িও এসেছিলেন। ভিন রাজ্য থেকে শুক্রবার বাড়ি ফিরছিলেন শিয়ালদহ-লালগোলা ফাস্ট প্যাসেঞ্জারে ।কামালের সহকর্মী নওদার আর এক বাসিন্দা গঙ্গাধারীর রফিকুল ইসলামও ওই একই ট্রেনে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ” সেদিন ট্রেনে খুব ভিড় ছিল। আমরা দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।কৃষ্ণনগর স্টেশনে যাত্রী নামা ওঠার সময় দরজা থেকে নেমেছিল কামাল। আমি ভেতরে থাকায় নামতে হয়নি। কিন্তু ওই স্টেশনেও অনেক যাত্রী ওঠায় কামাল প্রায় ঝুলছিল।”
ট্রেনটি এরপর সেতুতে উঠলে ঝুলন্ত কামাল সেতুর গায়ে ধাক্কা খেয়ে জলঙ্গী নদীতে পড়ে যান বলে দাবি করেন রফিকুল। তিনি বলেন, ” আমরা শুনলাম একজন পড়ে গিয়েছে। তাকিয়ে দেখি কামাল ট্রেনের ভেতরে বা দরজায় কোথাও নেই। তখনই নিশ্চিত হয়ে যাই।” কামালের দেহ উদ্ধারের খবর শুনে ধুবুলিয়া পৌঁছান মুর্শিদাবাদের সাংসদ নওদার ভূমিপুত্র আবু তাহের খান। মর্মান্তিক মৃত্যু জানিয়ে তাহের জানান “ময়নাতদন্তের পর দেহ ফিরবে গঙ্গাধারীতে।” মৃত কামালের বৃদ্ধ বাবা মা ছাড়াও রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান।