
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইসলামপুর যাচ্ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। ঢোকার মুখে গোয়াসের কাছে একদল মহিলা তাঁকে লক্ষ্য করে.ঝাঁটা হাতে গো-ব্যাক শ্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে অধীর চৌধুরী আঁতাত করে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করছেন। আর তা যে তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল সময় গড়ালে তা পরিস্কার হয়েছে। পরে প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে রানিনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেনও সেই সুর তুলে বলেন ” তা যদি না করতো তাহলে উনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তারক্ষী পেতেন না।”
অধীর চৌধুরী কংগ্রেসের একজন নেতাই নন। তিনি দেশের প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী। পাঁচ বারের সাংসদ অধীর লোকসভায় কংগ্রেসের নেতাও ছিলেন। বর্তমানে তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির অন্যতম সদস্যও। দেশের শেষ লোকসভা নির্বাচনে তিনি হেরে গেলেও দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও। এহেন অধীরকে নিজের জেলায় অসম্মানিত হতে হয়েছে বলে তৃণমূলের নিন্দা করে বহরমপুরে সোমবার পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিল করল যুব কংগ্রেসের নেতারা।
যদিও এদিন একইসঙ্গে ভিন রাজ্যে শ্রমিক হেনস্থার প্রতিবাদও সেই কর্মসূচিতে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তা নিয়ে দলের কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও অনেকেই চেয়েছিলেন দুটি পৃথক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এক ব্যানারে জুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে লঘু করে ফেলেছেন যুবরা। যে কোনও একটি বিষয়কে হাতিয়ার করে পথে নামতে পারতেন তাঁরা। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে স্বয়ং অধীর চৌধুরী যেখানে নিজেই শহরে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন সেক্ষেত্রে যুবদের এদিনের প্রতিবাদ মিছিলের তেমন গুরুত্ব থাকে না। যুব কংগ্রেস জেলা সভাপতি তহিদূর রহমান বলেন, “ভিন রাজ্যে আজও বাঙালি শ্রমিকরা হেনস্থা হচ্ছেন। আমাদের নেতা অধীর চৌধুরী তাঁদের পাশে দাঁড়ানোয় তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে দাদাকে অপমান করছে। তারই প্রতিবাদে যুব কংগ্রেস প্রতিবাদ মিছিল করেছে।”
তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার অবশ্য এই মিছিলকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “মিছিলে সুমন ছাড়া আর কোনও যুব নেতা কে ছিলেন। সেই মনোজ চক্রবর্তী, ফিরোজা বেগমরা মিছিলের মুখ। সেই থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’। ওই জন্যই রাজনৈতিক কর্মসূচি আর দলীয় কর্মসূচি পৃথক করতে পারে না। এগুলো ভোটের আগে দলের পতাকাকে মানুষকে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়া কিছু নয়। মানুষ সব বোঝে কেউ বোকা নয়।” তবে চলতি মাসের শেষ দিন ৩১ তারিখ দলনেতাকে অসম্মানের প্রতিবাদে পথে নামবে কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেল।