উপনির্বাচনে জামানত জব্দ কংগ্রেসের, ঘুরিয়ে জোটের পক্ষে সওয়াল অধীরের

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ আরজিকর কান্ডের কোনও প্রভাবই পড়ল না তৃণমূলের ভোট বাক্সে। মাদারিহাট সহ রাজ্যের ছ’টি আসনেই ঘাস শিবিরের জয় জয়কার। ভরসার মনোজ টিগগাকে হারিয়ে পদ্ম শিবির এখন নেতাদের ত্রুটি ধরতে ব্যস্ত। একইভাবে মানুষ ফিরিয়েছে বাম, কংগ্রেস উভয়কেই।

একসময় যে মাদারিহাট ছিল আরএসপি’র জিম্মায়, সেখানে এবার আরএসপি প্রার্থী পদম ওরাঁ, কংগ্রেস প্রার্থী বিকাশ চম্পোরমারির জমানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাকি পাঁচটি আসনেও একলা লড়ে ১৬ শতাংশ ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে পারেননি বাম কিংবা কংগ্রেস কেউই। তালডাংরাতে বামফ্রন্ট পেয়েছে ১৯ হাজার ৪৩০টি ভোট। তাছাড়া এই উপনির্বাচনে বামেরা আইএসএফ ও সিপিআইএম (লিবারেশন) কে সঙ্গী করেছিল। হাড়োয়ায় আইএসএফ পেয়েছে ২৫ হাজার ৬৮৪টি ভোট আর নৈহাটিতে সিপিআইএম (লিবারেশন) পেয়েছে ৭ হাজার ৫৯৩ ভোট। সেখানে কংগ্রেস অবশ্য তলানিতেই ঠেকেছে।

স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে এ রাজ্যে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য কংগ্রেসের একলা চলো নীতি নিয়েও। যদিও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সদ্য শেষ হওয়া উপনির্বাচনে তাঁর দলের অবস্থান কী ছিল তা তিনি জানেন না বলেই শনিবার বহরমপুরে দলীয় কার্যালয়ে মন্তব্য করেছেন।

অথচ রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ২০১৬ সালে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা করে ব্যতিক্রমী সমীকরণ তৈরি করেছিল রাজ্যে। সেই সময় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন অধীর চৌধুরী। সেই সমঝোতা প্রথমবার মুখ থুবরে পড়লেও দুই দলের নেতারা ধীরে ধীরে নিচুতলার কর্মীদের বুঝিয়ে তাঁদের পরেরবার আরও সংঘবদ্ধভাবে নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছিলেন। ভোট ব্যাঙ্কের খুব একটা পরিবর্তন না হলেও তথ্য বলছে বামেদের তুলনায় কংগ্রেসের লাভ হয়েছিল বেশি।

শেষ লোকসভা নির্বাচনেও সেই নির্বাচনী সমঝোতা অটুট ছিল। আর তার দৌলতে রাজ্যে সিপিএম একটি আসন না পেলেও মালদহের একটি আসন জিতে রাজ্যে কংগ্রেস অন্তত নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছে। তারও আগে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি উপনির্বাচনেও বামেদের কাঁধে ভর দিয়ে ওই আসনটি শাসকদলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল কংগ্রেস।

কিন্তু ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন অধীর চৌধুরী। রাজ্যে সম্প্রতি সভাপতি বদল করেছে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে শুভঙ্কর সরকার ও তাঁর দল বামেদের সঙ্গে গত আট বছর ধরে চলা নির্বাচনী সমঝোতায় না গিয়ে একলা চলোর ডাক দিয়েছিলেন। তার ফল বেরিয়েছে আজ শনিবার। পাঁচটি কেন্দ্রেই কংগ্রেসের জমানা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ফলাফল নিয়ে সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বের সমালোচনা করেননি বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর।

তবে শনিবার ঘুরিয়ে সিলমোহর দিয়েছেন নির্বাচনী সমঝোতায়। এদিন অধীর বলেন, ” আমি ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে যে জোট করেছিলাম তাতে তৃণমূলের অবস্থা খারাপ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সেবার ভোটে আরএসএস, বিজেপি যদি তৃণমূলকে সমর্থন না করতো তাহলে ২০১৬ সালেই এই রাজ্য পরিবর্তন দেখতে পারত।” তারপরেও রাজ্যের শাসক দল এই রাজ্যে কংগ্রেসকে বারবার দূর্বল করার চেষ্টা করেছে। কংগ্রেস কর্মীদের ভয় দেখিয়ে দলে টেনেছে শাসকদল। তবুও তিনি জোটের পথ থেকে সরে আসেননি বলে অধীর এদিন দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ” সম্পূর্ণ নির্বাচনী ফলাফল হাতে না পেলে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” রাজ্যের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীদের জমানা বাজেয়াপ্ত হলেও আজ বিধানভবনে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর জয় উদযাপন করেন প্রদেশ সভাপতি সহ অন্য কংগ্রেস কর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights