
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল কংগ্রেসের। শমসেরগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ফিরদৌস শেখ, ভগবানগোলার আইএসএফ নেতা মুর্শিদুল আলম রবিবার ফের যোগ দিলেন কংগ্রেসে।
মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীর হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দুই নেতা কংগ্রেসের দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসেই ছিলেন বিড়ি ব্যবসায়ী ফিরদৌস। কিন্তু কংগ্রেস ছেড়ে ওই বছরই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। পদও পেয়েছিলেন রাতারাতি। ২০১৭ সালে তিনি ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন। পরে দলের সাধারণ সম্পাদকেরও পদ পেয়েছিলেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত শাসকদলে সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি সূত্রের। কিন্তু তারপরই মোহভঙ্গ হয় বলে জানান তিনি। কংগ্রেসে ফিরে বিড়ি মহল্লার পরিচিত মুখ ফিরদৌসও তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়া, স্বজন পোষণের অভিযোগ করেন।
তবে ফিরদৌসের দলত্যাগে তৃণমূলের কোনও ক্ষতিই হবে না বলে মনে করেন শমসেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ পঞ্চায়েত নির্বাচন তার পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে ফিরদৌস কংগ্রেসের হয়েই কাজ করেছেন। এতদিন রাতের অন্ধকারে কাজ করত। ২০২৩ সালেই কংগ্রেসের স্থানীয় নেতার হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা নিয়েছিলেন। এদিন লোককে দেখাতে দিনের বেলায় অধীর চৌধুরীর হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা নিলেন।”
ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর তা ফেরাতে পারে একমাত্র কংগ্রেসই, এই ধারণা থেকেই কংগ্রেসে ফিরলেন ভগবানগোলার মুর্শিদুল আলম। ২০২১ সালে তিনি কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দল ছেড়ে আইএসএফে নাম লেখান। ২০২৪ সালে ভগবানগোলা উপনির্বাচনে আইএসএফের প্রার্থীও হয়েছিলেন মুর্শিদুল। কংগ্রেসে ফিরে মুর্শিদুল বলেন,“ আগামীদিনে ভগবানগোলায় কংগ্রেস নিজের জায়গা ফিরে পাবে।”
তৃণমূল বিধায়ক ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর পর ২০২৪ সালে যে উপনির্বাচন হয় ভগবানগোলায় সেখানে কংগ্রেস আর বামফ্রন্টের মধ্যে জোট হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাওয়া তুলেও ওই আসনটি ঘাসফুলের কাছে হেরেই সেবার সন্তুষ্ট থাকতে হয় কংগ্রেসকে। আগামী নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস বঙ্গে একলা লড়াই করতে পারে বলেই বসন্ত বাতাসে গুঞ্জন। সেক্ষেত্রে ২০২৬-এ মুর্শিদুলকে কংগ্রেস বিধায়ক নির্বাচনের টিকিট দিতে পারে বলেও মনে করছে কংগ্রেসের একাংশ।
তবে মুর্শিদুল বা ফিরদৌস যখন কংগ্রেসে ফিরলেন, তখন ভাঁটার টান মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসে। বাংলার রাজনীতিতে এখন তৃণমূলের জোয়ার। ফলে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপক্ষে জনমত যাবে এমনটা ধরে নেওয়া অবাস্তবের। অধীর চৌধুরী মনে করেন, “ মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের মাটি। কিন্তু তৃণমূল এনআরসি’র জুজু দেখায় বলে সংখ্যালঘু অধ্যূষিত মানুষ ভড়কে গিয়ে তৃণমূলকে ভোট দেন বিজেপি’র হাত থেকে বাঁচতে।
সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য সরকার কিছুই করেনি। উল্টে এনআরসি জুজু দেখিয়ে তৃণমূল মুসলিমদের ভয় দেখায়।” তাই অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হলেও তৃণমূল ছাড়তে চান না মুর্শিদাবাদের মানুষ। তবু মুর্শিদুল বা ফিরদৌসের মতো মানুষ কংগ্রেসে ফিরলে দলটাকে বাঁচানো সম্ভব বলেও মনে করেন অধীর। এদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনের অস্থায়ী মঞ্চে অধীরও বলেন, “ আমরা এখানে দূর্বল হইনি। এখানকার মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ধার্মিক মেরুকরণের শিকার হয়েছেন। এই প্রতারণার আবরণ সরে গেলে কংগ্রেস স্বমহিমায় ফিরবে জেলায়।“